• ই-পেপার

স্বপ্নের বাজেট, বাস্তবের দুঃস্বপ্ন : বাস্তবায়নের ব্যর্থতায় ডুবছে জাতির প্রত্যাশা

সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিরোধ নয়, প্রতিবাদও করতে হবে

আহসান হাবিব বরুন
সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিরোধ নয়, প্রতিবাদও করতে হবে
সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রের সীমান্ত একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, কিন্তু মানুষের মর্যাদা তারও ঊর্ধ্বে। আধুনিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো এই বিশ্বাস যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশ ইন’ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সীমান্ত সংকট নতুন নয়। ভারতের তরফে সীমান্ত হত্যা, গুলি, আটক, নির্যাতন এবং বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্কের একটি অস্বস্তিকর অধ্যায় হয়ে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পুশ ইন বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এখানে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, সরাসরি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্ন জড়িত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠ। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR)-এর ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সব মানুষ মর্যাদা ও অধিকারে সমান। ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে খামখেয়ালি গ্রেপ্তার, আটক বা নির্বাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক চুক্তি (ICCPR)-এর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করতে হলে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

আবার আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি নন-রিফাউলমেন্ট (Non-Refoulement) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া যায় না, যেখানে তার নিরাপত্তা, অধিকার বা আইনগত অবস্থান মারাত্মকভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার সমাধান হতে হবে যৌথ যাচাই, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; সীমান্তে একতরফাভাবে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে নয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থানকে আরো বিব্রতকর করে তুলেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। সমালোচনা শুধু বাংলাদেশ থেকে আসছে না; ভারতের ভেতর থেকেও আসছে। পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন Association for Protection of Democratic Rights (APDR) প্রকাশ্যে বিএসএফের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে এবং একে মানবাধিকারবিরোধী ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটি ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্ন তুলেছে—যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কীভাবে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়?

এই সমালোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি। কারণ অভিযোগগুলো কোনো বিদেশি সরকার বা ভারতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে আসেনি; এসেছে ভারতের নিজস্ব নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। ফলে এটি আর কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; বরং এটি ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।

এদিকে ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। কিন্তু সীমান্তে যদি এমন আচরণের অভিযোগ ওঠে, যা সেই মূল্যবোধের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—ভারত কি তার ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তব আচরণের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারছে?

এখানে ভারতের নীতিনির্ধারকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উপলব্ধি করা জরুরি। বাংলাদেশ এখন আর নব্বই দশক কিংবা একবিংশ শতাব্দীর শুরুর সেই বাংলাদেশ নয়, যাকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুর্বল অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গত দুই দশকে অর্থনীতি, অবকাঠামো, মানবসম্পদ, কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে বঙ্গোপসাগর শুধু একটি জলরাশি নয়; এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন শক্তির ভারসাম্য গড়ে উঠছে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাস, সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং নৌ-বাণিজ্যের নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। ফলে ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পুরোনো মানসিকতা বা একতরফা প্রভাব বিস্তারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিচালনার চেষ্টা করে তবে তা কৌশলগতভাবে কখনোই ফলপ্রসূ হবে না।

ভারতের উপলব্ধি করে জরুরি যে,প্রতিবেশী সম্পর্ক কখনো আধিপত্যের ভিত্তিতে টিকে থাকে না। ইতিহাস বলে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সমতা। সুতরাং ভারত যদি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীল নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে চায়, তাহলে তাকে প্রথমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক নীতিগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আরেকটি দিক দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সীমান্তে ভারতের অস্বাভাবিক তৎপরতা এমন এক সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে, যখন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে।

সময়গত এই মিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা দেখা যাচ্ছে। যদিও কোনো কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা কঠিন, তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যাপার।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সমার্থক নয়। আধুনিক কূটনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব।

যদি ভারতে সত্যিই বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে কোনো অসন্তোষ থেকে থাকে, তাহলে তা বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও  সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বাংলাদেশ কোনো রাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ের অংশ নয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন রাষ্ট্র। তার পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে ঢাকার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে; অন্য কোনো রাজধানীর প্রত্যাশার ভিত্তিতে নয়।

