• ই-পেপার

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বৃহস্পতিবার

বন্যায় কোনো মানুষ খাবারের অভাবে কষ্ট পাবে না : ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় কোনো মানুষ খাবারের অভাবে কষ্ট পাবে না : ডিসি ফরিদা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বন্যা পরিস্থিতিতে কোনো মানুষ যেন খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার ধামালকোট উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘একটি মানুষকেও ক্ষুধার অভাবে মরতে দেওয়া যাবে না। সরকার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে রয়েছে। যাদের প্রয়োজন, তাদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। কোনো এলাকায় ত্রাণের সংকট বা সহায়তা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদা খানম আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চান। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, নিরাপদ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন এবং শিশু, নারী ও বয়স্কদের বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা, স্যানিটেশন ও শিশু খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো দুর্গত পরিবার যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।’

ডেমরায় মাদরাসায় বিস্ফোরণ, ৫ শিক্ষার্থী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেমরায় মাদরাসায় বিস্ফোরণ, ৫ শিক্ষার্থী আহত

ঢাকার ডেমরার একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদরাসার শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডেমরা পূর্ব বক্সনগর এলাকার 'দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা'র ষষ্ঠ তলায় সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

ডেমরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবাসিক মাদরাসাটিতে শিক্ষার্থীরা খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাচ্ছিল। সেখানের একটি কক্ষে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।’

আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, আহতরা জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে রেদোয়ান নামের একজনের অবস্থা গুরুতর।

ওই মাদরাসা শিক্ষার্থী মো. আকাশ জানিয়েছে, ষষ্ঠ তলায় বৈদ্যুতিক বোর্ড থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দেয়ালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই কক্ষে শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়েছিল। ঘুমে থাকা শিক্ষার্থীরাই আহত হয়েছে। অন্যরা দ্রুত কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসাবে গত এক দিনে ঢাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। রবিবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সংস্থাটির বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিন্যাসে ১ থেকে ১০ মিলিমিটারকে হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটারকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটারকে মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটারকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ হাজার টাকার জন্য ভাড়াটিয়াকে হত্যা, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ হাজার টাকার জন্য ভাড়াটিয়াকে হত্যা, আটক ২

রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার পাওনা ১ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টারের ৪ নম্বর ভবনের ৮১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে ও সংলগ্ন মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি ও তার ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি কক্ষে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।

নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমার ভাই স্বপন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধে জড়াতেন না। আমরা দুই ভাই এখানে সাবলেটে (ভাড়ায়) থাকতাম। অভিযুক্ত রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই আমাদের কাছে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে মাত্র ১ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে আমরা বলি, দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করে দেব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিজভী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আজ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রিজভী এবং তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের রুমের সামনে এসে চড়াও হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে তারা সেলিমকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এরপর বৃদ্ধ স্বপনকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের একটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি ও বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করা হয়।

মারধরের একপর্যায়ে স্বপন অচেতন ও মুমূর্ষু হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ঘটনার পরপরই তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানায় জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান।