• ই-পেপার

তিব্বতে চীনের নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বিক্ষোভ, আটক ৩

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮, দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ চান জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮, দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া শনিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা ও ড্রোন দিয়ে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বর্তমানে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। নতুন সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। 

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় দুটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করে রাশিয়া। এতে পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বোমা একটি বাসস্টপে আঘাত হানে। প্রকাশিত ছবিতে একটি হলুদ বাসের এক পাশ সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্য ছবিতে কাছের একটি আবাসিক ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যায়। সুমি অঞ্চলের একটি সীমান্তবর্তী জেলায় বিস্ফোরক যন্ত্রে পা পড়ে আরো একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। অন্যদিকে, দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হন। পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরের একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলায় আরো সাতজন আহত হন।

রাতের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে, যাতে অস্ত্র সরবরাহের চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেনের কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিবর্তন আনা হবে এবং অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন মাত্রার সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। জেলেনস্কি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত এবং পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই চুক্তিও দ্রুত কার্যকর হওয়া দরকার। ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ এখন খুবই সীমিত। গত এক মাসে রাশিয়ার ছোড়া উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কিয়েভ মিত্র দেশগুলোর কাছে আরো বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ চেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির আহ্বানও জানিয়েছে।

শনিবার রাতেও রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবাহিনী বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ওডেসা, খারকিভ ও সুমিতে দিনের হামলার আগে রাতেই রাশিয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। বিমান বাহিনীর দাবি, তারা অন্তত দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কিয়েভে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসেই রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার দখল করা দক্ষিণাঞ্চলে তাদের সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি জানান, তার ইউনিট এক রাতেই আজভ সাগরে ২১টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আরো সাতটি পণ্যবাহী ও সহায়ক জাহাজেও হামলা হয়েছে। তার দাবি, চলতি সপ্তাহে মোট ৭৬টি জাহাজ ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, এসব ড্রোন অভিযানের উদ্দেশ্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি। এদিকে রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজভ সাগরের তাগানরগ উপসাগরে মিথানল বহনকারী একটি ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

চীনে আঘাত হানল ‘বাভি’, আগেই নিরাপদে ২০ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
চীনে আঘাত হানল ‘বাভি’, আগেই নিরাপদে ২০ লাখ মানুষ
ছবি: রয়টার্স

ঘূর্ণিঝড় ‘বাভি শনিবার গভীর রাতে পূর্ব চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে আঘাত হেনেছে। এর আগে এটি জাপানের দক্ষিণের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। ঝড়টি চীনের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় কর্তৃপক্ষ। শুধু তাইঝৌ এলাকাতেই প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

চীনের জাতীয় আবহাওয়াকেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টি তাইঝৌতে আঘাত হানে। তখন ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার। এই গতিকে সাফির-সিম্পসন স্কেলে প্রথম শ্রেণির হারিকেনের সমান ধরা হয়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে গিয়ে বাভির গতি কিছুটা কমছে এবং এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। তবে ঝড়টি এখনো বড় ধরনের হুমকি হয়ে রয়েছে। কারণ এর সঙ্গে থাকা বিশাল বৃষ্টির মেঘে বিপুলপরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে। বৃষ্টির এই বিস্তৃত এলাকা প্রায় পুরো ফ্রান্সের সমান বড়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাইঝৌ যে ঝেজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত, সেখানে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাশের ফুজিয়ান প্রদেশে এক লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেইজিং থেকেও এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাংহাই থেকে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝড়ের আগে ওয়েনঝৌ শহরের ৫০ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়াং শিংহুয়ান একটি ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজারে গিয়ে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাখেন। তিনি বলেন, কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অতীতেও তারা একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এবারও তা মোকাবেলা করতে পারবেন। হুয়াং জানান, তার পরিবার দুই থেকে তিন দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেছে। তার মতে, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাবার বা অন্য জিনিস মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

