• ই-পেপার

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় সেলিম প্রধান ফের গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা, দুই আসামির রিমান্ড

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা, দুই আসামির রিমান্ড
সংগৃহীত ছবি

অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম রবিবার (১২ জুলাই) শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আসামিরা হলেন মো. আমিনুর ইসলাম (৩৭) ও মো. সাকিব হোসেন (২৮)। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর অধীনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হামজা মামলাটি করেছেন। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন একই বিভাগের এসআই জাকির হোসেন।

আদালতে দুই আসামিকে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আমিনুর ইসলামের তিন দিন এবং সাকিব হোসেনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১১ জুলাই রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকা থেকে আমিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে গুলশান এলাকা থেকে সাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রিমান্ডে নিয়ে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাবেক সচিব জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সচিব জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় মাহবুব হাসান মামুন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখানো শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৫ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত ৯ জুলাই আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল আলীম। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারণ করেন। তবে শুনানির সময় এই মামলার মূলনথি না থাকায় আদালত আগামী ১৫ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। শুনানির সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থানার বিআরটিএর সামনে আন্দোলনে অংশ নেন ভিকটিম মাহবুব হাসান মামুন (৩৪)। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪ টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে ব্যাপক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করতে পারে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসাবে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

মোবাইল কোর্টের আপিল নিষ্পত্তি দ্রুত করতে ৭ সদস্যের কমিটি

বাসস
মোবাইল কোর্টের আপিল নিষ্পত্তি দ্রুত করতে ৭ সদস্যের কমিটি

মোবাইল কোর্ট আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের আওতায় পরিচালিত মামলার সাজার আপিল, রিভিশন ও রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রবিবার (১২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।  

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে দ্রুতকৃত সুপারিশ প্রদান কমিটির সভাপতি থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থসচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব। ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে প্রপনে উল্লেখ করা হয়।

কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে মোবাইল কোর্টের সাজার আপিল, রিভিশন ও রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা। পাশাপাশি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সহায়ক ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সভায় আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষমতা থাকবে কমিটির। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ। 

২৫ বছর পূর্ণ না হলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

অনলাইন ডেস্ক
২৫ বছর পূর্ণ না হলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

চাকরির সময়সীমা ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

২৮ পৃষ্ঠার ওই রায়ে বলা হয়, ‘আইনপ্রণেতারা যুক্তিসংগত বিবেচনায় নির্ধারিত ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগকারী কোনো সরকারি কর্মচারীর জন্য পেনশন সুবিধার বিধান রাখেননি।

২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া এক রায়ের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়ের করা আপিলের পর পুনরায় আবার রায় দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুব মোরশেদকে পেনশন ও চাকরিজীবনের অন্যান্য বকেয়া সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সহকারী জজ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়া মাহবুব অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯ বছরের চাকরি শেষে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক যোগ্যতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগকারী কোনো সরকারি কর্মচারীকে পেনশন দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই হাইকোর্টের নির্দেশ আইনগতভাবে কার্যকরযোগ্য নয়।

রায়ে বলা হয়, উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপিলকারীকে (আইন মন্ত্রণালয়) প্রতিপক্ষ রিটকারীকে (মাহবুব) তার চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পেনশন দেওয়ার যে নির্দেশ হাইকোর্ট বিভাগ দিয়েছিলেন, সেটিও টেকসই নয়। কারণ, এটি কার্যকরযোগ্য কোনো আদেশ নয়, যেহেতু আইন এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার অনুমতি দেয় না।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ আরও বলেন, এ ছাড়া সাধারণ বিবেচনায় এটিও উল্লেখযোগ্য যে, নির্ধারিত ২৫ বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি অবাধে পেনশন ও অবসর-সুবিধা পাওয়া যায়, তাহলে তা সরকারি চাকরিতে প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারে। সরকারি চাকরি শুধু স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি কাঠামোবদ্ধ পেশা।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের বিচারকরা বলেন, কর্মকর্তারা যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগ করে পূর্ণ পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তাহলে কেউ কেউ সরকারি চাকরিকে কেবল অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, মর্যাদা বা আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের একটি অস্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে. পরে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য চাকরি ছেড়ে যেতে পারেন।

এতে অকাল পদত্যাগ উৎসাহিত হতে পারে, জনবল পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং সরকারি চাকরির সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে যুক্ত শৃঙ্খলা ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই সরকারি চাকরিতে অঙ্গীকার, শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতি বজায় রাখতে যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ একটি যৌক্তিক নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।