বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি নীরব কিন্তু গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা হলো নামের আগে-পরে বিভিন্ন খেতাব ব্যবহারের প্রবণতা। নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা কিংবা সভা-সমাবেশের পরিচিতিপর্বে আমরা প্রায়ই দেখি—ডক্টর, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, আইনজীবী, প্রকৌশলী, আলহাজ্ব, মাওলানা, শায়খ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক কিংবা আরো নানা বিশেষণযুক্ত পরিচয়। এসব খেতাবের একটি অংশ নিঃসন্দেহে যথাযথ শিক্ষা, পেশাগত যোগ্যতা, গবেষণা, ধর্মীয় সাধনা কিংবা কর্মজীবনের অর্জনের মাধ্যমে প্রাপ্ত। সেসব ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সেই যোগ্যতার অধিকারী নন, অথচ জনসমক্ষে বা রাজনৈতিক পরিচয়ে সেই উপাধি ব্যবহার করেন, তখন বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি জনবিশ্বাস, নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক সততার প্রশ্নে পরিণত হয়।
আরো গভীরে গেলে দেখা যায়, এই প্রবণতার পেছনে শুধু মর্যাদার আকাঙ্ক্ষাই নয়, অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সংকটও কাজ করে। যেসব মানুষ নিজেদের প্রকৃত কাজ, যোগ্যতা, জ্ঞান, নেতৃত্ব বা জনসেবার মাধ্যমে সমাজে পরিচিতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন, তাদের একটি অংশ খেতাবকে শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তারা মনে করেন, নামের আগে ডক্টর কিংবা অধ্যাপক লিখে দিলে মানুষ তাদের বেশি সম্মান করবে, বেশি শিক্ষিত ভাববে কিংবা অধিক যোগ্য মনে করবে। অর্থাৎ প্রকৃত যোগ্যতার পরিবর্তে একটি প্রতীকী পরিচয়কে সামনে এনে সামাজিক মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি আত্মপ্রবঞ্চনা, আবার অনেক ক্ষেত্রে জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি সূক্ষ্ম কৌশল।
প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হওয়ার কথা তার কর্ম দ্বারা। একজন শিক্ষক শিক্ষকতার মাধ্যমে পরিচিত হবেন, একজন আইনজীবী তার পেশাগত সাফল্যের মাধ্যমে, একজন চিকিৎসক তার চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এবং একজন রাজনীতিবিদ তার জনসেবার মাধ্যমে। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি নিজের কাজ ও অবদানের পরিবর্তে একটি খেতাবকে সামনে এনে সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে চান, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তিনি কি তার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্তুষ্ট নন? তিনি কি তার বাস্তব যোগ্যতার ওপর আস্থা হারিয়েছেন? তিনি কি জনগণকে এমন একটি ধারণা দিতে চাইছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়?
