• ই-পেপার

কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় : ইফা ডিজি

১৭ কোটি মানুষের সামনে শেখ হাসিনার সাজা কার্যকর হবে : শামা ওবায়েদ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ কোটি মানুষের সামনে শেখ হাসিনার সাজা কার্যকর হবে : শামা ওবায়েদ
সংগৃহীত ছবি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাসহ পলাতক স্বৈরাচারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তাদের সাজা কার্যকর করা হবে।’

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নারীর অগ্রযাত্রা : শিক্ষা ও ক্যারিয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৭ বছর ধরে বিনা ভোটে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় ছিল। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সেই শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচার হয়েছে, সাজা হয়েছে। আরো অনেক স্বৈরাচারীরও সাজা হয়েছে। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার সম্পন্ন করা এবং সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া এখনো চলমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেসব দেশে তারা অবস্থান করছে, সেসব দেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। কূটনৈতিক সব ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তাদের সাজা কার্যকর করা হবে।’

জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের নারী কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূর মহল আশরাফী।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মিনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত এবং সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম।

ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী : বিটিআরসির চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী : বিটিআরসির চেয়ারম্যান
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

শনিবার (১১ জুলাই) এফডিসিতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, সমাজে যা ঘটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একাংশ প্রতিফলিত হয়। এই মাধ্যমের অপব্যবহার একটি জটিল ও যৌগিক সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার কখনো কখনো নিষ্ঠুরতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারা বিশ্বে তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন।

মো. এমদাদ উল বারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি বাকসংযমও থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যক্তির মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দিয়ে থাকে। ডেসটিনি, ইভ্যালির মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধু চক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধু চক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাঙচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
 
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে, তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরও কঠোর হতে হবে। রেগুলেটরি বডি হিসেবে বিটিআরসির সঙ্গে নাগরিকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সীমিত। সুশাসন, উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে বিটিআরসি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করতে পারে।
 
‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়।
 
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন : মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

সারা দেশে বন্যা দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটর করছেন এবং তার বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটর করাচ্ছেন। 

বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ নিয়ে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু জায়গায় বন্যা হয়েছে, পাহাড় ধ্বংস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এ পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটর করছেন এবং তাঁর বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন। 

গতকাল (শুক্রবার) পাঁচ জেলার যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন, সরকারের ভেতরে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসের সবার সাথে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কিভাবে জনগণের সাথে থাকতে হবে, কিভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে। আগামীকালও (আজ) প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করবেন। তাঁদের মতামত নেবেন এবং তাঁর নির্দেশনা প্রদান করবেন।

তিনি  বলেন, যে উদ্ধার তৎপরতা রয়েছে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব অনুষঙ্গ অর্থাৎ একদম ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যারা রয়েছেন, ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের একটা সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ছুটি গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সরাসরি মনিটর করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবাই যার যার এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বিশেষভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কাঁধে কাধ মিলিয়ে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বিএনপির চেয়ারম্যান, স্বাভাবিকভাবে তিনি তার পুরো দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন  বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিটি জায়গায় স্থানীয়ভাবে সাধারণ জনগণের সাথে থেকে কাজ করছেন এবং যেভাবে পারছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

বন্যাকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খুব দ্রুতগতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় আমরা একই সাথে রেসকিউ, রিলিফ এবং রিহ্যাবিলিটেশন এই তিনটা ফেসকে নিয়ে একই সাথে কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘পরীক্ষা বিলম্বিত করার মাধ্যমে বহুমুখী একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা চাই, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে, সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমনা সকল পরীক্ষা আগামি ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো: সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার। 

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দেশের সমৃদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরে যাদের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল, তাদের অকপটে সেই দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির জন্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় অনুষ্ঠিত সভায় জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ রাখার এবং যুদ্ধের নেতৃত্ব জেনারেল ওসমানীর হাতে অর্পণের প্রস্তাব দেন। সেই ঐতিহাসিক সভার স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নামফলক স্থাপনের কাজ চলছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আহমদ আযম খান বলেন, ‘খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে মন্ত্রণালয় কাজ করবে।’ ‘সম্মানটাই বড় বিষয়, টাকা নয়’—যোগ করেন তিনি।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন ভুলে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ​বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশাহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। এটিই হলো প্রকৃত সত্য।’

অনুষ্ঠানে রাওযা ক্লাবের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও অফিসররা বক্তব্য দেন।