• ই-পেপার

বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড় খেয়েছে ৭৫ জন

কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ৭ শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু

ছড়ার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ সজিবের লাশ উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ৭ শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু
চকরিয়ায় ছড়ার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ সজিব জলদাসের লাশ উদ্ধারের পর তার স্বজনদের আহাজারি।

কক্সবাজারের ভয়াবহ বন্যা ও ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ শিশুসহ ৮ জনের। তাদের মধ্যে ২ শিশুকন্যা, ৫ জন ছেলে ও অপরজন ২০ বছরের যুবক। এ ছাড়া বানের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ থাকা সজিব জলদাস নামে ১২ বছরের শিশুর লাশ ২৩ ঘণ্টা পর আজ রবিবার বিকেল ৩টায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।

এ ছাড়া এক সপ্তাহের লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে প্রবল বেগে নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা। এই ৩ উপজেলার এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে কোমর থেকে গলা পর্যন্ত পানি ওঠেনি। যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে সেখানে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। 

গতকাল শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানিও কমতে থাকে মাতামুহুরী নদীতে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিও নেমে যেতে দেখা যায়। কিন্তু আজ রবিবার ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ফের অতি ভারি বর্ষণ শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে। অবশ্য বিকেলের পর থেকে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায়। একদিকে বানের পানির সাথে যুদ্ধ এবং অপরদিকে এই পরিস্থিতিতে স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। 

সর্বশেষ আজ রবিবার বিকেলে চকরিয়ার বরইতলীতে বাড়ির উঠানে মায়ের সামনেই বানের স্রোতের পানিতে তলিয়ে গিয়ে মারা যান মোহাম্মদ আতাউল্লাহ (২০) নামের এক যুবক। তিনি বরইতলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিবাজারস্থ পূর্ব ছড়াকূলের ফতেহ আলী সিকদার পাড়ার নেসার আহমদের পুত্র। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় আস্ত পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে বসতবাড়ির ওপর। এ সময় মাটি চাপা পড়ে মারা যায় ২ শিশু।

তারা হলো মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে ও বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি আক্তার (১৫) এবং আবদুল মজিদের ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন।

এর আগে গত ৬ জুলাই সোমবার সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা মুড়ার আলিম্যার ঝিরি এলাকায় ভারি বর্ষণের সময় বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধ্বসে মারা যায় ওই এলাকার কলিম উল্লাহর ৭ বছরের শিশুসন্তান মো. মিনহাজ উদ্দিন। এ সময় আহত হন ওই শিশুর নানীও।

বসতবাড়ির ভেতর ঢুকে পড়া বানের পানিতে ডুবে গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা গ্রামে মারা যান সুলতান আহমদের আড়াই বছরের  ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

এদিকে বাড়ির চালা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) সকাল আটটার দিকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজতে নৌকায় চেপে অন্যত্র যাচ্ছিল চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ গ্রামের আবদুল মালেক ও তার পরিবার সদস্যরা। কিন্তু ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে সেই নৌকা ডুবে গেলে তিন কন্যা শিশু হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২), জেরিন মনি (৮) আর শাওরিন মনি (৬) পানিতে বানের পানিতে তলিয়ে যান। এ সময় ছোট দুই শিশুকন্যাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রায় ৬ ঘন্টা পর চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল এসে নিখোঁজ হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করে। 

গত শনিবার রাতে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলির পাড়ার প্রবাসী নাছির উদ্দিনের বাড়িতে পানিতে ডুবে মারা যায় ১৯ মাসের শিশুপুত্র মুশফিকুর রহিম। পরিবারটি জানিয়েছে-বন্যায় প্রবাসী নাছিরের বাড়ির ভেতরও পানি ঢুকে পড়ে। আর উঠানেও ছিল কোমর সমান পানি। একমাত্র শিশুসন্তান মুশফিককে বাড়ির ভেতর রেখে কাজ করছিলেন নাছিরের স্ত্রী। কিন্তু সবার অগোচরে ওই শিশু পানিতে পড়ে স্রোতে ভেসে যায় এবং ১২০ ফুট দূরে লাশ ভাসতে থাকে।

এদিকে গতকাল শনিবার বিকেল তিনটার দিকে চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী জলদাস পাড়ায় বাড়ির সামনে বানের পানির স্রোতে ভেসে যায় তিন শিশু। তন্মধ্যে দুই শিশু জীবিত ফিরতে পারলেও তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল কুতুবদিয়া উপজেলার কুমিরা ছড়া জলদাস পাড়ার তুফান জলদাসের ১২ বছরের ছেলে সজিব জলদাস। সে ছোটকাল থেকেই মামার বাড়ি চকরিয়ার কৈয়ারবিল জলদাস পাড়ায় বড় হচ্ছিল।

চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন কালের কন্ঠকে বলেন, ‘শিশু সজিব জলদাস নিখোঁজ থাকার খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অকুস্থলে যায়। কিন্তু ছড়াখালে বানের পানির স্রোত তীব্র থাকায় ফেরত আসে। তবে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল রবিবার দুপুর থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে ২৩ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।’

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত একসপ্তাহের ব্যবধানে একে একে সাতজন শিশু, একজন যুবকসহ আটজন পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও তলিয়ে গিয়ে মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালের কণ্ঠকে।

চট্টগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুকুরের পানিতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে (১২ জুলাই) উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত কিশোরের নাম মো. হৃদয় (১৬)। সে উপজেলার বাড়বকুণ্ডের নতুন পাড়া গ্রামের আলমগীরের বড় ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যায় হৃদয়। কিন্তু এলাকার কেউ বিষয়টি জানত না। পরে বাড়ির লোকজন এসে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও তাকে না পেয়ে স্থানীয়রা পানিতে নেমে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে তলিয়ে থাকা অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটি মৃগী রোগী ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সে ডুবে মারা গেছে।

সিরাজগঞ্জে সম্ভাব্য বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ ইউনিয়ন, মেডিক্যাল টিম গঠন

অনলাইন ডেস্ক
সিরাজগঞ্জে সম্ভাব্য বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ ইউনিয়ন, মেডিক্যাল টিম গঠন
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জে ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে মোট ৯৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে বিভাগটি। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন। 

তিনি বলেন, সম্ভাব্য বন্যার কথা চিন্তা করে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ও সেবা নিশ্চিতে ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি, ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং জেলায় ১টিসহ মোট ৯৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সব উপজেলায় জরুরি ওষুধ, স্যালাইন, সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম, পরিসংখ্যানবীদ হুমায়ুন কবির, সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্নাসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ায় বানভাসি মানুষের পাশে ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল

অনলাইন ডেস্ক
সাতকানিয়ায় বানভাসি মানুষের পাশে ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।

সম্প্রতি উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এই ছাত্রদল নেতা। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই এগিয়ে এলে বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।’

এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বন্যাকবলিত এসব মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে দুর্যোগের মুহূর্তে এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি বন্যার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।