বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তায় দেশসেবার মানসিকতা ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রবিবার কুমিল্লা রেঞ্জ ও জেলা কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি সঞ্জীবন প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা, সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ পরিদর্শন শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার সকালে কুমিল্লা রেঞ্জে লাকসাম উপজেলা সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত 'সঞ্জীবন প্লাটুন গঠন, প্রকল্প নির্বাচন ও সদস্যদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় মহাপরিচালক প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল, সদস্যদের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি সদস্যদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘টেকসই প্রকল্প পরিচালনায় সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই।’ পাশাপাশি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ কিংবা গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্পে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মহাপরিচালক সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কারিগরি জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এতে সদস্যরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে টেকসই আয় নিশ্চিত করতে পারবেন।
পরে লালমাইয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ পরিদর্শন করেন তিনি। এ মহড়ায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে যে কোনো সময় দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের মানসিকতা ধারণ করতে হবে।’ একই সঙ্গে বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, মাদক প্রতিরোধ এবং অন্যান্য জননিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ডে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এ প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত সামরিক জ্ঞান, কৌশল ও দক্ষতা নিজ নিজ প্লাটুনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি দক্ষ, সমন্বিত ও প্রস্তুত জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
মহাপরিচালক সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে কুমিল্লা রেঞ্জ কমান্ডার মো. মাহবুবুর রহমানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





