• ই-পেপার

বন্যাদুর্গতদের জন্য বিপিসির ত্রাণ

নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া কুমিল্লার সেই কেন্দ্র পরিবর্তন

কুমিল্লা প্রতিনিধি
নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া কুমিল্লার সেই কেন্দ্র পরিবর্তন
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড। ওই কেন্দ্রের পরিবর্তে নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়ে পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান। 

অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়ে পরীক্ষা দেবে। পরবর্তীতে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটি জানিয়ে দেওয়া হবে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুটি নৌকা ও দুটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তীবরানি বলেন, যখন পরীক্ষা শুরু হচ্ছিল তখন বৃষ্টিও হচ্ছিল। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রচুর পানি জমে যায়। যে কারণে পরীক্ষার্থীদের আসতে দেরি হওয়ায় আমরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে ৩০ মিনিট বেশি পরীক্ষা নিয়েছি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাতে এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

একতা এক্সপ্রেসের ২ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
একতা এক্সপ্রেসের ২ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের অদূরে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্ত নগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ঈশ্বরদী-ঢাকা-পার্বতীপুর রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে প্রবেশের আগেই ট্রেনটির দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ ডিজেল কারখানা থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। দ্রুত লাইনচ্যুত বগি দুটি উদ্ধার করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।

সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

সুনামগঞ্জ প্রতিনিনিধি
সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প
ছবি : কালের কণ্ঠ

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকার বন্যার্ত মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) তাহিরপুর উপজেলার লাউরগড় সীমান্ত এলাকায় একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করে। এতে স্থানীয় প্রায় ৫০০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেন বিজিবি সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর মেডিক্যাল কর্মকর্তা মেজর চৌধুরী ইমরান মাহমুদ এবং তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. নাজমুল আরেফিন।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহায়তা দিয়ে আসছে বাহিনীটি। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে বিজিবির মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

ময়মনসিংহ বিভাগ

বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৩৯৮ পুকুরের মাছ

সব মিলে কোটি টাকার ক্ষতি  ৭০ শতাংশই ময়মনসিংহের

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৩৯৮ পুকুরের মাছ
টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বহু পুকুরের মাছ। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ডুবে যাওয়া একটি পুকুরের পাশে। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

গত বুধবার রাত থেকে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় কখনো ভারি ও কখনো মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে ভেসে গেছে বহু পুকুরের মাছ। 

মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের মোট ৩৯৮টি পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে। এর পুকুরের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ পুকুর ময়মনসিংহ এবং ২০ শতাংশ নেত্রকোনা জেলার। বাকি ১০ শতাংশ শেরপুর ও জামালপুর জেলার। আজ সোমবার পর্যন্ত বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে আরো বেশি ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। 

বৃষ্টি থামলে জেলাভিত্তিক ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে বলে সূত্র জানায়।

বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, ময়মনসিংহ বিভাগে ডুবে যাওয়া ৩৯৮টি পুকুরের আয়তন প্রায় ৫০ হেক্টর। এসব পুকুর থেকে ভেসে গেছে মোট ৪২ টন মাছ, যার বাজার মূল্য ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওইসব পুকুর থেকে পোনা ভেসে গেছে অন্তত তিন লাখ, যার মূল্য পাঁচ লাখ টাকা।

বিভাগের চার জেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। গত বুধবার রাতভর বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ শহর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার পুকুর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এতে অন্য এলাকা ছাড়াও দুর্ভোগে পড়ে ময়মনসিংহ নগরের বাসিন্দারা। নগরের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের বসতঘরেও ঢুকে পড়ে  বৃষ্টির পানি।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আবহওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ময়মনসিংহে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টিপাত থেমে থেমে আর সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টিপাত চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ফুলাবিড়য়া, গৌরীপুর, মুক্তাগাছা, তারাকান্দা ও ফুলপুরে গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে অনেক পুকুর ডুবে যায়। মধ্যরাত থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পুকুর রক্ষা করতে পারেননি চাষিরা।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সাহেব কাচারি এলাকার মাছ চাষি নুরুল হক বলেন, বৃষ্টিতে গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চাষের পুকুর ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে। এতে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গভীর রাতে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেক চাষি পুকুর রক্ষা করতে পারেননি।

মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক রিপন কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বৃষ্টিতে ভেসে মাছ বের হয়ে যাওয়া পুকুরের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে বিভাগের চার জেলায় খোঁজ রাখছি।

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, টানা বৃষ্টিতে পুকুর ডুবে মাছ বের হয়ে গেলেও ময়মনসিংহ বিভাগের কৃষিতে তেমন ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে মাঠে রয়েছে আউশ ধান, কিছু সবজি আবাদ আর আমনের বীজতলা। বৃষ্টিতে এসব ফসলের কোনো ক্ষতি এখন পর্যন্ত হয়নি। 

মশিউর রহমান জানান, আমনের বীজতলা সাধারণত একটু উঁচু জমিতে করা হয়, এ কারণে ময়মনসিংহ বিভাগের কোথাও আমনের বীজতলা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজ (সোমবার) পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। ফসলের ক্ষতি হলে সে তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের জানাবেন।’