‘ব্যবসা করতে হলে আমাদের এককালীন ২ কোটি টাকা দিতে হবে। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে।’
চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ফোন করে এভাবেই চাঁদা দাবি করা হয়। ওই দাবিতে সাড়া না দেওয়ার দুই দিনের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সংক্রান্ত ছয় মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি অডিও কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।
অডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি ডেভিড ইমন। ১৬-১৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। এখন ব্যবসা করতে হলে আমাদের এককালীন ২ কোটি টাকা দিতে হবে। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আমার বিস্তারিত পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জেনে নেবেন। বেশি দূরে যেতে হবে না—আমি কে, আমার নম্বরটা পুলিশ কমিশনারকে দেখাবেন।’
প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ফোনে চাঁদা দাবির সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। তিনি চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।
ডিডিএনের কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি মুখোশধারী ও দেশীয় অস্ত্রধারী দল হঠাৎ করে অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অফিসের কম্পিউটার, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।
প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস মো. রবিউল হোসাইন রাকিব বলেন, ‘দুই-তিন দিন আগে মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করায় হামলাকারীরা অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।’
তিনি আরো দাবি করেন, হামলার সময় অফিসে থাকা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এছাড়া মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট করার পাশাপাশি কর্মীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে ডিসি হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা করা হয়েছে। এছাড়া ফোন করে চাঁদা চাওয়ার একটি অডিও আমরা হাতে পেয়েছি। অফিস ভাঙচুরের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’’






