একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অনেক রক্ত, অনেক মা- বোনের সম্ভ্রম, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি পতাকা, একটি সংবিধান, একটি জাতীয় সংগীত এবং সর্বোপরি জনগণের অধিকার লাভ করেছে জাতি। আমাদের এই মহৎ অর্জনের পথে অনেক বাধা ছিল। আমাদেরই স্বজাতির একটা অংশ ছিল বিরুদ্ধে। তারা এখনো আমাদের বৃহত্তর স্বার্থের বিরোধী অংশ। কিন্তু ৫৬ বছরে আমরা স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ ভোগ করতে পারিনি। সে কারণেই এ দেশের মানুষ নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থান, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান করেছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দেশের অনেক কিছু বদলে গেছে। সবচেয়ে বেশি বদলেছে রাজনীতি। স্বাধীনতাবিরোধীদের ভয়ংকর উত্থান হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষের অন্যতম শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চায় দেশে গণতন্ত্র সুদৃঢ় করতে। দলটি এখন সংবিধানের যৌক্তিক সংস্কার, রাষ্ট্রব্যবস্থার উপযুক্ত সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। দলটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সর্বোপরি ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে এমন একটি সংবিধান চায়, যা জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে গৃহীত হবে। কিন্তু জাতীয় সংসদে বিরোধী দল সে প্রত্যাশা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণেই সংবিধান সংশোধন কমিটি তারা মানছে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে একাত্তর মনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ একাত্তরের পরাজিতরা এখন একাত্তরের গৌরবদীপ্ত অর্জনকে পরাজিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল, ‘এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এ নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে-সবার আগে বাংলাদেশ।’ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি এখন জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান সংশোধন জরুরি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে এসেছে। দেশের উচ্চ আদালতের রায় কার্যকরের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। ১৩ জুলাই, ২০২৬ সোমবার রাতে সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। এতে পাঁচজনের নাম দিতে বিরোধী দলকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা নাম দেয়নি। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছে। চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হলেও তাঁরা কোনো নাম দেননি। তাই আপাতত পাঁচটি পদ শূন্য রেখেই ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পরে বিরোধী দল নাম দিলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল তাদের দাবিতে অনড়। তারা সংবিধান সংস্কার চায়। তারা দুটি শপথ গ্রহণ করেছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তারা কোন আইনের ভিত্তিতে নিয়েছিল? এই একটি প্রশ্নের সদুত্তরেই বর্তমান সমস্যার সমাধান হতে পারে।
এদিকে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিরোধী দলের অবস্থান তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা হতে পারে। তবে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ হয়েছে এবং সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করেছে। তাই বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’ বিরোধী দলের দুটি শপথের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এটি কালারেবল লেজিসলেশন। আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে যদি সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’
২০২৫ সালের নভেম্বরে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোটে চারটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়। ওই চার প্রশ্নে হ্যাঁ/না ভোট হয়েছে। প্রশ্নগুলো ছিল ‘(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে। (খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে। (গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে-সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে। (ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।’ যদি চার প্রশ্নের ধারাবাহিক সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করতে হয়, তা হলেও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করতে হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশন গঠনই সবার আগে হওয়া উচিত। সেজন্যই দরকার সংবিধান সংশোধন। সে পরিপ্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদের সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি। সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার-এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যকার বিরোধ পুরোনো। জুলাই জাতীয় সনদ যখন হয় তখন ৩৩টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আলোচনা করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে আট সদস্যের এ কমিটির সব কাজেরই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সম্পর্কিত। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি নিজেদের ভিন্নমতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। সে কারণে সে সময় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংবিধান সংস্কার’ হিসেবে দেখছে। এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জুলাই অভ্যুত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করবেন। জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ভাতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। প্রতি শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের তিন শ্রেণি আছে। যারা বেশি আহত তাদের ‘ক’, তার পরে ‘খ’, তার পরে ‘গ’ শ্রেণি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গুম, আয়নাঘরে বন্দি রাখা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সব ঘটনার জন্য ইতোমধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছিলেন। বর্তমানে মামলার সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে ১২টির তদন্ত শেষ হয়েছে এবং সেগুলো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে হয়তো আজকালের মধ্যেই কর্মসূচি দিতে পারে। তাদের অন্যতম দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এর জবাবে সরকার ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের অত্যন্ত যৌক্তিক এবং রাজনৈতিক কৌশলে তাদের মোকাবিলা করতে হবে। প্রশ্ন রাখতে হবে, যে গণভোট ও গণরায়ের কথা তারা বলছে, সেই গণভোটের কোনো ভিত্তি আছে কি না? সেই গণভোটের আইনি ভিত্তি কী ছিল? যে ব্যবস্থার অধীনে সেটি করা হয়েছিল, তা আইন নয়, একটি নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে ছিল। সেই আদেশও কোনো জাতীয় রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে জারি করা হয়নি। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষর রয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সেটি হয়েছিল। কিন্তু পরে বাস্তবায়নসংক্রান্ত যে আদেশ জারি করা হয়, তা যে কোনো সর্বদলীয় আলোচনা বা রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে হয়নি, এটাও সবাইকে মনে করিয়ে দিতে হবে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই-এমন একটি মতলববাজি মন্তব্য অনেক দিন ধরেই প্রচলিত আছে। কিন্তু এর বাস্তবতা এখন একটু ভিন্ন হওয়া উচিত। রাজনীতিতেও শেষ কথা বলে কিছু থাকতে হবে। শত্রুকে শত্রু, মিত্রকে মিত্র হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। যারা দেশের স্বাধীনতার শত্রু ছিল, তাদের রাজনৈতিক কারণে মিত্র ভাবতে শুরু করলে বিএনপি আবারও ভুল করবে। একাত্তরের বিজয় আর জুলাইয়ের বিজয়কে ইতিহাসের এক পাল্লায় মাপার অপচেষ্টা চলছে। সেই ফাঁদে পা দিলে সর্বনাশ হবে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির। সুতরাং সংবিধান সংস্কারের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের নীলনকশার জালে জড়ানো যাবে না কিছুতেই।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
[email protected]





