• ই-পেপার

আদমদীঘি

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

গলাচিপায় ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গলাচিপায় ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা
ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় ছাতা মাথায় নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কোটখালী ফাযিল মাদরাসার জীর্ণ ভবনে ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় ছাতা মাথায় নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) বৃষ্টির মধ্যে এক হাতে ছাতা ও অন্য হাতে কলম নিয়ে শ্রেণি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দৃশ্য নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কোটখালী ফাযিল মাদরাসা ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়ছে এবং দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে একটি নতুন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চললেও তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কবে নাগাদ ভবনটির কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল শেখ মুগ্ধ বলেন, বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা ভিজে যায়। তাই বাধ্য হয়ে মাথায় ছাতা ধরে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, ভবনটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে স্বাভাবিক বর্ষাতেও শ্রেণিকক্ষে বসা কঠিন হয়ে পড়ে। ছাদ থেকে মাঝেমধ্যে পলেস্তরা খসে পড়ে। কয়েকদিন ধরে ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. ইয়াহিয়া খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই। বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছে। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে পাঠদান ও পরীক্ষা পরিচালনায় চরম সমস্যা হচ্ছে।

মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে এ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

অনলাইন ডেস্ক
কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
সংগৃহীত ছবি

কয়েকদিনের বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে পানি। বর্তমানে রুলকার্ভের চেয়ে প্রায় দশ ফুট পানি বেশি রয়েছে কাপ্তাই হ্রদে। এতে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রে বেড়েছে উৎপাদন। আবারও তিনদিনের ব্যবধানে আরো ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। বর্তমানে সবকয়টি ইউনিট সচল রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২০৬ মেগাওয়াট। কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে পানি। এতে পানির ওপর নির্ভরশীল কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক সপ্তাহে তিনবার উৎপাদন বেড়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সকালে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। হ্রদে আরো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আরো ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা হচ্ছে, এতে এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
 

ভেসে গেল কপোতাক্ষের সাঁকো, ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ভেসে গেল কপোতাক্ষের সাঁকো, ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের সাঁকোটি নদের স্রোতের ভেঙে গেছে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদ পারের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ভারি বৃষ্টির কারণে নদের তীব্র স্রোতে ও কচুরিপানার চাপে সাঁকোটি শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ভেঙে ভেসে যায়। এতে দুই পারের হাজারও মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দুই পারের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার শার্শা এলাকা হয়ে যাতায়াতে সাঁকোটিই ছিল ভরসা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর ও রেজাকাটি গ্রাম এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি, ধানদিয়াসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ  শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করতেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে।

সরেজমিন সাগরদাঁড়ি গিয়ে দেখা যায়, নদের তীব্র স্রোতে ও বৃষ্টির মধ্যে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। সাগরদাঁড়ি 

কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ‘প্রতিদিন ওপার থেকে অনেক ক্রেতা ও কৃষক বাজারে আসেন। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে, মালামাল আনতেও সমস্যা হচ্ছে। এতে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’

সাগরদাঁড়ি আবু শারাফ সাদেক কারিগরি বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, ‘সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে স্কুল কলেজে আসতে হচ্ছে।’ বিশেষ করে চলতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে।’

সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি সুভাষ দেবনাথ বলেন, ‘প্রায় ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি নদের স্রোতে ভেঙে ভেসে যাওয়ায় ওপারের ব্যবসায়ীরা মালামাল নিয়ে বাজারে আসতে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন।’

সাগরদাঁড়ি স্থানীয় সংবাদ কর্মী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু বলেন, ‘সাঁকোটি ছিল কপোতাক্ষ নদের দুই পারের মানুষের যাতায়াতের মেলবন্ধন। দ্রুত ওই সাঁকোটি নতুন করে তৈরি করা না হলে এলাকার মানুষদের চরম ভোগান্তির মধ্যে নৌকায় পারাপার করতে হবে।’

দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দল-মত-নির্বিশেষে সবাই মিলে আমরা শত্রুর মোকাবেলা করেছি। ২০২৪ সালে স্বৈরাচার বিদায়ে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে লড়াই করেছি। 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই মিলেমিশে দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। নিজের এলাকা, নিজের এরিয়া ও দেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। দেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান। এগুলো যত্ন করার দায়িত্ব আমাদের সবার।

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।