• ই-পেপার

তৃতীয় দফার ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন
রয়টার্স ছবি

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর আমিরি দিওয়ান।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে কাতার জ্বালানি খাত, অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।

একতরফা চুক্তির যুগ শেষ : গালিবাফ

অনলাইন ডেস্ক
একতরফা চুক্তির যুগ শেষ : গালিবাফ
ছবি : রয়টার্স

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, নইলে এর মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।’

গালিবাফের পোস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের একটি ছবি যুক্ত ছিল। 

0

ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এই অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়।

এদিকে ইরানে তৃতীয় দফার হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলা চালিয়েছে। এরপর তারা রবিবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে এই হামলা শুরু করে।

হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আসালুয়েহ ও বন্দর-ই-দায়ের এলাকার বাসিন্দারা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বুশেহর প্রদেশের বন্দর-ই-দায়েরে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর আসালুয়েহে বিস্ফোরণ হয়েছে চারটি।

এ ছাড়া বন্দরনগরী আব্বাস ও সিরিকে তিনটি করে বিস্ফোরণ হয়েছে। আর বন্দরনগরী চাবাহারে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।  সম্প্রচারমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, দক্ষিণের হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী জাসকে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সেখান অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কানাডার সালসা উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, হামলাকারী পলাতক

অনলাইন ডেস্ক
কানাডার সালসা উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, হামলাকারী পলাতক
সংগৃহীত ছবি

কানাডার টরন্টো শহরে একটি সালসা উৎসবে বন্দুক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসবে এই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের বর্তমান অবস্থা বা তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর অবস্থায় আছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পুলিশ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। এ কারণে এলাকাজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, উৎসব চলাকালীন হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সেন্ট ক্লেয়ার উৎসবে ঘটে যাওয়া এই ‘অর্থহীন সহিংসতায়’ তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, এই হামলায় দুজনের প্রাণ গেছে এবং আরো অনেকে আহত হয়েছেন।

টরন্টোর এই হামলার ঘটনা কানাডায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বন্দুক হামলার মধ্যে সর্বশেষ। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত মাসের শেষ দিকে মন্ট্রিয়লে একটি বন্দুক হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজন নিহত হন। হামলাকারী পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের ছোট খনিশহর টাম্বলার রিজের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আটজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর মা ও সৎ ভাইও ছিলেন। ওই ঘটনায় আরো ২৭ জন আহত হন। পরে হামলাকারী নিজেই নিজের জীবন শেষ করেন।
 

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮, দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ চান জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮, দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া শনিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা ও ড্রোন দিয়ে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বর্তমানে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। নতুন সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। 

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় দুটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করে রাশিয়া। এতে পাঁচজন নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বোমা একটি বাসস্টপে আঘাত হানে। প্রকাশিত ছবিতে একটি হলুদ বাসের এক পাশ সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্য ছবিতে কাছের একটি আবাসিক ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যায়। সুমি অঞ্চলের একটি সীমান্তবর্তী জেলায় বিস্ফোরক যন্ত্রে পা পড়ে আরো একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। অন্যদিকে, দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত এবং একজন আহত হন। পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরের একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলায় আরো সাতজন আহত হন।

রাতের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে, যাতে অস্ত্র সরবরাহের চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেনের কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিবর্তন আনা হবে এবং অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন মাত্রার সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। জেলেনস্কি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত এবং পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই চুক্তিও দ্রুত কার্যকর হওয়া দরকার। ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ এখন খুবই সীমিত। গত এক মাসে রাশিয়ার ছোড়া উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কিয়েভ মিত্র দেশগুলোর কাছে আরো বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ চেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির আহ্বানও জানিয়েছে।

শনিবার রাতেও রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবাহিনী বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ওডেসা, খারকিভ ও সুমিতে দিনের হামলার আগে রাতেই রাশিয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। বিমানবাহিনীর দাবি, তারা অন্তত দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কিয়েভে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসেই রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার দখল করা দক্ষিণাঞ্চলে তাদের সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি জানান, তার ইউনিট এক রাতেই আজভ সাগরে ২১টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আরো সাতটি পণ্যবাহী ও সহায়ক জাহাজেও হামলা হয়েছে। তার দাবি, চলতি সপ্তাহে মোট ৭৬টি জাহাজ ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, এসব ড্রোন অভিযানের উদ্দেশ্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি। এদিকে রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজভ সাগরের তাগানরগ উপসাগরে মিথানল বহনকারী একটি ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।