এখানে আরেকটি রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও উপেক্ষা করা যায় না। বিগত সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার নীতিগত অবস্থান নিয়ে দেশের ভেতরে বিস্তর বিতর্ক ছিল। সমালোচকদের একটি অংশের মতে, তৎকালীন সরকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন এক নীতি অনুসরণ করেছিল, যেখানে পারস্পরিকতার তুলনায় একতরফা ছাড় ও সুবিধা প্রদানের প্রবণতা বেশি দৃশ্যমান ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সেই বাস্তবতার পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অধিক ভারসাম্য ও বহুমাত্রিকতার প্রত্যাশা ভারতের কিছু নীতিনির্ধারক মহলে অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে—এটাই একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পথ।

এখানে আমি মনে করি, বাংলাদেশের জন্যও সীমান্ত পরিস্থিতি একটি নির্মম শিক্ষা। তাই শুধু প্রতিরোধ করলেই হবে না; আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। সীমান্তে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ নথিভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবেগ নয়, তথ্যই শক্তি। অভিযোগ নয়, প্রমাণই গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে। আর নীরবতা কখনো মর্যাদা রক্ষা করে না; বরং অনেক সময় অন্যায়কে উৎসাহিত করে।

বাংলাদেশ সংঘাত চায় না, উত্তেজনাও চায় না। বাংলাদেশ চায় একটি মর্যাদাপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক। কিন্তু বন্ধুত্বের অর্থ কখনো নীরব আনুগত্য নয়। বন্ধুত্বের ভিত্তি হলো সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

আজকের বাস্তবতায় ভারতের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে অনুধাবন করা। কারণ ইতিহাসের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো—যে রাষ্ট্র সময়মতো পরিবর্তনকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, শেষ পর্যন্ত সেই রাষ্ট্রই কৌশলগত ক্ষতির মুখোমুখি হয়।


পরিশেষে বলা যায়, পুশ ইন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল সীমান্তের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে শক্তির প্রদর্শন নয়, প্রয়োজন আইনের শাসন, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের করণীয়ও স্পষ্ট। সীমান্তে সতর্কতা ও প্রতিরোধ যেমন অব্যাহত রাখতে হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। কারণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা শুধু তার ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান গ্রহণের মধ্যেও নিহিত। সুতরাং পুশ ইনের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রতিবাদও করতে হবে; এবং সেই প্রতিবাদ হতে হবে যুক্তি, প্রমাণ, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও জাতীয় আত্মমর্যাদার দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতএব যেকোনো মূল্যে সীমান্ত সংকটের সুষ্ঠু সমাধান করতেই হবে। 

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: [email protected] 
 

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমরা ৪ বছর ধরে লাল তালিকাভুক্ত : ড. জাহাঙ্গীর আলম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমরা ৪ বছর ধরে লাল তালিকাভুক্ত : ড. জাহাঙ্গীর আলম
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার নিয়মিত আয়োজন দ্য বিজনেস রিভিউ শোতে কথা বলেছেন একুশে প্রদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম।

ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কন্ট্রাকশন পলিসির সঙ্গে ফিসকাল পলিসির একটা সম্পর্ক আছে। ফিসকাল পলিসি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয় তাহলে শুধু কন্ট্রাক্ট শ্রেণি মনিটরি পলিসি দিয়ে দ্রব্যমূল্যকে স্বাভাবিক করা সম্ভব না। ইনফ্লেশনটা কমিয়ে আনা ডিফিকাল্ট। কারণ একদিকে আপনি সুদের হার বাড়িয়েছেন, বাড়িয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংকের খাতে। আরেক দিকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি আপনি ব্যাংকের সিস্টেম থেকে নিয়ে গেছেন এবং বাজারে ছেড়েছেন। তো এই যখন হয় তখন উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে নির্বাপিত করা এটা খুব ডিফিকাল্ট হয়ে পড়ে। সবচাইতে বড় জিনিস হলো খাদ্য মূল্যস্ফীতি।’

