• ই-পেপার

‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর’ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

দেশে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং এর পরিচালনাগত সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সচিবকে সদস্য করা হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৭ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব সচিব।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার আওতায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত সব ধরনের আইনগত, নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করবে। একইসঙ্গে এসব সমস্যা উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়ক পরিচালনা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কমিটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই কমিটি তাদের কাজের সুবিধার্থে যেকোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিজেদের সভায় আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় সভা আহ্বান করতে পারবে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের 'জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ' এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।


 

সংসদ প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত জমির উদ্দিন সরকার

অনলাইন ডেস্ক
সংসদ প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত জমির উদ্দিন সরকার
সংগৃহীত ছবি

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।রবিবার (১২ জুলাই) বাদ আসর সংসদের দক্ষিণ প্লাজার নিচের টানেলে জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ সংসদ সদস্যরা।

এর আগে জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। 

আজ ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশকিছু দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সংসদে শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সংসদে শ্রদ্ধা নিবেদন
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে জাতীয় সংসদ।

একজন প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, সফল আইনজীবী, গণতন্ত্রে অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিক এবং আপাদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবে অভিহিত করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তারা বলেন, জমির উদ্দিন সরকার শুধু একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।

রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার। পরে তার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং সেই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান। এ সময় তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদ অধিবেশনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত রেখে অধিবেশন মূলতবি করা হয়। পরে সংসদ ভবনের ট্যানেলে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের মেধা ও পরিশ্রমে তিনি সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে দেশের আইন ও রাজনীতিতে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা, উভয় স্থান থেকেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এবং জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। সব সময় বলতেন, নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না। আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অবিচল বিশ্বাস আজও অনুসরণীয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জমির উদ্দিন সরকার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে সফল এবং বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা যখন আইনি হয়রানির শিকার হতেন, তখন জমির উদ্দিন সরকার তাদের পাশে দাঁড়াতেন। আদালতে মামলা পরিচালনা করলেও কখনো পারিশ্রমিক নিতেন না। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব। তার এই অবদান কোনো দিন ভোলার নয়।

তিনি আরো বলেন, স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদকে প্রাণবন্ত করেছিলেন। আইন অঙ্গনে তিনি ছিলেন অনেকের শিক্ষক। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক। তাকে কখনো থ্রি-পিস স্যুট ছাড়া দেখা যেত না। তার ব্যক্তিত্ব, শিষ্টাচার ও সৌজন্য ছিল অনুকরণীয়। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।

তিনি বলেন, দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ। বয়সের কারণে নিজে নির্বাচন না করে ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন করলে নিশ্চিতভাবেই বিজয়ী হতেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথা অনুযায়ী সাবেক স্পিকারদের যেভাবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়, জমির উদ্দিন সরকারকেও সেখানেই সমাহিত করা হবে। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও সংসদেই চিরদিন থাকবেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দূর থেকে হ্যাট, কোট ও ছাতা হাতে কাউকে দেখলেই বোঝা যেত তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পেশাদার।

আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, জাতি আজ একজন মহান রাজনীতিক, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।

উল্লেখ্য, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রবিবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংসদ ভবনেও ছিল শোকের আবহাওয়া। 

বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ

টানা ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো ৩৯ জন। 

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

রবিবার (১২ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা এবং ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 

জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া আহত হয়েছে ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে।

চট্টগ্রামে মারা গেছে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন, মৌলভীবাজারে একজন এবং অন্যান্য জেলায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রামে। জেলাটির ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি।