চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়াচর কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের (এপিএম টার্মিনালস) সঙ্গে করা কনসেশন চুক্তি বাতিল বা পুনঃ চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে।’
সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়াচর এলাকায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।’
তিনি জানান, পরে ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়কসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় ডেনমার্ক সরকার এপিএম টার্মিনালসের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মতি জানায়। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করার পর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিএপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ ৩৩ বছর, যার মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরবর্তীতে আরো ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় নির্মিতব্য এই টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর ফলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।’





