‘পচছে সরকারি ওষুধ!’ স্বাস্থ্যবিভাগের একজন উর্ধ্বতনকে নিয়ে এমন শিরোনামে গতবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক কালের কণ্ঠ। এ ঘটনায় অবশেষে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. মো. মামুনুর রহমান বতর্মানে গাজীপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন। কাপাসিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।
২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় হাসপাতালের সরকারি ওষুধ নিয়ে অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র। হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভবনের পাঁচ কক্ষে কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ফেলে রাখা হয়েছিল। রোগীদের মাঝে বিতরণ না করার কারণে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে অধিকাংশ ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, স্টোর রুমের বাথরুমের মেঝেতেও সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিকে সরকারি ওষুধ পরিত্যক্ত ভবনে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিযোগ ওঠে, সরকারির ওষুধপত্র বিতরণ না করে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের ‘কমিশন বাণিজ্য’ কাজ করে থাকতে পারে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় ।
সেই আলোচিত ঘটনায় অবশেষে ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে এই বিভাগীয় মামলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইন প্লাটফর্মে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘পঁচছে সরকারি ঔষধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং যথাযথ তদারকির ব্যর্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়; যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়; যেহেতু আপনার উপর্যুক্ত কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য; সেহেতু আপনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণের এর দায়ে অভিযুক্ত করা হলো এবং কেন আপনাকে উক্ত বিধিমালার অধীনে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ অথবা কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে, আপনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তাও লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।




