• ই-পেপার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাঁকে।

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা  বলা ও তাঁদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সমবেদনা

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সমবেদনা

বাংলাদেশে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। রবিবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি সমবেদনা জানান।

পোস্টে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, চলমান মৌসুমি বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সরকার এবং জনগণের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর এবং যাদের জীবিকা ব্যাহত হয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। এই কঠিন সময়ে মালদ্বীপ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, শক্তি ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।

ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তিতে ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তিতে ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা পৌরসভার ৪১৬ বছরপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ আগস্ট ‘ঢাকা উৎসব’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম। 

সোমবার ডিএসসিসির অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় সবাইকে ‘ঢাকা উৎসব’-এর আমন্ত্রণ জানান।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগামী ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভার ৪১৬ বছরপূর্তি হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ১ আগস্ট আমরা ঢাকা উৎসব উদযাপন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উৎসব অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সম্মতি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের কৃষ্ঠি, সাহিত্য, ঐতিহ্য—আমরা মানুষের মনে ফিরিয়ে দিতে চাই।

ঢাকা দিবস উদযাপনে ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৭ দিনের কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ সিটি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রথম দিন লালবাগ কেল্লা থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আদি ঢাকার খাবারের স্টল পরিদর্শন, ক্লিন ঢাকা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, ঘুড়ি উৎসব, নৌকাবাইচসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।’

বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের থেকে চলতি মাসের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর

বাসস
বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের থেকে চলতি মাসের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর
রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটির বন্যাকবলিত এলাকার অতিদরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চলতি মাসের ঋণের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ রবিবার (১৩ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের কারণে যেন কোনো এনজিও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা আদায় না করে—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানাতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় এ অঞ্চলের অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে চলতি মাসের কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এ মাসের কিস্তি পরবর্তী সময়ে গ্রহণ এবং বিলম্বের কারণে কোনো ধরনের সুদ বা জরিমানা আরোপ না করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে আমার এই অনুরোধ পৌঁছে দেবেন।’

বৈঠকের আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য যুগ্ম সচিব সুমন বড়ুয়া, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী জালাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।