ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চালানো এসব হামলায় দেশটির ওদেসা অঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া চেরনিহিভ অঞ্চলে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
ওদেসা সিটি সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক জানান, সোমবার ১৩ জুলাই ভোরে রুশ বাহিনী ওদেসা শহরে হামলা চালায়। এতে শহরের পরিবহন অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লিসাক বলেন, শহরের পরিবহন অবকাঠামোতে আঘাত লেগেছে। তারা হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, একটি পার্কিং এলাকায় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানে থাকা কয়েক ডজন গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে ওদেসা সিটি সামরিক প্রশাসন জানায়, রুশ বাহিনী একটি পরিবহন কোম্পানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি বাসে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি আশপাশের চারটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় ৫৮, ৬২ ও ৬৬ বছর বয়সী তিনজন পুরুষ আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এর আগে রবিবার গভীর রাতেও ওদেসা অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবন এবং একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপরের অংশে আঘাত করে। আরেকটি ড্রোন নির্মাণসামগ্রীর একটি বড় দোকানের ছাদে আঘাত হানে। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনটি রাইদুঝনি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। হামলার পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জরুরি কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাপোরিঝঝিয়া শহরেও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, এ হামলায় ৭৩ ও ৩২ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, হামলায় কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, যানবাহন এবং একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফেদোরভ বলেন, ভবনের সামনের অংশ, জানালা, বারান্দা, ছাদ এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। সোমবার সকালে ফেদোরভ জানান, রাতে চালানো হামলায় আহত মোট পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে রুশ হামলার কারণে চেরনিহিভ অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চেরনিহিভওবলেনেরহো জানিয়েছে, প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চেরনিহিভ ও কোরিউকিভকা জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জরুরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়ছে।






