• ই-পেপার

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান ফেরমিন উৎসবে লাখো পর্যটকের ঢল

ইউক্রেনের মালবাহী জাহাজে রুশ হামলা, ৩ জনের প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের মালবাহী জাহাজে রুশ হামলা, ৩ জনের প্রাণহানি
ওডেসায় রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় স্থাপনা। ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে মালবাহী জাহাজে রাশিয়ার হামলায় তিনজন ক্রু নিহত হয়েছেন। এতে আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই)  ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এবং ওডেসার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, জাহাজটি টোগোর পতাকাধারী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। খনিজ সার বহনকারী জাহাজটি হামলার সময় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের আরো ২ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের আরো ২ বছরের কারাদণ্ড
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিনা মূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এই রায় তার চলমান আইনি সংকটকে আরো গভীর করেছে।

অন্য একটি মামলায় সামরিক আইন জারির আগে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগে ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবারের রায়টি সামরিক আইনসংক্রান্ত মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

৬৫ বছর বয়সী ইউন ইতোমধ্যেই কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে একটি পৃথক মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি বর্তমানে আপিল করছেন।

এই মামলায় ইউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২১-২২ সালে একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে তার দলের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে সমর্থন করার বিনিময়ে তিনি বিনা মূল্যে জনমত জরিপের সুবিধা নিয়েছিলেন।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত ইউন সুক ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়ে আদালত বলেছে, ইউন ও তার স্ত্রী কিম কিওন হি প্রভাবশালী দালাল মিয়ং তে-কিউনের সমর্থিত এক প্রার্থীকে সমর্থন করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ১৪টি বিনা মূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণ করেছিলেন।

আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউন সুক ইওলের কর্মকাণ্ড রাজনীতির প্রতি জনগণের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিকাশ সম্পর্কে মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘তাই আসামির অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।’

একই মামলায় প্রভাবশালী দালাল মিয়ং তে-কিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্তটি মূলত অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় বৃহস্পতিবার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে তিনি খালাস পেয়েছিলেন। তবে অন্য মামলায় কিম ইতোমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। 

উপহারের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে একটি ঘুষ মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় তিনি আরো চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করে ইউন সুক ইওল দক্ষিণ কোরিয়াকে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে ফেলেন। বিরোধী দলের আইন প্রণেতারা দ্রুত সেই আদেশ বাতিল করেন। পরে তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, দুই দেশের সম্পর্ক আরো অবনতির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, দুই দেশের সম্পর্ক আরো অবনতির শঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

একসঙ্গে মিলে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভালো নয়। অভিবাসন, বাণিজ্য, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা আরো বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাকর সীমান্তগুলোর একটি। গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় সম্পর্কের আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসিই-এর গুলিতে প্রাণ হারান মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো। আইসিই কর্মকর্তাদের দাবি, সালগাদো আরাউজো বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। একটি ট্রাফিক সিগনালে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং মৌখিক নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন। যার প্রতিক্রিয়ায় এজেন্টরা তাকে গুলি করে।

তবে তার পরিবার আইসিই-এর এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। তিন সন্তানের পিতা ৫২ বছর বয়সী আরাউজোর পরিবার জানিয়েছে, তার পিছু নেওয়া গাড়িটি যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ছিল, তা জানা থাকলে তিনি অবশ্যই গাড়ি থামাতেন।

তবে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজোই আইসিইর প্রথম শিকার নন। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিইর হাতে এখন পযর্ন্ত ১৭ জন মেক্সিকান প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসায় অবহেলা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে মারা গেছেন ১৪ জন। বাকি ৩ জন আইসিই’র অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় নিহত হন।
তবে আরাউজোর মৃত্যুর ঘটনাটি যেন দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা সমস্যার আগুনে পেট্রল ঢেলেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অভিযান বা আটক কেন্দ্রগুলোতে ১৭ মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান। মেক্সিকান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তদন্তের দাবির মূল উদ্দেশ্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকানদের মানবাধিকার রক্ষা করা।

তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের এ ব্যতিক্রমী এ আহবান মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবেই সমাধান করা উচিত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্য দাবি করাটা ঠিক হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, আরো আগেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। ১৭ জনের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হয়নি। তবে শিনবাউমের ব্যতিক্রমী সংবাদ সম্মেলন যে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আরো উত্তাপ আনবে, এ ব্যাপারে সবাই একমত।

