সুদানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত রবিবার আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি), তার দুই ভাইসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এক আঞ্চলিক গভর্নরকে হত্যা এবং যুদ্ধকালীন নৃশংসতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
পশ্চিম দারফুরের রাজধানী এল জেনেইনায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত এই রায় দেন।
২০২৩ সালের জুনে পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আবাকারকে আরএসএফ যোদ্ধারা আটক করে তাদের স্থানীয় সদর দপ্তরে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহর উপস্থিতিতে তাকে সেখানে হত্যা করা হয়। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তার মরদেহ বিকৃত করার দৃশ্য দেখা যায়।
পোর্ট সুদানের আদালতের বিচারক জানান, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি), তার ভাই আবদেলরহিম দাগালো ও আল-কনি হামদান দাগালোসহ আরো ১৩ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এল-তিজানি আল-তাহির কারশুম, আরএসএফের বর্তমান রাজ্য কমান্ডার ইদ্রিস হাসান হারুন, কয়েকজন আরব গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফ-সমর্থক এক কর্মী।
আদালত ১৬ জন আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিষিদ্ধ যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এ ছাড়া আদালত আরএসএফের সব সম্পদ সুদানের সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারক বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া সুদানের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এসব অপরাধ রাজনৈতিক ক্ষমার আওতায়ও পড়ে না। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি ধ্বংস ও লুটপাট এবং বেসামরিক মানুষ, আবাসিক এলাকা, স্কুল ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার জন্য আরএসএফ প্রধান হেমেত্তি আইনগতভাবে দায়ী।
অন্যদিকে, আবদেলরহিম দাগালোকে এল জেনেইনা শহর অবরোধের পরিকল্পনা, বাসিন্দাদের ওপর কঠিন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া, বেসামরিক লোকজনকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং মাসালিত জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশ নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আদালত আল-কোনি দাগালোকে এল জেনেইনায় হামলায় সহায়তা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বিচারকের মতে, তিনি জানতেন যে, আরএসএফ বাহিনী সেখানে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তবুও হামলায় সহযোগিতা করেছেন।
আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহকে মাসালিত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত হামলার সময় আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে এসব হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সহিংসতা বেড়ে গেলে মাসালিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ এল জেনেইনা ও পশ্চিম দারফুরের অন্যান্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে পূর্ব চাদের সীমান্তে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।