এদিকে এখন পর্যন্ত জাপান ও তাইওয়ানে ঘূর্ণিঝড় বাভির কারণে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঝড়ের প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিতে ফিলিপাইনে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেখানে অন্তত ১১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশির ভাগই প্রবল বাতাসে মোটরসাইকেল বা সাইকেল থেকে পড়ে গেছেন। এ ছাড়া গাছের ডাল বা উড়ে আসা বিভিন্ন বস্তু আঘাত করেও অনেকে আহত হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়টি তাইওয়ানের উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করায় পুরো দ্বীপজুড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও বাভি সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত হানেনি, তবুও কিছু এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া মানুষের বেশির ভাগই উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৯২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে রাজধানী তাইপের বাইরে অবস্থিত তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি দেশের সব ২৮২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। শনিবার তাইওয়ানের প্রায় সব শহর ও কাউন্টিতে ঘূর্ণিঝড়ের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সপ্তাহান্তে খোলা থাকার কথা ছিল এমন অনেক সরকারি সেবাকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। তবে রাজধানী তাইপেতে কিছু রেস্তোরাঁ ও পণ্যের দোকান খোলা ছিল। দেশটির উত্তর-দক্ষিণ উচ্চগতির রেল চলাচল চালু থাকলেও সীমিত সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা হয়েছে। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যেও তাইপের কিছু এলাকায় মানুষকে বাইরে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

৬৮ বছর বয়সী ইয়ে মাও-শিয়ুং সকালে নিজের কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব বেশি ভয়াবহ নয়, শুধু বাতাসের গতি কিছুটা বেশি। তবে তাইপের উপকণ্ঠের বেইতো এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। এতে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে এবং আশপাশের নদীগুলোর পানির স্তর বেড়ে যায়। অন্যদিকে ওয়েনঝৌ শহরের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা চেন চিউছিন টানা বৃষ্টির মধ্যেই তার বয়স্ক বাবা-মায়ের বাড়িতে রওনা হন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতিতে তাদের সাহায্য করতেই তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন।

তৃতীয় দফার ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
তৃতীয় দফার ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
রয়টার্স ছবি

ইরানে তৃতীয় দফার হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলা চালিয়েছে। এরপর তারা রবিবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে এই হামলা শুরু করে।

সেন্টকম জানায়, ইরানের হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে জাহাজটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি। জাহাজটির একজন নাবিক নিখোঁজ আছেন। এর জবাবে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের আসালুয়েহ ও বন্দর-ই-দায়ের এলাকার বাসিন্দারা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বুশেহর প্রদেশের বন্দর-ই-দায়েরে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর আসালুয়েহে বিস্ফোরণ হয়েছে চারটি।

এ ছাড়া বন্দরনগরী আব্বাস ও সিরিকে তিনটি করে বিস্ফোরণ হয়েছে। আর বন্দরনগরী চাবাহারে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।  সম্প্রচারমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, দক্ষিণের হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী জাসকে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সেখান অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি
ছবি: রয়টার্স

উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছে। দেশটি বলেছে, সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের পর পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক জোট আরো শক্তিশালী করছে এবং অস্ত্র কেনা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। এতে বিশ্বে সংঘাতের ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ন্যাটো নেতারা উত্তর কোরিয়ার বৈধ সার্বভৌম অধিকারকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ন্যাটো শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও আরো জোরদার করছে। উত্তর কোরিয়ার মতে, এর মাধ্যমে ন্যাটো সামরিক জোটভিত্তিক মুখোমুখি অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করছে।

গত মঙ্গলবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো বাড়ানোর জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, সিউল ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা আরো বাড়াতে চায়।

এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ন্যাটো মূলত যুদ্ধ ও সংঘাতের জন্য গড়ে ওঠা একটি সামরিক জোট। তাদের অভিযোগ, ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথা না ভেবে ন্যাটো শুধু নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছেড়ে দিতে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু পিয়ংইয়ং মনে করে, সেই প্রচেষ্টা এখন আর সফল হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে হলে আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের দিকে নজর দেওয়া উচিত। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার নিচে থেকে এই দুই দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ন্যাটোর যেসব সদস্য দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে, তাদের ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উত্তর কোরিয়া নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর এক দিন আগে শুক্রবার কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরো  আধুনিক ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানের পর দেশটি পারমাণবিক শক্তি সংখ্যাগত ও গুণগত- উভয় দিক থেকেই আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।