• ই-পেপার

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ধর্মীয় উগ্রবাদ রুখতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলেন রুমিন

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মীয় উগ্রবাদ রুখতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলেন রুমিন
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার কিছু অংশে তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রেখে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। 

সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। 

বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।  

রুমিন ফারহানার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার আংশিক উপজেলার ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেনতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রীতি কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?  

ধর্ম বিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) এবং বিজয়নগর উপজেলার আংশিক এলাকার সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এই লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নানামুখী সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত অঞ্চলের তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন হতে দূরে এরখে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”  

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্থানীয় আলেম, ওলামা, ইমাম এবং খতিবগণের মাধ্যমে জুমার খুতবা, নিয়মিত ধর্মীয় সেমিনার ও সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে উগ্রবাদ ও গুজবের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হয়। এছাড়া উক্ত এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় রাখতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সমাবেশ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আগামীতে সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতায় যুব সমাজের জন্য এই ধরণের সচেতনতামূলক নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি কার্যক্রম আরও বেগবান করবার পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।”  

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আরো জানান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সচেতনমূলক কার্যক্রমে পুরোহিত ও সেবাইত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনামূলক ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য ছাত্র-যুবাদের জন্য নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়মিত আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে থাকে।  

এছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্ম বিষয়কমন্ত্রী। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের ১৪ তলায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি সরকারি ছুটিসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের পরও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২-৪৭১২০৩০৯ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭৩৯-০০০২৯৩।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালে কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থা বা কম্পানির ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত হটলাইন ১৬৯৯৯-এর সঙ্গেও সার্বিক যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিনে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে নিজ দায়িত্বে অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি
ছবি : কালের কণ্ঠ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রবিবার (১২ জুলাই) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।

অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

কমিটিকে মাঠ পর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকিতে যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া এই কমিটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করতে কাজ করবে।

একই সঙ্গে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

গঠিত এই কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।

বন্যার্তদের সহায়তায় ৪ কোটি টাকা ও ৮৯৫০ টন চাল বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক
বন্যার্তদের সহায়তায় ৪ কোটি টাকা ও ৮৯৫০ টন চাল বরাদ্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা হিসেবে সারা দেশে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সাত জেলায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এসব বরাদ্দ দিয়েছে বলে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা এবং এক হাজার ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ টন চাল, খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল, মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল এবং হবিগঞ্জে ৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বাকি ৫৭ জেলার প্রত্যেকটিতে ৫ লাখ টাকা করে নগদ সহায়তা এবং ১০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।