• ই-পেপার

গোলাম মাওলা রনি

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা করলে কপাল পুড়বে

দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে : গোলাম মাওলা রনি

অনলাইন ডেস্ক
দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে : গোলাম মাওলা রনি
ফাইল ছবি

ক্ষমতা হারানোর পর বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে দলটির নেতাকর্মীদের বিদেশে বসে রাজনীতি না করে দেশে ফিরে আসতে হবে। তা না হলে আওয়ামী লীগ একসময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে ‘মুসলিম লীগ’-এ পরিণত হবে বলে বন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি কিংবা বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় এসেছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু, এরশাদ সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুতি কিংবা এক-এগারোর (১/১১) পটপরিবর্তনের সময়ও বিএনপি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বিএনপির তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দলের শীর্ষ নেতারা দেশেই ছিলেন, অনেকে জেল খেটেছেন। কিন্তু দলটির তৃণমূল ও নেতৃত্ব মাঠ ছাড়েনি। একইভাবে জাসদ, সর্বহারা পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোও চরম বিপদে কৌশলগত কারণে নেতৃত্ব বদল করলেও তাদের বড় একটি অংশ মাঠেই ছিল।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে প্রায় দু বছর হতে চলল। কিন্তু এই সময়ে দলটির ভেতর কোনো ইতিবাচক বিবর্তন বা নেতৃত্বের পরিমার্জন দেখা যাচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির সিংহভাগ নেতাই এখন ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দিল্লি, কলকাতা, নিউইয়র্ক বা কানাডায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে দূর দেশে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ফাঁকা আওয়াজ বা হুমকি দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করা হলো কি না—সেটি বড় বিষয় নয়। মূল সংকট হলো দলটির মাঠপর্যায়ের অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, সব পরিণতি মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে না আসে, তবে দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘মুসলিম লীগ’-এর মতো বিলুপ্তির পথে হেঁটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীপু মনি, শাহজাহান খান বা আনিসুল হকদের মতো নেতাদেরও ভবিষ্যতে জামিন হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, যারা স্রেফ আতঙ্কের কারণে দেশ ছেড়েছেন, তাদের ভয় ও দুর্নাম দিন দিন বাড়তেই থাকবে। বিদেশে বসে থাকলে একসময় রাজনৈতিক অস্তিত্বের পাশাপাশি তাদের অর্জিত সম্পদও শেষ হয়ে যাবে। তাই এ দেশে রাজনীতি করতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ফিরে আসতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয়, আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে : মাসুদ কামাল

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয়, আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে : মাসুদ কামাল
সংগৃহীত ছবি

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই  নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে, মানে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। সেটা মেয়র নির্বাচন হোক, সিটি করপোরেশন নির্বাচন হোক কিংবা ইউপি নির্বাচন হোক। সব নির্বাচনেই প্রার্থী থাকবে নির্দলীয়। মানে দলীয় প্রার্থী হতে পারে কিন্তু কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক মাসুদ কামাল।       

আজ বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সব নির্বাচনই নির্দলীয় হয়। একমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনটাই দলীয়ভাবে নির্বাচন হয়। যখন নির্দলীয় নির্বাচন হবে তখন প্রশ্ন উঠবে সেই নির্বাচনে কি যারা একসময় আওয়ামী লীগ করতেন তারা অংশ নিতে পারবেন? কারণ আওয়ামী লীগের তো এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন তো আছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ মানে আওয়ামী লীগ তাদের ব্যানারে  কিছু করতে পারবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের ব্যানারে বাইরে থাকে তারা কি তাহলে বিয়েশাদি করতে পারবে না? পারবে। তারা কি কোনো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারবে না? তাও পারবে। পারা উচিত বলে তিনি মনে করেন।   

তিনি আরো বলেন,  ‘যখন তাকে পারতে দেওয়া না হয়, তখন বুঝতে মব হচ্ছে। আর সে মব থামানো একটা বৈধ সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সরকার যদি না থামাতে পারে দুটো অর্থ হবে। একটা অর্থ হলো সরকার এই মবকে মদদ দিচ্ছে অথবা আরেকটা অর্থ হতে পারে যে সরকার মবকারীদের কাছে অসহায়। এই দুটোর একটা। দুটোর কোনোটাই সরকারের জন্য সম্মানজনক নয়।’ 

