• ই-পেপার

রাশেদা কে চৌধূরী

বাজেট বাস্তবায়নে জরুরি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা

দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় হতে পারে ঝড়

অনলাইন ডেস্ক
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় হতে পারে ঝড়

দেশের ১১ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
 

এআই মামলার নামে প্রতারণায় বিদেশি চক্র

বিআরটিএর হ্যাক হওয়া তথ্যই চক্রের হাতিয়ার পাঁচ দেশের চক্র শনাক্ত, দেশীয় তিন এজেন্ট গ্রেপ্তার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাচার হচ্ছে প্রতারণার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
এআই মামলার নামে প্রতারণায় বিদেশি চক্র

রাজধানীর সড়কে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার নজরদারিকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে বেশ কয়েকটি চক্র। এই প্রতারক চক্রটি যারা আইন ভঙ্গ করেননি তাদের মোবাইল ফোনে মামলার ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে এটিএম কার্ডের তথ্য দিয়ে লাখ টাকাও খুঁইয়েছেন। ক্রমেই বাড়তে থাকা এসব ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অবশেষে এই প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রের সদস্যরা বিদেশে বসেই ৩ লেয়ারে প্রতারণা করে যাচ্ছে। টাকা হাতিয়ে নিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দেশীয় এজেন্ট। পরে সেগুলো বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, কম্বোডিয়া ও হংকংয়ের প্রতারক চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রতারণার পেছনে আরো অনেক চক্র জড়িত। পর্যায়ক্রমে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মূল প্রতারকদের এজেন্ট হিসেবে যারা টাকা আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত তাদের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। চীন থেকে সক্রিয় একটি চক্রের ৩ বাংলাদেশি এজেন্টকে গত বুধবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- এটিএম কার্ডের তথ্য নিয়ে বিকাশে এড মানি করার মূল দেশীয় এজেন্ট ইফতেখার হাসান রায়হান এবং তার দুই সহযোগী মো. জাহিদুল ইসলাম ও রিপন।

টেলিগ্রাম অ্যাপসে পেমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের খোঁজে বিজ্ঞাপন দিলে রায়হানকে খুঁজে নেয় ওই চীনা প্রতারক। আর অপর দুজনকে রায়হান যুক্ত করে।

ডিবি সূত্র আরো জানায়, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য থেকে বিকাশে এড মানি করে একটি চক্রের সদস্য টাকা আরেক চক্রের কাছে সরবরাহ করে। ওই চক্রের সদস্যরা টাকা পাচার করে। এই এড মানি ও পাচার চক্র কেউ কাউকেই চেনে না। এই দুই লেয়ারের এজেন্ট ঠিক করে বিদেশে থাকা মূল চক্র। আর এড মানি চক্র বিকাশ নম্বর ভাড়া করতে মূল এজেন্টের পরামর্শে যোগ দেয় সহযোগী এজেন্ট।

বিদেশ থেকে যেভাবে প্রতারণার ফাঁদ : ডিবি বলছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিআরটিএ-এর সার্ভার হ্যাক হয়ে তথ্য পাচার হয়ে গেছে আগেই। ডার্ক ওয়েবে সেসব তথ্য প্যাকেজ হিসেবে বিক্রিও হয়েছে। তখন বিভিন্ন দেশের প্রতারকরা ওই তথ্য কিনে নেয়। সেই তথ্যই এখন প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এআই মামলার প্রতারণার ক্ষেত্রে, শুরুতে বিআরটিএ-এর ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই রকম একটি ওয়েবসাইট বানানো হয়। মামলার মেসেজ পাঠানো ব্যক্তি যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, সেখানে পেমেন্ট অপশনে, নাম, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর, কার্ডের ভ্যালিডিটি ও সিভিভি (৩ অঙ্কের নিরাপত্তা কোড) নম্বর দিতে বলা হয়। মূলতো ফিশিং ওই ওয়েবসাইটে গেলেই ফাঁদে পা দেওয়া ব্যক্তির মোবাইলের কন্ট্রোল চলে যায় প্রতারকের হাতে। কার্ডের তথ্য দেওয়ার পর প্রতারক মোবাইলে আসা ওটিপি নম্বরও দেখতে পারেন। তখন ওই কার্ডের তথ্য ও ওটিপি তাৎক্ষণিক পাঠিয়ে দেন বিকাশে এড মানি করতে বাংলাদেশে ভাড়া করা এজেন্টের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে যত পরিমাণ সম্ভব টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আরেক চক্র ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা বিদেশে নেওয়া হয়।