শিনবাউমের মন্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অবশ্য আইসিই-এর পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। সংস্থাটি সিএনএনকে জানিয়েছে, ‘জনসাধারণ এবং আমাদের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইসিই এজেন্টদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’

সংস্থাটি আরও জানায়, ‘আইসিই হেফাজতে থাকা আটক ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পান, তাদের পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং তাদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে।’

ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো-এর উত্তর আমেরিকা গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষাবিদ হোসে লুইস ভালদেস উগালদে শিনবাউমের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি কোনো ছোটখাটো ঘটনা নয়। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ঝুলে থাকা বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং বাণিজ্য।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফাউস্তো প্রেতেলিন বলেন, সালগাদো আরাউজোর হত্যাকাণ্ডের পর মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ সময়ে এসে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, এ সংবাদ সম্মেলনে শিনবাউম হয়তো মেক্সিকোতে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন। তবে এটা দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

প্রেতেলিন মনে করেন, সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক পথই অবলম্বন করা উচিত ছিল। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলে, কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানে সুযোগ কম।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো সাংবাদিকদের বলেন, মেক্সিকো সরকার তাদের নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতিমধ্যেই ১১টি কূটনৈতিক প্রতিবাদী চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তাই এখন কূটনীতির বাইরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হচ্ছে।

প্রেতেলিন এবং ভালদেস শিনবাউমের প্রকাশ্য দাবির সমালোচনা করলেও বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি। নাগরিকদের জীবন রক্ষায় তাকে আরো আগেই আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং কলামিস্ট তোমাস মিল্টন মুনিয়োজ ব্রাভো বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য যে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষকে কেবল কূটনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে বিচারিক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার মতো একটি কৌশল ঘোষণা করতেই ১৭টি মৃত্যুর অপেক্ষা করতে হলো। তবে আমি এখনো দেখতে চাই যে, যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে সেগুলো বাস্তবে কিভাবে কার্যকর করা হয়।’

মুনিয়োজ ব্রাভো বলেন, নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তা মেক্সিকোর জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের যদি উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, তবে সেখানে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে, যা মেক্সিকোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পক্ষের সাথে আলোচনার সুযোগ করে দেবে। তবে আপাতত সম্পক পুনর্গঠনের কোনো লক্ষণ নেই। দুই পক্ষের অনড় অবস্থান সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।

রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত দুই শহর

অনলাইন ডেস্ক
রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত দুই শহর
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চালানো এসব হামলায় দেশটির ওদেসা অঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া চেরনিহিভ অঞ্চলে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।

ওদেসা সিটি সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক জানান, সোমবার ১৩ জুলাই ভোরে রুশ বাহিনী ওদেসা শহরে হামলা চালায়। এতে শহরের পরিবহন অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লিসাক বলেন, শহরের পরিবহন অবকাঠামোতে আঘাত লেগেছে। তারা হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, একটি পার্কিং এলাকায় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানে থাকা কয়েক ডজন গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে ওদেসা সিটি সামরিক প্রশাসন জানায়, রুশ বাহিনী একটি পরিবহন কোম্পানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি বাসে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি আশপাশের চারটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় ৫৮, ৬২ ও ৬৬ বছর বয়সী তিনজন পুরুষ আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

এর আগে রবিবার গভীর রাতেও ওদেসা অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবন এবং একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপরের অংশে আঘাত করে। আরেকটি ড্রোন নির্মাণসামগ্রীর একটি বড় দোকানের ছাদে আঘাত হানে। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনটি রাইদুঝনি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। হামলার পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জরুরি কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় জাপোরিঝঝিয়া শহরেও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, এ হামলায় ৭৩ ও ৩২ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, হামলায় কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, যানবাহন এবং একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফেদোরভ বলেন, ভবনের সামনের অংশ, জানালা, বারান্দা, ছাদ এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। সোমবার সকালে ফেদোরভ জানান, রাতে চালানো হামলায় আহত মোট পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে রুশ হামলার কারণে চেরনিহিভ অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চেরনিহিভওবলেনেরহো জানিয়েছে, প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চেরনিহিভ ও কোরিউকিভকা জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জরুরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়ছে।