এবারও কিন্তু খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৯.০৬ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত মাসেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এখন খাদ্যমূল্যস্ফীতি গত চার বছর ধরে আমরা খুব উচ্চ পর্যায়ে দেখছি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমরা লাল তালিকাভুক্ত গত চার বছর ধরে। তো এমন একটা পরিস্থিতিতে উৎপাদন না বাড়িয়ে আপনি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে নামিয়ে আনা এটা ডিফিকাল্ট। এখন গত বছর ২০২৪-২৫ সময়ে আমাদের যেই প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতে সেটা ছিল ২.৪২ শতাংশ।

এই বছর যে প্রবৃদ্ধি ধারণা করা হচ্ছে এটা প্রাথমিকভাবে যেটা প্রকাশ করা হয়েছে আজকে আমি দেখলাম এটা ২.৭২ শতাংশ। এর মানে গত ৫৪ বছর ধরে আমরা যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি ৩ শতাংশ বা তার চাইতে ওপরে গড়ে লং টার্ম ট্রেন যেটা সেটা খুব কম এবং উৎপাদন যখন স্বাভাবিকভাবে প্রবৃত্তি অর্জন করা না হয় তখন বাজারে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহ কমে এবং সরবরাহ যখন কমে তখন মূল্যস্ফীতি বাড়ে। খাদ্যের ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত খুব জটিল। কারণ এটা শুধু আপনার যে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি কম সেটা না।’

একুশে প্রদকপ্রাপ্ত এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাকে কিন্তু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাটা নাই। বাজার ব্যবস্থাটা সম্পূর্ণভাবে আমাদের ব্যবসায়ী যারা আছেন তাদের হাতে। কারণটা বুঝতে হবে, সেটা হলো সরকার যে ইন্টারভিন করে, কি দিয়ে ইন্টারভিন করে? আমার মাত্র ২০ থেকে ২২ লাখ টন চাল থাকে গম থাকে এর বেশি না, সরকারের এর বেশি ক্যাপাসিটিও নাই। কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরে সেটা এক কোটি টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ থাকে, সুযোগ তাদের বেশি। কাজেই প্রাইভেট সেক্টরে যখন যেভাবে বাজারটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তারা সেটা করতে পারে। সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারত যদি তাদের হাতে আরো বেশি আপনার ইন্টারভিন করার ক্ষমতা থাকত কিন্তু সরকারের হাতে এই ইন্টারভিন করার ক্ষমতা নাই।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো যে আন্তর্জাতিক মূল্য। আন্তর্জাতিক মূল্য মাঝখানে কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন এই আপনি যেটা বললেন, যে ইরান এবং ইউএস যেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে এটার কারণে আবার পণ্যমূল্য বেড়ে গেছে। সবচাইতে বড় জিনিস হলো—যে উপকরণ যেমন সার, রাসায়নিক সার, তেল এগুলোর দাম বেড়ে গেছে এবং এগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে সারা বিশ্বের উৎপাদন ২ শতাংশ হ্রাস পাবে এটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সব পণ্যের দাম কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে। তো বাংলাদেশেও এটার প্রভাব পড়েছে। এখন হলো গরুর মৌসুম। এই সময়ে চালের দাম তিন থেকে চার টাকা প্রতিকেজি বেড়ে গেছে।’

