• ই-পেপার

ইডেন কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ক্যারিয়ার গাইডলাইন বিষয়ক সেমিনার

বান্দরবানে বন্যার্তদের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানে বন্যার্তদের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ
সংগৃহীত ছবি

চারদিকে শুধু পানি। কোথাও বুকসমান, কোথাও গলা ছুঁই ছুঁই। প্রবল স্রোতে ডুবে গেছে পাহাড়ি জনপদের চলাচলের পথ। কোনো কোনো ঘরের চাল পর্যন্ত উঠে এসেছে বন্যার পানি। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি মানুষের অনেকের ঘরে নেই পর্যাপ্ত খাবার, বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম। এমন দুর্যোগের মধ্যেই দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বন্যার্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা নিয়ে পৌঁছেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম মেরিংচর পাড়ায় বন্যাদুর্গত বেশকিছু  পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই পাহাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মেরিংচর পাড়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহ করা অনেক পরিবারের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন।

ত্রাণ পেয়ে স্বস্তির কথা জানান উপকারভোগীরা। এক বন্যার্ত ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। কাজকর্ম বন্ধ, আয়-রোজগার নেই। বন্যায় ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে। এমন কঠিন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকি নিয়েই মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মতে, সংকটের এই সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

ত্রাণ বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখার সভাপতি এস. এম. জিয়াউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের মূল লক্ষ্য। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। যত দিন প্রয়োজন হবে, তত দিন আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদেরও মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

ত্রাণ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবু, সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য আরাফাতুল ইসলাম, সেথং ম্রো, মেনচং ম্রোসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক।

খাদ্যসহায়তা বিতরণের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যাকবলিত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও বন্যাকালীন বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষও যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বন্যাকবলিত পরিবারগুলো দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। আর এমন মানবিক উদ্যোগই দুর্যোগের সময় মানুষের মনে আস্থা ও সাহস জোগায়।

‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনাসভা

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনাসভা
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, মানবতাবাদ, সাম্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে বরগুনার বেতাগীতে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বেতাগী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও সাহিত্যচর্চা বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ কামাল হোসেন খান। সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি স্বপন কুমার ঢালী। এতে শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সংগীত, সাম্যবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম পান্না বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে নিয়মিত এমন উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিশেষ অতিথি বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, প্রেম ও সম্প্রীতিরও কবি। তাঁর সাহিত্য আজও অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করে।’

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মো. সেকান্দার আলী মৃধা বলেন, ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবিক, প্রগতিশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।’

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নেছার উদ্দিন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জলিলুর রহমান খান এবং বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ সিকদার।

আলোচনা শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাপনী বক্তব্যে আলহাজ কামাল হোসেন খান বলেন, ‘জাতীয় কবির আদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘শুভ কাজে সবার পাশে’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তারের মাধ্যমে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার আহ্বানও জানান তিনি।’

সবশেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কেশবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে সাহিত্য আসর

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
কেশবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে সাহিত্য আসর
ছবি: কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সু-সাহিত্যিক মনোজ বসু, চলচ্চিত্র অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্য ও সাহিত্যিক মানকুমারী বসুর জীবন ও সৃষ্টির উপর সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ৫টায় কেশবপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এই আসর অনুষ্ঠিত হয়।  

এতে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর শাখার সহসভাপতি প্রবীর সরকার।

সাহিত্য আসরে চার কবি-সাহিত্যিকের জীবন ও কর্মের উপর আলাদাভাবে আলোচনা হয়। বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও সাহিত্যের উপর আলোচনা করেন মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ। 

কালজয়ী সাহিত্যিক মনোজ বসুর জীবন ও সৃষ্টির উপর আলোচনা করেন আবু শরাফ সাদেক কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কানাইলাল ভট্টাচার্য।

সাহিত্যিক মানকুমারী বসুর জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদ-এর সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা করেন লেখক, প্রাবন্ধিক ও জামিরা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।

পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় সাহিত্য আসরের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, কেশবপুরের চার প্রধান কবিকে নিয়ে শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

সাহিত্য আসরে কেশবপুর নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল, প্রধান শিক্ষক নিখিল দাস, প্রভাষক রেজাউল ইসলাম, শিক্ষক আব্দুল খালেক, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসভাপতি সমীর দাস, সুব্রত বসু, শুভসংঘ কেশবপুর শাখার নারী বিষয়ক সম্পাদক হাসিনা খাতুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহীদা সুলতানা, ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী, সাংবাদিক শাহীনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, কামরুজ্জামান রাজু, তাইফুর রহমানসহ স্থানীয় বহু কবি সাহিত্যিক এবং বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আরো উপস্থিত ছিলেন। 

আসরে উপস্থিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া খাতুন বলে, জীবনে প্রথম কবি সাহিত্যিকদের আলোচনা শুনলাম। আমার খুব ভালো লেগেছে।

ভালুকা

নবজাতকের আগমন উপলক্ষে পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
নবজাতকের আগমন উপলক্ষে পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই নবজাতকের পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ও বিকেলে শুভসংঘের সদস্যরা নবজাতকদের স্বজনদের হাতে এসব চারা তুলে দেন সংগঠনটির সদস্যরা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের মো. নাছিম আরাফাত ও হাবিবা আক্তার দম্পতির ঘরে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ভালুকা সদরের মাহির হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুটি তাদের তৃতীয় সন্তান। এর আগে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নবজাতকের জন্মের খবর পেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভালুকা শাখার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের হাতে তিনটি গাছের চারা তুলে দেন।

একই দিন বিকেলে শুভসংঘের সদস্যরা ভালুকা মাস্টার হাসপাতালেও যান। সেখানে জন্ম নেওয়া আরেক নবজাতকের পরিবারের হাতেও তিনটি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভালুকা শাখার উপদেষ্টা ও অ্যাপোলো ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটারের অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান লিটন, উপদেষ্টা ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুশফিকুর রহমান, উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ভালুকা প্রতিনিধি মোখলেছুর রহমান মনির, শাখার সভাপতি প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম সুবিন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল ফাহিম খান এজাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাবিল পাঠান, দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, প্রচার সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম জিনু এবং সদস্য প্রসেনজিৎ, বিজয় কৃষ্ণ, মো. শাহাদাত হোসেন ও আরিফ আহাম্মেদ উদয়।

ডা. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য, আর সেই অক্সিজেনের প্রধান উৎস গাছ। শুধু অক্সিজেনই নয়, গাছ আমাদের খাদ্য, ওষুধ, কাঠসহ জীবনের নানা প্রয়োজন মেটায়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের জন্য বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমরা যত গাছ কাটব, তার চেয়ে বেশি গাছ রোপণ করতে হবে এবং সন্তান লালনের মতোই সেগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। নবজাতকের জন্মের সঙ্গে  বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গাছের চারা উপহার  সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে শিশুর পাশাপাশি গাছও বড় হবে এবং ভবিষ্যতে তা পরিবেশের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

শাখার সভাপতি প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম সুবিন বলেন, ‘নবজাতকের পরিবারকে গাছের চারা উপহার দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মহৎ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ সেই তুলনায় অনেক কম। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টিসহ নানা পরিবেশগত সংকট দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিটি নবজাতকের নামে তিনটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়ার উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিশুর সঙ্গে গাছও বেড়ে উঠবে এবং একসময় তা পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। বেশি বেশি গাছ রোপণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’


সাধারণ সম্পাদক আফজাল ফাহিম খান এজাজ বলেন, ‘শিশুর জন্ম যেমন  পরিবারের জন্য আনন্দ ও আশীর্বাদের, তেমনি  গাছের চারা রোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও প্রকৃতির জন্য আশার প্রতীক। তাই প্রতিটি নবজাতকের পরিবারকে তিনটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, শিশুটি যেমন স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হবে, তেমনি গাছগুলোও পরিচর্যায় বেড়ে উঠে একদিন ফল, ফুল, ছায়া ও নির্মল অক্সিজেন দিয়ে সমাজ ও পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে। প্রতিটি শিশুর জন্মকে একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে স্মরণীয় করে তুলতে চাই। এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।’

হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে না পারলেও নবজাতকের বাবা মো. নাছিম আরাফাত মুঠোফোনে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘উপহার পাওয়া গাছের চারাগুলো তিনি যত্নসহকারে রোপণ ও পরিচর্যা করবেন, যাতে সন্তানের সঙ্গে সেগুলোও বড় হয়ে ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়।’