উন্নত বিশ্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে তাকালে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত তাদের উপাধির চেয়ে কর্মকে বেশি গুরুত্ব দেন। অ্যাঞ্জেলা মের্কেল একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। বারাক ওবামা আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। মার্গারেট থ্যাচার রসায়নে শিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু তারা জনগণের কাছে পরিচিত হয়েছেন তাদের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতার মাধ্যমে। ভোটাররা তাঁদের সামনে ডক্টর বা প্রফেসর শব্দটি শুনে মুগ্ধ হননি; তারা মূল্যায়ন করেছেন তাদের কর্মফল।
অনেক উন্নত দেশে ভুয়া ডিগ্রি বা বিভ্রান্তিকর উপাধি ব্যবহার রাজনৈতিক জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সেখানে জনগণ মনে করে, যে ব্যক্তি নিজের পরিচয় সম্পর্কে পুরো সত্য বলেন না, তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও পুরো সত্য বলবেন—এমন নিশ্চয়তা কোথায়? ফলে উপাধি নিয়ে মিথ্যাচারকে কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, নেতৃত্বের অযোগ্যতার লক্ষণ হিসেবেও দেখা হয়।
বাংলাদেশে অবশ্য সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে মানুষ এখনও নামের আগে-পরে যুক্ত বিশেষণ ও খেতাব দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়। ফলে অনেকেই রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় এসব উপাধি ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সুবিধা কতটা বাস্তব? একজন ব্যক্তি হয়তো কিছু মানুষের কাছে নিজেকে বেশি শিক্ষিত বা অভিজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু যখন তার পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তখন সেই সাময়িক লাভ বহু গুণ বেশি ক্ষতিতে পরিণত হবে। কারণ মানুষের বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে আরেকটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করে সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা। বিভিন্ন ব্যক্তি দেশি-বিদেশি অস্বীকৃত, অননুমোদিত বা তথাকথিত ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পিএইচডি সনদ সংগ্রহ করে নিজেদের নামের আগে ‘ডক্টর’ উপাধি ব্যবহার করছেন বলে নানা সময়ে অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার, পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন এবং কখনো কখনো চাকরি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এসব উপাধি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ফলে একদিকে প্রকৃত গবেষণা ও দীর্ঘ একাডেমিক সাধনার মাধ্যমে অর্জিত ডক্টরেট ডিগ্রির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে সমাজে যোগ্যতা ও অর্জন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দেয়। যে ডিগ্রি অর্জনের জন্য সাধারণত বছরের পর বছর গবেষণা, তত্ত্বাবধান, মূল্যায়ন ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়, সেটিকে যদি অর্থ, প্রভাব বা কৃত্রিম উপায়ে অর্জিত বলে উপস্থাপন করা হয়, তবে তা শুধু একাডেমিক অসততাই নয়; বরং সমাজে সত্য, মেধা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, কোনো সমাজে যখন প্রতীক বাস্তবতার চেয়ে বেশি মূল্য পেতে শুরু করে, তখন সেই সমাজে মেধা, পরিশ্রম ও সততার গুরুত্ব কমতে থাকে। মানুষ তখন বাস্তব অর্জনের চেয়ে বাহ্যিক সাজসজ্জাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ভুয়া কিংবা অতিরঞ্জিত খেতাবের সংস্কৃতি ঠিক এই বিপজ্জনক প্রবণতাকেই উৎসাহিত করে।
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি বহু বছর ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি করেছেন। এলাকাবাসী স্নেহবশত তাকে ডাক্তার সাহেব বলে ডাকে। এটি একটি সামাজিক বাস্তবতা। কিন্তু তিনি যদি নিজের ভিজিটিং কার্ড, রাজনৈতিক পোস্টার বা আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে ডাক্তার লিখতে শুরু করেন, তাহলে তিনি কেবল একটি জনপ্রিয় ডাকনাম ব্যবহার করছেন না; বরং এমন একটি যোগ্যতার দাবি করছেন, যা হয়তো তার নেই। একইভাবে কেউ স্বল্প সময় শিক্ষকতা করেছেন বলে সমাজ তাকে অধ্যাপক বলে সম্বোধন করতে পারে। কিন্তু সেই সামাজিক সম্বোধনকে আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও এ বিষয়ে গভীর শিক্ষা রয়েছে। ইসলামে সততা শুধু অর্থনৈতিক লেনদেনে নয়, পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। একজন মানুষ যা নন, নিজেকে তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামী নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে নিজেকে বড় করে উপস্থাপন করা, অহংকার করা এবং মিথ্যা মর্যাদা দাবি করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। ইসলামী ঐতিহ্যে প্রকৃত জ্ঞানীরা নিজেদের মর্যাদা প্রচার না করে বরং বিনয় প্রদর্শন করতেন। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের মতো মনীষীরা তাঁদের জ্ঞান ও চরিত্রের কারণে সম্মানিত হয়েছেন; নিজেদের জন্য জাঁকজমকপূর্ণ পরিচয় নির্মাণ করে নয়।