ইরানের দেশপ্রেম বনাম ইউনূস সরকারের দেশবিরোধিতা

অদিতি করিম
ইরানের দেশপ্রেম বনাম ইউনূস সরকারের দেশবিরোধিতা

শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। তিন স্বাগতিক দেশে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রেমীদের আগামী দেড় মাস বুঁদ করে রাখবে। সবকিছু ভুলে ফুটবল উন্মাদনায় মাতবে গোটা বিশ্ব। ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কে জিতবে তার চেয়েও আমার আগ্রহ ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের দিকে। ইরান এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ। মার্কিন, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে মানবতার চরম লঙ্ঘন হচ্ছে। নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে শিশুদের। ধ্বংস করা হচ্ছে হাসপাতাল। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের একতরফা হামলায় সহস্রাধিক নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার পরও ইরান মাথানত করেনি। যখন বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে তখনো ইরানে শুরু হয়েছে নতুন করে মার্কিন হামলা। এরকম একটা সময় ইরান শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে যখন বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরান সিদ্ধান্ত নেয় তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, এটা ফিফা বিশ্বকাপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়। তাই তারা খেলবে। ইরান বলেছে, এটা শুধু একটি খেলা নয়, দেশের মর্যাদা এবং সম্মানের স্মারক। বিশ্ব দেখবে ইরানের দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা। প্রতিটি খেলায় বাজবে ইরানের জাতীয় সংগীত, উড়বে জাতীয় পতাকা। সারা বিশ্বে ইরান তার প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এই বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। কিন্তু আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে রীতিমতো অবিচার করেছে। নজিরবিহীন আচরণ করা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে। চলতি বছরের ১৬ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা জটিলতার কারণে উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির মেহদি আলাভি এক বিবৃতিতে জানান, ‘ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আমাদের পুরো দল একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে আমরা আয়োজক শহরে পৌঁছাব। তবে পরবর্তী দুটি ম্যাচের জন্য আমরা খেলা শুরুর দুই দিন আগেই ভেন্যুতে উপস্থিত হব।’

বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ইরানি ফুটবলাররা ভিসা পেলেও, দলটির এক ডজনেরও বেশি প্রশাসনিক ও ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মার্কিন ভিসা পাননি। ইরানের কোনো সমর্থক ভিসা পাননি। তারা মাঠে গিয়ে নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতে পারবে না। চলমান এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরে ইরান তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা বদলে অ্যারিজোনার টুসন শহরের পরিবর্তে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানাতে বিশ্বকাপের মূল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করেছে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত শনিবার জানান, তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী দলকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং একই দিনে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এত বাধা সত্ত্বেও ইরান খেলবে বিশ্বকাপে। এটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আসর, যেখানে আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাবে যার সঙ্গে তারা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ইরানের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। তারা যেকোনো মূল্যে ইরানের স্বার্থে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। এতসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইরান বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। এটা ইরানের খেলোয়াড় এবং জনগণের দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সারা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এবার চলুন বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নজর দিই। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত এবং শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তার যোগ্যতায় ক্রিকেটের এই বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গর্বের। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কেবলমাত্র একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নয়, বরং দেশের সম্মান ও মর্যাদাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা। দেশের গৌরবের পতাকা উঁচিয়ে ধরা। খেলার মাধ্যমে একটি জাতির ঐক্য এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। সব দেশ এই সুযোগ পায় না। বাংলাদেশ পেয়েছিল। কিন্তু তখন ক্ষমতায় ছিল ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বর্তী সরকার। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত আসিফ নজরুল। ঠুনকো এক অজুহাতে ইউনূস সরকার বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যা ছিল আত্মঘাতী এবং দেশের স্বার্থের পরিপন্থি। ড. ইউনূস এবং তার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর এই হঠকারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের ছিল না। এটি ছিল ইউনূস এবং আসিফ নজরুলের মতো অর্বাচীনদের দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করার জন্য একটি নিম্নমানের কাজ। অনেকেই মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বানচালের জন্য এটা ছিল অন্তর্র্বর্তী সরকারের একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সস্তা ভারত বিরোধিতা উসকে দিয়ে তারা দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। দেশে সৃষ্টি করতে চেয়েছিল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বিসিসিবি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আসিফ নজরুলের একগুঁয়েমির কারণে বোর্ড অসহায় হয়ে পড়ে। আর আসিফ নজরুলের পেছনে ছিল ড. ইউনূসের নীরব সমর্থন।

এখন ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার ইস্যুটি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমাদের সামনে এখন তুলনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ইরান যদি আক্রমণকারীর দেশে গিয়ে খেলতে পারে তাহলে বাংলাদেশকে কেন ভারতে খেলতে যেতে দেওয়া হলো না? এটা কি আদৌ দেশপ্রেম নাকি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া? বাংলাদেশে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। এই একটি খেলায় আমরা বিশ্বমান অর্জন করেছি। গত মঙ্গলবার দীর্ঘ একুশ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এরকম একটি সম্ভাবনাময় দলকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া শুধু ভুল নয়, অপরাধ। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের নব নির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবাল বলেছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ক্ষতি করেছে। বিএনপি সরকার এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইরানের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি তা তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারা দেশপ্রেমের মুখোশ পরে দেশের ক্ষতি করেছে তা জানার অধিকার জনগণের আছে। ইউনূস সরকারের দেড় বছরে দেশপ্রেমের ফতোয়া দিয়ে দেশবিরোধী বহু কাজ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি, দুর্নীতি দমনের নামে বেসরকারি খাতকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং হামের টিকা কেলেঙ্কারি তার কিছু প্রমাণ মাত্র। দেশের মানুষ মনে করে, ইউনূস সরকারের দেড় বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা দরকার। দেশের কী কী ক্ষতি ইউনূস সরকার করেছে তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যেন ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতা নিয়ে সবক্ষেত্রে এভাবে দেশের সর্বনাশ করতে না পারে।

লোকসংখ্যা বাড়ছে, মানুষ বাড়ছে না

মন্‌জুরুল ইসলাম
লোকসংখ্যা বাড়ছে, মানুষ বাড়ছে না

উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত চার সন্তান। ভালো উপার্জন, সামাজিক মর্যাদা সবই আছে। দেশ-জাতির জন্য অনেক কাজ করেছেন বলে মনে করেন! কিন্তু গর্ভধারিণী মায়ের অন্তিমকালেও তাঁর খবর নিতে পারলেন না। একাকী ঘরে অনাদর-অবহেলায় মৃত্যু হয় জননীর। লাশে পচন ধরে। আট বছরের ফুটফুটে রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেন আরেক শিশুর বাবা। তাকে সহায়তা করেন একজন নারী। তিনিও সন্তানের মা। বর্বর, হৃদয়বিদারক এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটছে। এসব দেখলে, শুনলে ও ভাবলে মন ভেঙে যায়। আবার এর উল্টো চিত্রও আছে। রিকশায় ফেলে যাওয়া লাখ টাকা মালিককে ফেরত দেন হতদরিদ্র রিকশাচালক। নিজের চোখের আলো নেই, তার পরও অন্যের সন্তানদের বিনা পয়সায় লেখাপড়া করাচ্ছেন একজন। ভিক্ষার টাকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঘটনাও আমাদের সমাজে ঘটেছে। আদমশুমারিতে দেখা যাচ্ছে, দেশের লোকসংখ্যা ক্রমাগতই বাড়ছে। একাত্তরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। ৫৫ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-লোকসংখ্যা তো বাড়ছে, দেশে  প্রকৃত মানুষ কি বাড়ছে?

বাংলাদেশে বিগত ৫৫ বছরে নতুন নতুন শহর গড়ে উঠছে। উঁচু ভবন নির্মিত হচ্ছে। শিক্ষার হার বাড়ছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ও ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমেই সামনে চলে আসছে। তা হলো আমরা কি সত্যিই মানুষের সংখ্যা বাড়াতে পারছি? শুধু মনুষ্য প্রজাতিতে জন্মগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই কি একটি জাতি উন্নত হয়? নাকি উন্নতির প্রকৃত মানদণ্ড মানবিক দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি? বর্তমান বাস্তবতা উদ্বেগজনক। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের নানান স্তরে হিংসা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, প্রতারণা, স্বার্থপরতা এবং অমানবিক আচরণ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পারিবারিক সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে, সামাজিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা কমছে। দেশপ্রেম শুধু মুখে মুখে। ফলে লোকসংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত অর্থে ‘মানুষ’ বাড়ছে বলে মনে হয় না। মানুষ হওয়া শুধু জৈবিক পরিচয়ের বিষয় নয়। মানুষ হওয়ার অর্থ মানবিক গুণাবলির বিকাশ। একজন মানুষ তখনই প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠেন, যখন তিনি অন্যের প্রতি সহমর্মী হন, সত্যবাদী হন, ন্যায়পরায়ণ হন এবং নিজের স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণ নিয়ে ভাবতে পারেন, দেশপ্রেমিক হন। মানুষের অস্তিত্ব শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতা। কিন্তু আজকের সমাজে এ মূল্যবোধগুলো ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র সবখানেই এক ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। বিকৃত চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটছে। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসার সুযোগ পাচ্ছে নষ্ট মানবসন্তান।

মানুষ তৈরির অন্যতম স্কুল হলো পরিবার। সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় পরিবার থেকে সন্তানরা মা-বাবা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সততা, শ্রদ্ধাবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক আচরণ শিখত। বর্তমানে ব্যস্ততা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন এবং পারিবারিক কাঠামো পরিবর্তনের কারণে সেই শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। অনেক পরিবারে সন্তানদের সফল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয় না। ফলে তারা প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে জিততে শেখে, কিন্তু সহমর্মিতা শিখতে পারে না। পিতা-মাতা সন্তানদের নিয়ে কোচিং সেন্টারে ছোটেন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আশায়; মানুষ হওয়ার জন্য নয়। কর্মজীবী পিতা-মাতা টাকাপয়সা, মূল্যবান সম্পদ, সম্পত্তির দলিল রাখার আলমারি অনেক তালা দিয়ে সুরক্ষিত করে রাখেন। কিন্তু অনেক বেশি মূল্যবান ও সাধনার ধন প্রিয় সন্তানকে রেখে আসেন কাজের বুয়ার কাছে। বুয়ার কথাবার্তা, আচার-আচরণ, নৈতিকতার শিক্ষা নিয়েই শিশুটি বড় হয়। অবশ্য আমাদের সমাজব্যবস্থায় কর্মজীবী পিতা-মাতার জন্য এর কোনো বিকল্পও তেমন নেই।

পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের দিকে তাকালে দিনদিন হতাশা বাড়ে। বর্তমান সমাজে মানুষের মূল্যায়ন হয় অর্থ, ক্ষমতা এবং বাহ্যিক সাফল্যের ভিত্তিতে। কে কত ধনী, কার কত সম্পদ, কে কত বড় পদে আছে এসবই মর্যাদার মানদণ্ড। এ প্রবণতা মানুষকে স্বার্থ ও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। সমাজের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে মানবিকতা পিছিয়ে পড়ছে। সমাজমাধ্যম মানুষের যোগাযোগ সহজ করেছে, একই সঙ্গে বিভাজনও বাড়িয়েছে। ভুয়া তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অসহিষ্ণু আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতে ক্রমাগত সংঘাত ও উত্তেজনার পরিবেশ বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলছে। প্রায় প্রতিটি মানুষ সন্তান, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে যতটা সময় দিচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ব্যয় করছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ঘুম থেকে উঠেই হাতে স্মার্টফোন। ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও হাতে সেই স্মার্টফোন। অনেক পিতা-মাতা যখন ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যস্ত থাকেন, তখন সন্তানরা কাছে এলেও বিরক্ত হন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করার জন্য প্রচুর চাপের মধ্যে থাকে। কিন্তু মানবিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার দিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও মানবিক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা একই হারে বাড়ছে না। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে মানবিক মানুষ তৈরি হচ্ছে না। সমাজে যখন বিভক্তি বাড়ে, তখন মানুষ অন্যকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শুরু করে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এ অবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয় ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা।

