• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর, ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি

পানিবন্দি মানুষের পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
পানিবন্দি মানুষের পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও সিএন্ডবি, মোহরা ও দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রবিবার (১২ জুলাই) তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সাঈদ আল নোমানকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যসহ জরুরি সেবার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মানবিক নীতির আলোকে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে। জনগণের যেকোনো দুর্যোগে জনপ্রতিনিধিরা সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, জরুরি সেবা নিশ্চিত করা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।

বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড় খেয়েছে ৭৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড় খেয়েছে ৭৫ জন

চট্টগ্রামে অতিভারি বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়-দেয়াল ধসে এখন পর্যন্ত ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা ও পানিতে ডুবে মারা গেছে ৭ জন। গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ৭টি উপজেলায় তারা মারা যান। এছাড়াও শনিবার পর্যন্ত মোট আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯০ জন। এরমধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

এ দিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলায় ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক, বাঁশখালীতে ১৬ টি কমিউনিটি  ক্লিনিক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও এখন নেমে গেছে। 

তিনি জানান, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় সর্বশেষ গত শনিবার পর্যন্ত মোট আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯০ জন। এরমধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী আছে। এরমধ্যে কোন রোগী মারা যায়নি। বন্যা দুর্গত এলাকায় আমাদের মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওআরএস, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধপত্র নিয়ে এলাকায় কাজ করছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে জানা যায়, সদ্য চট্টগ্রাম জেলায় অতিভারি বৃষ্টিতে বন্যা, পাহাড় ও দেয়াল ধসে নগর, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জন মারা যায়। এরমধ্যে ৬ জন শিশু, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছে। 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন জানান, আহত ৯০ জনের মধ্যে পাহাড় ধসে ২ জন, দেয়াল ধসে ২ জন, সাপে কাটা ৭৫ জন এবং অন্যান্য আহত ১১ জন। এরমধ্যে সাপে কাটা ৭৫ জন আহতের মধ্যে বোয়ালখালী ২০, রাঙ্গুনিয়া ৩, হাটহাজারী ৮, সাতকানিয়া ৩, চন্দনাইশ ৩, লোহাগাড়া ২, পটিয়া ২২, রাউজান ১৪ জন।

সদস্যদের আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ আনসার মহাপরিচালকের

নিজস্ব প্রতিদেক
সদস্যদের আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ আনসার মহাপরিচালকের
কমিল্লার সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তায় দেশসেবার মানসিকতা ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রবিবার কুমিল্লা রেঞ্জ ও জেলা কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি সঞ্জীবন প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা, সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ পরিদর্শন শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার সকালে কুমিল্লা রেঞ্জে লাকসাম উপজেলা সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত 'সঞ্জীবন প্লাটুন গঠন, প্রকল্প নির্বাচন ও সদস্যদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় মহাপরিচালক প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল, সদস্যদের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।

তিনি সদস্যদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘টেকসই প্রকল্প পরিচালনায় সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই।’ পাশাপাশি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ কিংবা গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্পে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মহাপরিচালক সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কারিগরি জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এতে সদস্যরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে টেকসই আয় নিশ্চিত করতে পারবেন।

পরে লালমাইয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ পরিদর্শন করেন তিনি। এ মহড়ায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে যে কোনো সময় দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের মানসিকতা ধারণ করতে হবে।’ একই সঙ্গে বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, মাদক প্রতিরোধ এবং অন্যান্য জননিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ডে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এ প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত সামরিক জ্ঞান, কৌশল ও দক্ষতা নিজ নিজ প্লাটুনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি দক্ষ, সমন্বিত ও প্রস্তুত জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

মহাপরিচালক সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে কুমিল্লা রেঞ্জ কমান্ডার মো. মাহবুবুর রহমানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুনারুঘাটে ভারতীয় মদ ও গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
চুনারুঘাটে ভারতীয় মদ ও গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পৃথক অভিযানে ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫৫ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)।

শনিবার (১১ জুলাই) পৃথক সময়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি জানায়, শনিবার রাতে চুনারুঘাট উপজেলার চেগানগর বাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালায় ৫৫ বিজিবির বাল্লা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল। এ সময় অটোরিকশার ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম (২৬) ও মো. সুমন মিয়া (২১) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা ভারতীয় মদ ও অটোরিকশার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা।

অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে র‍্যাব-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৫ কেজি গাঁজাসহ মো. আব্দুল কাইয়ুম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা।

বিজিবি ও র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চুনারুঘাট থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।