মাসুদ কামাল বলেন,  ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে এর একটা প্রাতিষ্ঠানিক  জবাব পাওয়া গেছে। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা  ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলন এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে ক্লিয়ার করেছেন। জাহেদ উর রহমান বলেছেন,  কোনোরকম সমস্যা নেই।  একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, যদি আওয়ামী লীগেরও হয় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। কারণ এটা নির্দলীয়, কেউ দলের কথা বলবেন না। তবে নির্দলীয় ব্যক্তি যদি প্রচারে আওয়ামী লীগ বা তাদের যা যা বলার সেটা বলেন তাহলে সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্বাচনের যে ক্রাইটেরিয়া আছে সেটি যদি পূরণ করতে পারেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই নির্বাচন করতে পারবেন।’ 

গোলাম মাওলা রনি

‘ইউনূস কম্পানি’র একটি অংশ চেহারা পাল্টে ফেলেছে, অন্য অংশ পালিয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
‘ইউনূস কম্পানি’র একটি অংশ চেহারা পাল্টে ফেলেছে, অন্য অংশ পালিয়েছে

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটা ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। এই ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’র সঙ্গে একটি বিশাল গ্রুপ যুক্ত ছিল, যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। গোলাম মাওলা রনি এই গ্রুপের নাম দিয়েছেন ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’।

ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’, তাদের দশা কী? তাদের সংখ্যা কত? তারা এখন কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন, কেমন আছেন, কী করছেন, কী করবেন—এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে বলি, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’ কেন বললাম। কম্পানির দুটো অর্থ আছে। এটি বাণিজ্যিক অর্থ। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাসে তার শাসন ক্ষমতাকেন্দ্রিক যে একটা বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন, সেই বাণিজ্যকেন্দ্রে যারা সিভিলিয়ানদের মধ্যে এই সময়টিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন—এদের একটা গ্রুপ আছে। সেখানে ধরেন, আকিজ বশির গ্রুপ, জামায়াতের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে—তারা এরকম বহু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময় শীর্ষ পর্যায়ে ছিলেন।”

তিনি বলেন, “আরেকটি গ্রুপ হলো, যাদের বাড়ি চট্টগ্রাম এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংক বা এই পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ এই ধরনের মানুষ, তারা সেনাবাহিনীতে থাকুন, বিজিবিতে, পুলিশ, র‍্যাব, সিভিল সার্ভিস—সব জায়গাতে প্রচণ্ড দাপট দেখিয়েছেন। ভালো ভালো পদ-পদবিতে থেকেছেন। এটা হলো সেই ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র আরেকটি পার্ট। ব্যবসায়ী এবং এই আমলাতন্ত্র। এর বাইরে ছিল রাজনীতিবিদদের একটা বিরাট অংশ। ছোট ছোট রাজনৈতিক দল, তারা অনেকেই ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র সদস্য, কিন্তু বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাদের একটা সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্ক হয়ে গেছে। তারা অনেকেই মন্ত্রিপরিষদে, পার্লামেন্টে, বিভিন্ন দূতাবাসে, বিভিন্ন করপোরেট হাউসে ইতিমধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র লোক।”

এর বাইরে এনজিও, ব্যাংকার। এনজিও এবং এই ব্যাংকিং সেক্টরে একটা বিরাট গ্রুপ। তার মধ্যে আবার দুটো শ্রেণি—একটা দেশীয় গ্রুপ, আরেকটা হলো বিদেশি গ্রুপ। যেমন—ব্র্যাক, প্রশিকা, এ রকম যেমন আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে আছে অক্সফার্ম, একশনএইড, ইউএসএইড—এ ধরনের এনজিওগুলো। এই এনজিওগুলোর একটা বিরাট লিডিং যারা আছেন, তারা কিন্তু এই ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র অংশ হিসেবে পুরো ১৮টি মাসে যা ইচ্ছা তাই করতে পেরেছেন। তারা ইচ্ছামতো ফান্ড এনেছেন, ফান্ড খরচ করেছেন, সরকারের টাকা নিয়েছেন। ছোট ছোট জরিপ করার জন্য, একটা রিপোর্ট তৈরি করার জন্য ১০০ কোটি, ১৫০ কোটি টাকা তারা নিয়েছেন।’