এ ধরনের অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। সেই ভাবনা ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। প্রথমত সন্তানের সঙ্গে প্রিয় সান্নিধ্যের সময় কাটাতে হবে। শুধু পড়াশোনার খবর নিলেই হবে না; তাদের চিন্তা, অনুভূতি ও সমস্যাগুলোও জানতে হবে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের সামনে মহান আদর্শ তুলে ধরতে হবে। সন্তানদের চরিত্র গঠনে পিতা -মাতাকে গাইড হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। সন্তান চরিত্রহীন হলে পিতা-মাতাকেই প্রথমে তার দায়ভার বহন করতে হয়। দ্বিতীয়ত পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। সন্তান যদি দেখে বাবা-মা একে অন্যকে সম্মান করছেন, বয়োজ্যেষ্ঠদের মর্যাদা দিচ্ছেন এবং গৃহকর্মীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করছেন, তাহলে সেও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে। সেই সঙ্গে সন্তানকে দানশীল হতে উৎসাহিত করতে হবে। সন্তানের মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র মানুষকে দান করার শিক্ষা দিতে হবে। তৃতীয়ত সমাজমাধ্যম বা ডিজিটাল দুনিয়া থেকে যতটা সম্ভব সরে এসে পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এ ক্ষেত্রে সুফল রাখতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিকভাবে কাজ করতে হবে। এগুলো মানুষের মননশীলতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে সৃজনশীল ভূমিকা রাখে।

মানবিক প্রজন্ম বা প্রকৃত মানুষ তৈরির ক্ষেত্রে সমাজ বা রাষ্ট্রেরও কিছু দায় আছে। এর জন্য মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ নেওয়া চাই স্থানীয় পর্যায় থেকে। পাড়ামহল্লাভিত্তিক খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, পাঠচক্র, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড মানুষকে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত করে। যখন মানুষ একসঙ্গে কাজ করে তখন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। উন্নত মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ গঠনে রাষ্ট্রের অনেক কিছু করতে হবে। প্রথমত শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত আইন ও বিচারব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে, যাতে অন্যায়ের দ্রুত বিচার হয় এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। মানুষ যেন রাষ্ট্রের রীতিনীতি, আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়। তৃতীয়ত গণমাধ্যমকে শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। চতুর্থত দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ অন্যায় যখন স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন মানবিকতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ সমাজে ধর্মীয় শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সব ধর্মই মানুষকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সততা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়। কিন্তু ধর্ম যদি শুধু আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে এবং মানবিক আচরণে প্রতিফলিত না হয়, তাহলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাই ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় জরুরি। ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্মকে ব্যবসায় পরিণত করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। ধর্মান্ধ নয়, ধার্মিক মানুষ তৈরি করতে হবে। স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও ভীতি মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখে। মানবসন্তানকে মানবিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে, পবিত্র রাখে। সমাজে স্বীকৃতি দেয় সৃষ্টির সেবা জীব হিসেবে।

সে কারণে সন্তানকে মানুষ করার প্রারম্ভিক কাজটি ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। একটি মানবিক ঘর থেকে মানবিক সন্তান গড়ে ওঠে। মানবিক পরিবার থেকে মানবিক সমাজ এবং মানবিক সমাজ থেকে মানবিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। তাই পরিবর্তনের শুরুটা করতে হবে নিজের ঘর থেকেই। সন্তানকে শুধু বড় মানুষ নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যদি সমাজে সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, যদি রাষ্ট্র মানবিক মূল্যবোধকে উন্নয়নের কেন্দ্রে স্থান দেয় তাহলেই লোকসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত মানুষের সংখ্যাও বাড়বে। কারণ একটি দেশের বড় সম্পদ তার জনসংখ্যা নয়, বড় সম্পদ তার মানবিক, বিবেকবান এবং মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে জনসংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সন্তানকে মানুষ করতে হবে। তা না হলে সন্তান বড় হবে, জনসংখ্যার তালিকা হবে। আর ভাগ্যহত পিতা-মাতাকে অযত্ন-অবহেলায় মরে পড়ে পচতে হবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

[email protected]