আজকের বাস্তবতায় খেতাবের অপব্যবহার কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক আস্থার সংকট তৈরি করে। কারণ সমাজে যখন মানুষ দেখতে পায় যে প্রকৃত যোগ্যতা ছাড়াও নানা উপাধি ব্যবহার করে মর্যাদা অর্জন সম্ভব, তখন তারা কঠোর পরিশ্রম, গবেষণা, শিক্ষা ও আত্মোন্নয়নের পরিবর্তে শর্টকাট খোঁজার দিকে ঝুঁকে পড়ে। একজন তরুণ ছাত্র তখন ভাবতে পারে—ডিগ্রি অর্জনের চেয়ে ডিগ্রির ভাবমূর্তি অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন উদীয়মান রাজনীতিক ভাবতে পারে—জনসেবার চেয়ে পরিচয়ের অলংকারই বেশি কার্যকর। এটি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর মানসিকতা।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংস্কৃতি ধীরে ধীরে সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সামাজিক পার্থক্যকে ক্ষয় করে। মানুষ যখন প্রতিদিন অসত্য, অতিরঞ্জন ও কৃত্রিম পরিচয় দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন সততা আর বিশেষ কোনো গুণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। মিথ্যাও তখন স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। একটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় সাধারণত এভাবেই শুরু হয়—বড় অপরাধ দিয়ে নয়, ছোট ছোট অসততাকে স্বাভাবিক করে তোলার মাধ্যমে।
অথচ একজন রাজনৈতিক নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি তার খেতাব নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা। জনগণ শেষ পর্যন্ত তার নামের আগে কী লেখা আছে তা মনে রাখে না; তারা মনে রাখে তিনি মানুষের জন্য কী করেছেন। দুর্যোগে তিনি কোথায় ছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার ছিলেন, জনগণের সমস্যা সমাধানে কতটা আন্তরিক ছিলেন—এসবই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।
যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত হন, তবে তার জ্ঞানই তাকে পরিচিত করবে। যদি তিনি সত্যিকারের আইনজীবী হন, তবে তার পেশাগত সাফল্যই তাকে প্রতিষ্ঠিত করবে। যদি তিনি প্রকৃত শিক্ষক হন, তবে তার ছাত্ররাই তার সম্মানের সাক্ষ্য দেবে। আর যদি তিনি সত্যিকারের জননেতা হন, তবে জনগণের ভালোবাসাই হবে তার সবচেয়ে বড় খেতাব। সেখানে কৃত্রিম উপাধির কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা নিজেদের অর্জনের চেয়ে বেশি বড় পরিচয় প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন, তারা শেষ পর্যন্ত সম্মানের চেয়ে সমালোচনাই বেশি অর্জন করেছেন। কারণ মানুষ ভুলে যেতে পারে একজন ব্যক্তি কত বড় ডিগ্রিধারী ছিলেন, কিন্তু মানুষ কখনো ভুলে যায় না কে সৎ ছিল আর কে ছিল অসৎ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরো পরিণত করতে হলে এই খেতাবনির্ভর মর্যাদাবোধ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রার্থীদের পরিচয় ও যোগ্যতার বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই করা। গণমাধ্যমের উচিত তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনগণকে সত্য জানানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তরুণদের শেখানো যে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার চরিত্র। আর নাগরিক সমাজের উচিত খেতাব নয়, কাজকে মূল্যায়ন করা।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নামের আগে ডক্টর, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ বা আইনজীবী লেখা যতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ব্যক্তি সত্যবাদী কি না। কারণ খেতাব সম্মান দাবি করতে পারে, কিন্তু সততা সম্মান অর্জন করে। খেতাব মানুষকে সাময়িকভাবে বড় দেখাতে পারে, কিন্তু চরিত্র মানুষকে প্রকৃত অর্থে বড় করে তোলে।
অতএব, খেতাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মর্যাদার এই সংস্কৃতিকে পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ পরিচয়ের সাজসজ্জা দিয়ে বড় হয়; নাকি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ সত্য, যোগ্যতা, শ্রম ও সততার মাধ্যমে সম্মান অর্জন করে? বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান অনেকাংশে নির্ভর করছে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর।
লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট




