• ই-পেপার

নেত্রকোনা

উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত‍্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ভাগিনা আমিন আহমেদ চৌধুরী রোকন জানান, ‘মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।’

তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে পারুল আক্তার

ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে সন্তানদের লেখাপড়ায় অর্থনৈতিক জোগান দিতে পারছি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে সন্তানদের লেখাপড়ায় অর্থনৈতিক জোগান দিতে পারছি
সোমবার গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের মতবিনিময় সভায় পারুল আক্তার

বরিশাল সফরে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) গৌরনদী উপজেলায় অনুষ্ঠিত এই সভায় উপকারভোগী ৬১৭ জন নারীর মধ্যে তিনজনের বক্তব্য শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পারুল আক্তার নামের এক উপকারভোগী নারী বলেন, আমার সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রাইভেট পড়াতে পারতাম না। তাদের খাবার জোগাড় করা আমার পক্ষে দায় হয়েছিল। ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার পর আমি তাদের লেখাপড়া ও পরিবার পরিচালনায় অর্থনৈতিক জোগান দিতে পারছি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি ভোটের আগে আমাদের কথা দিয়েছিলেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। ভোটের কালি শুকানোর আগেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়েছি, এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি সব সময় আমরা যাতে আপনাকে পাশে পাই।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পূর্বে আমরা বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করে দিয়েছি। চলতি অর্থবছরে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির পাশে যতক্ষণ জনগণ থাকবে ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধা না মেনে দেশের স্বার্থে কাজ করবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তাকে অনুসরণ করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। কারণ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে গেলে নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌঁছায়। সেখানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মৃত সজীব মিয়া (৩৫) শহরের মালনী আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, গ্যাসজনিত সমস্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে সন্ধ্যায় সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা যথাযথ চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে উত্তেজিত কয়েকজন হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ নিয়ে সজীব হাসপাতালে এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

নান্দাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোস্তফাকে (৩৫) রবিবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ১১টায় আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে নান্দাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমেদাবাদ মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই এলাকার আব্দুর রাশিদের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে বাড়ির পাশের বিলে নৌকায় ওঠানোর লোভ দেখিয়ে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন মোস্তফা।

ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, তিনি তার মেয়েকে ঘরে রেখে কিছু সময়ের জন্য পাশের বাড়িতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফিরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে আহত অবস্থায় বাড়ির দিকে আসতে দেখেন। জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পাশের বাড়ির মোস্তফার কথা উল্লেখ করে। পরে তাকে ঘরে নিয়ে তিনি দেখতে পান তার শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে কাউকে কিছু না জানালেও সন্ধ্যার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আকরামুল্লাহ জানান, শিশুটি যৌন নির্যাতনের (সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট) শিকার হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

নান্দাইল থানার এসআই সম্রাজ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্ত মোস্তফাকে রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।