গোলাম মাওলা রনি আরো বলেন, এসব অলিগার্ক, হোয়াইট ক্রিমিনাল আবার শেষ সময়টিতে এসে, এদের অনেকে নিরপেক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পল্টি দিয়েছেন, বেঈমানি করেছেন, মুনাফিকি করেছেন। তারা এই সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই একটা কম্পানি আছে। এর বাইরে ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র আরেকটি অংশ, যেমন বিভিন্ন দূতাবাস— মার্কিন দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাস, মালয়েশিয়ান দূতাবাস, পাকিস্তানি দূতাবাস, এ রকম বেশ কয়েকটি দেশ এবং রাষ্ট্র মনে করত যে ইউনূস হলেন তাদের ত্রাতা। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে এই দূতাবাসগুলোর ভূমিকা ও কর্তৃত্ব ছিল সীমাহীন, অসীম। ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র এই ডিপ্লোম্যাটিক মিশন এই মুহূর্তে কোন অবস্থায় আছে?

তিনি উল্লেখ করেন, আর আরেকটি বিষয় হলো, ‘ইমপোর্টেড কম্পানি’। যেমন, আলী রীয়াজ, মনির হায়দার, লুৎফে সিদ্দিকী—এ রকম বিদেশ থেকে যাদের আনা হয়েছিল, অসংখ্য। আপনি হয়তো এই কয়জনকে দেখেছেন, কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন করপোরেট হাউসে, বিভিন্ন সরকারি অফিসে, বিভিন্ন সরকারি কম্পানিগুলোতে—সরকারি কম্পানি যেমন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা পেট্রোলিয়াম—এ রকম অসংখ্য সরকারি কম্পানি রয়েছে। অথবা ধরুন, মেট্রো রেল, এক্সপ্রেসওয়ে—এগুলো পরিচালনার জন্য আলাদা আলাদা কম্পানি গঠন করা আছে। এই কোম্পানির শীর্ষ পদে খোঁজ নিয়ে দেখেন, ইউনূস জামানাতে যারা ছিলেন, তারা এখন কোথায় আছেন।

তার ভাষ্যমতে, ইউনূসের জামানায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশ থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে—প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দেখা গেল, ইউনূস সেগুলো ব্যবহার করতে না পারায় দাতারা এগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এই যে ২০ বিলিয়ন ডলার আমরা নতুন করে ঋণ হয়েছি। শেখ হাসিনা রেখে গেছে ১০০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ইউনূস সাহেব যখন গেছেন তখন সেটা হয়ে গেছে ১২০ বিলিয়ন ডলার। এক-দুই বিলিয়ন ডলার কমবেশি হতে পারে। এ টাকা কারা খেয়েছে? কোথায় দেওয়া হয়েছে? এর মধ্যে কত পারসেন্ট লুটপাট হয়েছে, কত পারসেন্ট পাচার হয়েছে? এনজিগুলো কত পারসেন্ট পেয়েছে? ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’ কত পারসেন্ট পেয়েছে? রাষ্ট্রের কাজে কী হয়েছে? একটু হিসাব বের করেন।

তিনি আরো বলেন, ইউনূসের জমানায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ফান্ড দেওয়া, সুযোগ দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে অথবা ঋণ মওকুফ করে, বিভিন্নভাবে—ঋণ রিশিডিউল করে বিরাট একটা গ্রুপকে সুযোগ দেওয়ার নামে রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা শেষ করে দেওয়া হয়েছে। কখনো সরাসরি সাবসিডিজ দিয়ে, অথবা কখনো পকেট ভারী করে। এই টাকা কারা খেয়েছে, কারা নিয়েছে? এরপর ভর্তুকির নামে, লোকসানের নামে, প্রকল্পের নামে যেসব পাবলিক ওয়ার্কস হয়েছে বা এডিবি বাস্তবায়ন—প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা। তারা দুটো এডিবি পেয়েছে—শেখ হাসিনার জমানার এডিবি, আর তার জমানার এডিবি। এই দুটো এডিবিতে অ্যাটলিস্ট পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ কোটি টাকার পাবলিক ওয়ার্কস হওয়ার কথা। এটা যে হয়নি, তার তো প্রমাণ নাই। টাকাটা যে জমা পড়েছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। এই ৬ লক্ষ কোটি টাকা—কোথায় কোন রাস্তা এই দুই বছরে নির্মিত হয়েছে, কোথায় কতটা পাবলিক ওয়ার্কস হয়েছে, সামাজিক যেসব প্রকল্প চালু ছিল সেগুলোর অবস্থা কী? এগুলো হিসাব করলে আপনি দেখবেন যে মাত্র দুই বছরে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ, লোকাল ঋণ, সরকারি অর্থ, ঘুষ-দুর্নীতি—সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই লক্ষ কোটি টাকার কতটুকু রাষ্ট্রের জন্য ব্যয় হয়েছে, সরকারের জন্য ব্যয় হয়েছে, আর কতটুকু ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র যারা লোকজন রয়েছেন, তাদের পকেটে গেছে? আর যেসব টাকা পকেটে গেছে, দেশের মধ্যে কত আছে, আর দেশের বাইরে কত আছে? এসব হিসাব নিয়ে এখন আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আলাপ-আলোচনার কারণে এই ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র খুব কাছাকাছি যারা ছিলেন, তারাই এখন বলার চেষ্টা করছেন যে ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা এই দেশে যে সর্বনাশ করেছেন, তার চাইতে অনেক বেশি সর্বনাশ করেছে ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’ ১৭ মাসে।

তিনি বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের নৈতিক শক্তি নেই বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, তাদের যে লাজলজ্জা, এটাও উঠে গেছে। এর কারণে বহু মানুষকে অপমান, অপদস্থ, লাঞ্ছিত করতে করতে তাদের এমন একটা অবস্থা হয়ে গেছে—আত্মমর্যাদাবোধ তাদের আর থাকে না। আপনি যেকোনো সম্মানিত লোকরে অসম্মান করবেন, বাজে কথা বলবেন, গালাগাল দেবেন এবং ভালো ভালো পদে থেকে—এই কাজগুলো আপনি যখন করবেন, তখন একটা সময় দেখবেন আপনার যে কতটুকু মূল্যায়ন আছে, সেই মূল্যায়নটা আপনি করতে পারবেন না। কাজেই ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’র শীর্ষ পদে যারা ছিলেন, তারা সবাই প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করার, অপমান করার সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শন করেছেন। নিজেদের অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এমন নোংরামি নেই যে, তারা করেননি। ফলে কী হলো, তাদের কোনো মোরাল ক্যারেজ নেই। এই সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে, যারা ‘ইউনূস অ্যান্ড কম্পানি’, তাদের একটা বিরাট অংশের ভোল পাল্টে গেছে। বিরাট অংশ তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেছে বা একীভূত হয়েছে। আরেকটি অংশ গা ঢাকা না দিলেও তারা চেহারা পাল্টে ফেলেছে। আরেকটি অংশ দেশের বাইরে পালিয়ে চলে গেছে।

পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতির এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত সোমবার দুই তরুণের সঙ্গে এক পুলিশ সদস্যের হাতাহাতির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ লাঠি হাতে নিয়ে সামনের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করছেন এক পুলিশ সদস্য। কিন্তু সে কোনো কিছুতেই মানছে না, পরে পুলিশ সদস্য তার কাছ থেকে লাঠিটা কেড়ে নেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেন। এসময় পাশে থাকা আরেক তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেন।

ভিডিওর কমেন্টে অনেকেই ওই তরুণদের কিশোর গ্যাং বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে।

আরেকজন লিখেছেন, কিশোর গ্যাংদের ছাড় দেওয়ার মানে কি? বেয়াদবির উচিৎ শাস্তি হওয়া জরুরি নয় কি?

এই ভিডিওটি কোন জায়গা থেকে ধারণ করা হয়েছে এবং ওই তরুণদের পরিচয় কালের কণ্ঠ নিশ্চিত হতে পারেনি।