লাখ টাকাও খুঁইয়েছেন অনেকে : গত ২৫ মে জিয়ারত ইসলাম নামে এক ডাক্তারের মোবাইল ফোনে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মেসেজ আসে ওভার স্পিডের কারণে তার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সড়ক ট্রাফিক আইনের ১৪ ও ২৩ ধারার সবশেষ সংশোধনী অনুযায়ী জরিমানা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা হলে এবং কোনো আপিল দায়ের করা না হলে, তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে প্রতিদিন ৫-১০% হারে বিলম্ব ফি যুক্ত করা হবে। বকেয়া ৩০ দিনের বেশি হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জরিমানা, বিলম্ব ফি ও মামলা পরিচালনা খরচসহ মামলা স্থানীয় আদালতে দাখিল করা হবে।

এই আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে বার্ষিক পরিদর্শন, মালিকানা হস্তান্তর ও নিবন্ধন বাতিল করা যাবে। মেসেজটিতেই তাকে বিআরটিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের আদলে বানানো ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হয়। ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিলে মুহূর্তের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে দুই বাংলাদেশি নম্বরে ১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। শুধু জিয়ারত ইসলামই নয়- সড়কে এআই মামলা শুরুর পর এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অনেকেই।

ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (এসি) খান মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতারকরা নতুন কোনো ডিজিটাল সেবা দেখলে সেটিকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। এটি থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

কমছে পোশাক রপ্তানি

বেশির ভাগ ইউরোপের দেশে রপ্তানি কমছে অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানিতে ভাটা

অনলাইন ডেস্ক
কমছে পোশাক রপ্তানি

বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই উৎসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। এ খাতের প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। অপ্রচলিত বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান এবং অপ্রচলিত উভয় বাজারেই দেশের পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ইউরোপের প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামগ্রিক কিংবা পণ্যভিত্তিক (নিট ও ওভেন) ক্যাটাগরিতে কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমা এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। পুরো পোশাক রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশই যায় এই অঞ্চলে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে ইইউ-তে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের ১৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম (৬.১৪%), ক্রোয়েশিয়া (৮২.৩৭%), চেক প্রজাতন্ত্র (৪.০২%), ডেনমার্ক (১২.৫৬%),

ফিনল্যান্ড (২.৩৯%), ফ্রান্স (৯.৯০%), জার্মানি (১২.৭১%), গ্রিস (৪.৪৯%), ইতালি (৮.৫৬%), আয়ারল্যান্ড (১১.২৬%), লুক্সেমবার্গ (১৮.৫০%), মাল্টা (২৫.৮৩%), পর্তুগাল (৪.৩৯%), রোমানিয়া (২৩.৯০%), স্লোভাকিয়া (১৪.৪২%), সুইডেন (২.৮৩%) শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারের দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া (১০.০৯%), চিলি (৪.৫৪%), ভারত (১১.১৩%), জাপান (৬.৫৮%), দক্ষিণ কোরিয়া (১১.৭২%), মেক্সিকো (১২.৯৪%), নিউজিল্যান্ড (৯.২৮%), রাশিয়া (৩০.৩৬%), তুরস্ক (১৬.৬০%) কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে যুক্তরাজ্যের বাজারেও বাংলাদেশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। এই বাজারে পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা গত বছর ছিল ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম একক বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ওভেনের বাজার কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি ০.০৪ শতাংশ কমে প্রায় গত বছরের কাছাকাছি (৭.০২ বিলিয়ন ডলার) রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসি বাজার কৌশল ও সর্বোপরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ধীরগতির কারণে পোশাক খাত এ সমস্যায় পড়ছে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। শুধু কম দামে উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমলাতন্ত্র ও ইউনূসের আবর্জনা বাজেট বাস্তবায়নে যত বাধা

অনলাইন ডেস্ক
আমলাতন্ত্র ও ইউনূসের আবর্জনা বাজেট বাস্তবায়নে যত বাধা

কুড়ি বছর পর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপি নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করল। দেশের অর্থনীতি যখন গভীর সংকটে, বিশেষ করে ইউনূস সরকারের দেড় বছরের অপশাসনের কারণে দেশে যখন দারিদ্র্য বেড়েছে, বিনিয়োগ বন্ধ, বেকারত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে জনজীবনে চরম বিপর্যয়, সেই সময়ে দেশের সবাই তাকিয়ে ছিল এই বাজেটের দিকে। প্রস্তাবিত বাজেট কিছুটা হলেও জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বেসরকারি খাত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

যেকোনো অসুখ সারাতে প্রথম দরকার রোগ নির্ণয়। অর্থমন্ত্রী বাজেটে অর্থনৈতিক সংকটের কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। আর এই অসুখ সারাতে তিনি যে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন সেটাও সঠিক। তিনি সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছেন, অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলতে হলে বেসরকারি খাতকে সতেজ করতে হবে। হতাশাগ্রস্ত, নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত বেসরকারি খাতই যে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের মূল চাবিকাঠি তা বাজেটে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়া এবং কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মনীতি বা আইনি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অযথা বিলম্ব দূর করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।

শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫ শতাংশ উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় প্রশংসনীয়। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধান অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ সাধুবাদযোগ্য। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই বাজেট যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে, বাজেট বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং অতীতের আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়য়ীদের আস্থা ফেরাতে হবে।

ইউনূস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মব সন্ত্রাস করে বহু কলকারখানা লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। লাখ লাখ শ্রমিক মুহূর্তেই বেকার হয়ে যায়, ইউনূস সরকারের আমলে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। ইউনূস সরকারের দেড় বছরের নতুন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। ব্যাংক ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে বিনিয়োগের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিলেন ইউনূস সরকারের নিযুক্ত গভর্নর। বাংলাদেশকে দেউলিয়া বানিয়ে বিদেশি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করাই যেন ছিল ইউনূস সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এই সময় দেশের অনেক বড় বড় শিল্প গ্রুপ দেউলিয়া হওয়ার পথে। অনেকের কারখানা বন্ধ থাকার পরও তাদের ব্যাংকের সুদ গুনতে হচ্ছে।

ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সবধরনের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব ফেলে রাখা হয়েছিল। ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তারা হতাশায় জর্জরিত। বেসরকারি খাত এক অন্ধকার টানেলে বন্দি হয়ে আছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে, প্রথমে ইউনূসের রেখে যাওয়া আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। আজকের বিশ্বায়নের যুগে, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের বিদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। বিদেশ যেতে হয়। ইউনূস সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে অন্যায়ভাবে বহু ব্যবসায়ীর বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এভাবে বিনা কারণে ২১ মাস বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা নজিরবিহীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে তিন মাস কেটে গেলেও এখনো ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। মনে হয়, ইউনূস সরকারের ভ্রান্ত নীতি থেকে সরে আসেনি বর্তমান সরকার। তারাও যেন একই পথে হাঁটছে। ইউনূসের এসব বিনিয়োগ বিনাশী পদক্ষেপ বহাল রেখে বেসরকারি খাতকে আস্থায় নেওয়া অসম্ভব।

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। বেসরকারি খাতে একটি ভয়হীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

সরকার এবারের বাজেটে বেসরকারি খাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ করতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যবসা করার জন্য নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা মতামত বা ছাড়পত্র না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। কোম্পানির নামের ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কাজ শুরু করে পরবর্তী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বাকি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা সহজ করতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। একজন শিল্প উদ্যোক্তাকে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন জায়গার একাধিক ছাড়পত্র নিতে হয়। ঘাটে ঘাটে ঘুরতে হয়। একটি ছাড়পত্র বাকি থাকলেও কারখানা চালু করা যায় না। বর্তমান আইনেও এসব ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তবে এই সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র পাওয়া যায় না। সব ছাড়পত্র পেতে বছরের পর বছর লেগে যায়। শুরুতেই উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি হয়ে পড়েন। ছাড়পত্র পেতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে যেন দয়া ভিক্ষা করতে হয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের। কোনো কোনো ছাড়পত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এমন আচরণ করেন যে মনে হয়, এদেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যেন রীতিমতো অপরাধ।

ভূমি অফিসে হয়রানি, বিদ্যুতের জন্য ভোগান্তি, জামানতের টাকা দিয়েও গ্যাস সংযোগ না পাওয়া যেন এদেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়তি। পদে পদে এভাবে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় একটি কারখানা স্থাপনের জন্য। ব্যবসায়ীরা যেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। বাজেটে নির্দেশনা মাঠে আমলা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মানছেন কি না তা তদারকি করা দরকার।

ঈদের পর কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কথাই ধরা যাক। মাঠের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনেক গালভরা কথা বললেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের আশ্বাসে চুপচাপ বসে না থেকে নিজেই বেরোলেন সরেজমিন বর্জ্য অপসারণের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে। তিনি দেখলেন কর্মকর্তাদের সুন্দর কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। এটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি অসাধারণ পদক্ষেপ। বিনিয়োগ বাড়াতে এ ধরনের মাঠ পরিদর্শন জরুরি। সরকার বিভিন্ন লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদানে যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত মনিটরিং করা হলে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে। বাজেট বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে সরকারের পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সরকার এবং বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আস্থায় আনা। ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতে যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তা দূর করা। পাশাপাশি দরকার বিনিয়োগ সহায়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। অর্থমন্ত্রী যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হতে পারে যদি তা বাস্তবায়ন করা যায়। আর এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য  প্রয়োজন, সব বাধা দূর করে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন