• ই-পেপার

কেশবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে সাহিত্য আসর

ভালুকা

নবজাতকের আগমন উপলক্ষে পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
নবজাতকের আগমন উপলক্ষে পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই নবজাতকের পরিবারকে গাছের চারা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ও বিকেলে শুভসংঘের সদস্যরা নবজাতকদের স্বজনদের হাতে এসব চারা তুলে দেন সংগঠনটির সদস্যরা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের মো. নাছিম আরাফাত ও হাবিবা আক্তার দম্পতির ঘরে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ভালুকা সদরের মাহির হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুটি তাদের তৃতীয় সন্তান। এর আগে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নবজাতকের জন্মের খবর পেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভালুকা শাখার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের হাতে তিনটি গাছের চারা তুলে দেন।

একই দিন বিকেলে শুভসংঘের সদস্যরা ভালুকা মাস্টার হাসপাতালেও যান। সেখানে জন্ম নেওয়া আরেক নবজাতকের পরিবারের হাতেও তিনটি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভালুকা শাখার উপদেষ্টা ও অ্যাপোলো ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটারের অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান লিটন, উপদেষ্টা ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুশফিকুর রহমান, উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ভালুকা প্রতিনিধি মোখলেছুর রহমান মনির, শাখার সভাপতি প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম সুবিন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল ফাহিম খান এজাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাবিল পাঠান, দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, প্রচার সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম জিনু এবং সদস্য প্রসেনজিৎ, বিজয় কৃষ্ণ, মো. শাহাদাত হোসেন ও আরিফ আহাম্মেদ উদয়।

ডা. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য, আর সেই অক্সিজেনের প্রধান উৎস গাছ। শুধু অক্সিজেনই নয়, গাছ আমাদের খাদ্য, ওষুধ, কাঠসহ জীবনের নানা প্রয়োজন মেটায়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের জন্য বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমরা যত গাছ কাটব, তার চেয়ে বেশি গাছ রোপণ করতে হবে এবং সন্তান লালনের মতোই সেগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। নবজাতকের জন্মের সঙ্গে  বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গাছের চারা উপহার  সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে শিশুর পাশাপাশি গাছও বড় হবে এবং ভবিষ্যতে তা পরিবেশের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

শাখার সভাপতি প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম সুবিন বলেন, ‘নবজাতকের পরিবারকে গাছের চারা উপহার দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মহৎ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ সেই তুলনায় অনেক কম। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টিসহ নানা পরিবেশগত সংকট দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিটি নবজাতকের নামে তিনটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়ার উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিশুর সঙ্গে গাছও বেড়ে উঠবে এবং একসময় তা পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। বেশি বেশি গাছ রোপণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’


সাধারণ সম্পাদক আফজাল ফাহিম খান এজাজ বলেন, ‘শিশুর জন্ম যেমন  পরিবারের জন্য আনন্দ ও আশীর্বাদের, তেমনি  গাছের চারা রোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও প্রকৃতির জন্য আশার প্রতীক। তাই প্রতিটি নবজাতকের পরিবারকে তিনটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, শিশুটি যেমন স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হবে, তেমনি গাছগুলোও পরিচর্যায় বেড়ে উঠে একদিন ফল, ফুল, ছায়া ও নির্মল অক্সিজেন দিয়ে সমাজ ও পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে। প্রতিটি শিশুর জন্মকে একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে স্মরণীয় করে তুলতে চাই। এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।’

হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে না পারলেও নবজাতকের বাবা মো. নাছিম আরাফাত মুঠোফোনে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘উপহার পাওয়া গাছের চারাগুলো তিনি যত্নসহকারে রোপণ ও পরিচর্যা করবেন, যাতে সন্তানের সঙ্গে সেগুলোও বড় হয়ে ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়।’
 

বান্দরবানে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পানিবন্দি মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

উয়ই সিং মার্মা, বান্দরবান
বান্দরবানে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পানিবন্দি মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানিবন্দি হয়ে পড়া অনেক পরিবার দিনের পর দিন নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন সংকটময় সময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্রিছড়ামুখ লেমু ঝিরি চরুই পাড়ার বন্যাকবলিত ৬০টি পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি। সাম্প্রতিক বন্যায় টানা তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকা এসব পরিবারের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়া পরিবারগুলোর অনেকেই নিরাপদ পানির অভাব, শুকনো খাবারের সংকট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক স্থানে ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

ত্রাণসামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেজে ছিল ১ কেজি মুড়ি, ৫০০ গ্রাম টোস্ট, ১ প্যাকেট মোমবাতি, ১টি লাইটার, ৫ প্যাকেট খাওয়ার স্যালাইন (ওআরএস), ১ স্ট্রিপ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১ স্ট্রিপ প্যারাসিটামল (নাপা) এবং ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি। জরুরি মুহূর্তে এসব সামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা।

ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করে এক উপকারভোগী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, গত তিন দিন ধরে আমরা পানিবন্দি ছিলাম। আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। খাওয়ার জন্য নিরাপদ পানিও ছিল না। এমন কঠিন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সহযোগিতা আমরা কখনো ভুলব না।

ত্রাণ বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই আমরা জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তাদের পাশে এসেছি। মানবিক সংকটে কোনো মানুষ যেন অসহায় না থাকে, সে লক্ষ্যেই বসুন্ধরা শুভসংঘ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাই—নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। সময়োপযোগী এই মানবিক সহায়তা সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি  উয়ই সিং মার্মা, বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখার সদস্য ওয়াইমং মারমা, সুলতানুল আরেফিন, মহিউদ্দিন হোসেন, উবাসাইং মারমা, কোহই খুমী এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুরা।

তারা দুর্গম এলাকায় গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, শীত, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বান্দরবানের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগও সেই মানবিক ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বারহাট্টায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন

আজিজুল হক ফারুক, বারহাট্টা  (নেত্রকোনা)
বারহাট্টায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে ২০ জন বিধবা, অসচ্ছল, দরিদ্র নারী ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তিন মাসব্যাপী চলবে। দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতেমা আক্তার।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে বারহাট্টা সদরের বারহাট্টা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়  প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণার্থী ও বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের অংশগ্রহণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি আজিজুল হক ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হীরার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ বাবুল, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ বাবুল, উপদেষ্টা ও বারহাট্টা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আকন্দ টিটু, উপজেলা শুভসংঘের সহ-সভাপতি সাংবাদিক লতিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক রিপন গুণসহ প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক অসচ্ছল নারী জানান, পঙ্গু স্বামীসহ সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করতে করছি। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলে কাজ করে সংসারের খরচ চালাতে পারব।

তিনি বলেন, তার জীবন অনেক কষ্টে চলছে, তবে এই সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সচ্ছলতার পথে এগিয়ে নিতে পারবেন।

প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ বাবুল প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করে বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র নারী ও শিক্ষার্থীদের সচ্ছলতায় ফিরিয়ে আনতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উপদেষ্টা ফেরদৌস আহমদ বাবুল বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে, অসচ্ছল নারীদের সচ্ছলতায় আনতে এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কাজ করে যাচ্ছে। সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে একটি বড় সহায়ক।

উপদেষ্টা আবুল খায়ের আকন্দ টিটু বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অসহায় ও অসচ্ছল নারীরা উদ্যোক্তা তৈরি হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি আজিজুল হক ফারুক বলেন, ‘শুভ কাজে সবার পাশে' - বসুন্ধরা শুভসংঘের এই স্লোগানই বলে দেয় সমাজের মানুষের জন্য সংগঠন  কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ঢাবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের মৌসুমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
ঢাবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের মৌসুমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশীয় মৌসুমী ফলের বৈচিত্র্য তুলে ধরা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং বাঙালির খাদ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণদের পরিচয় আরো দৃঢ় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌসুমী ফল উৎসবের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

উৎসবে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, আনারস, পেয়ারা, কলা, ড্রাগনসহ মৌসুমের বিভিন্ন দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীরা ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ছবি তোলা, আড্ডা এবং ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করেন। এতে উৎসব প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যস্ত নগরজীবনে একসঙ্গে এত দেশীয় ফলের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ খুব কমই মেলে। তাই এ আয়োজন তাদের কাছে আনন্দের পাশাপাশি শৈশবের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, বর্তমানে তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে দেশীয় ফলের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অথচ দেশীয় মৌসুমী ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী, সিনিয়র সহসভাপতি উসয়াতুল হাসানা হাসি, সহসভাপতি প্রিয়া আক্তার, আজিজুর হাকিম ও শারমিন আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী, শাকিল মিয়া, কেন্টন চাকমা ও সাইফুল ইসলাম, সহসম্পাদক সামিয়া তাসনিম ও রওশন ইসলাম, হল প্রতিনিধি ফরহাদ আহমেদ ও জুয়েল রানা এবং সংগঠনের সদস্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন বলেন, দেশীয় ফল শুধু আমাদের খাদ্যের অংশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তরুণদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং বাঙালির সংস্কৃতিবোধকে আরও সমৃদ্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা প্রতি বছর এই আয়োজন করি। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সবার জন্য উন্মুক্তভাবে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বাঙালির ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।