কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে।
এদিকে বৃষ্টি কমে এলেও আক্রান্ত এলাকার পানি নামছে না। এ জন্য পর্যাপ্ত ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেয়ানপাড়া, গাজীর বাড়ি, মাঝের ঘাটা, চৌধুরী বাড়ি, ছমদ হাজীর বাড়ি, সোনা মিয়া সওদাগরের বাড়ি, সিদ্দিকীয়া আবাসিক এলাকা, বাহুলী, উত্তর গোবিন্দারখীল, গুয়াদণ্ডী ও দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দারা।
এসব এলাকায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। এতে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি। এসব পরিবারের শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ; কর্মজীবীরা কাজে যেতে পারছেন না। পানিবন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যাও ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি হলেও উল্লেখিত এলাকার জলাবদ্ধতা কোনো নতুন সমস্যা নয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই অবস্থা সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং পানি প্রবাহের পথ সচল রাখার দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেন-খাল দখল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
গাজী বাড়ির বাসিন্দা গাজী আমির হোসেন বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। ঘরে পানি উঠে যায়, আসবাবপত্র নষ্ট হয়। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। প্রতিবছর একই দুর্ভোগের শিকার হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
পৌর বাসিন্দা আবদুস সবুর বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। কিন্তু স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক ড্রেন ও খাল ভরাট, দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
এ ব্যাপারে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি নেমে এসেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।