প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, মানবতাবাদ, সাম্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে বরগুনার বেতাগীতে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বেতাগী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও সাহিত্যচর্চা বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ কামাল হোসেন খান। সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি স্বপন কুমার ঢালী। এতে শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আলোচনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সংগীত, সাম্যবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম পান্না বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে নিয়মিত এমন উদ্যোগ প্রয়োজন।’
বিশেষ অতিথি বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, প্রেম ও সম্প্রীতিরও কবি। তাঁর সাহিত্য আজও অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করে।’
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মো. সেকান্দার আলী মৃধা বলেন, ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবিক, প্রগতিশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।’
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নেছার উদ্দিন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জলিলুর রহমান খান এবং বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ সিকদার।
আলোচনা শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাপনী বক্তব্যে আলহাজ কামাল হোসেন খান বলেন, ‘জাতীয় কবির আদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘শুভ কাজে সবার পাশে’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তারের মাধ্যমে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার আহ্বানও জানান তিনি।’
সবশেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।






