• ই-পেপার

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক বইয়ে সই করলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের ১৪ তলায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি সরকারি ছুটিসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের পরও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২-৪৭১২০৩০৯ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭৩৯-০০০২৯৩।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালে কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থা বা কম্পানির ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত হটলাইন ১৬৯৯৯-এর সঙ্গেও সার্বিক যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিনে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে নিজ দায়িত্বে অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি
ছবি : কালের কণ্ঠ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রবিবার (১২ জুলাই) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।

অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

কমিটিকে মাঠ পর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকিতে যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া এই কমিটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করতে কাজ করবে।

একই সঙ্গে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

গঠিত এই কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।

বন্যার্তদের সহায়তায় ৪ কোটি টাকা ও ৮৯৫০ টন চাল বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক
বন্যার্তদের সহায়তায় ৪ কোটি টাকা ও ৮৯৫০ টন চাল বরাদ্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা হিসেবে সারা দেশে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সাত জেলায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এসব বরাদ্দ দিয়েছে বলে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা এবং এক হাজার ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ টন চাল, খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল এবং হবিগঞ্জে ৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বাকি ৫৭ জেলার প্রত্যেকটিতে ৫ লাখ টাকা করে নগদ সহায়তা এবং ১০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। বর্তমানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স ও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। তবে এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতি দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি চিকিৎসকের পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। নার্সদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। সারাদেশে অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি নার্স পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন, আর শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টিতে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৬ হাজার ২৮৩ জন। ফলে মাঠ পর্যায়েই শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী বা এফডব্লিউএ পদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫০০টি হলেও কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ২০৭ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮ হাজার ২৯৩টি পদ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা এফডব্লিউভি পদের ৬ হাজার ৩৬১টির মধ্যে ৩ হাজার ১৬১টি পদই ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিএইচসিপি পদের ১৪ হাজার ৪৬০টির মধ্যে বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে ৫৪০টি পদ। স্বাস্থ্য সহকারী বা এইচএ পদের ২০ হাজার ৯০৯টির মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৫৩টি।

সংসদে মন্ত্রী আরো জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসকদের সংকট কাটাতে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একইসঙ্গে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। দশম গ্রেডের মিডওয়াইফ পদ পূরণের লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। বর্তমানে নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে, যা শেষ হওয়া মাত্রই তাদের পদায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

সবশেষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অতি দ্রুত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শূন্য পদগুলোতে জনবল পদায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।