• ই-পেপার

তরুণদের অগ্রাধিকার বাজেট

  • প্রযুক্তিতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন চাকরি
  • পরোক্ষ কর্মসংস্থান আরো ৮ লাখ
  • সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ

দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় হতে পারে ঝড়

অনলাইন ডেস্ক
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় হতে পারে ঝড়

দেশের ১১ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
 

এআই মামলার নামে প্রতারণায় বিদেশি চক্র

বিআরটিএর হ্যাক হওয়া তথ্যই চক্রের হাতিয়ার পাঁচ দেশের চক্র শনাক্ত, দেশীয় তিন এজেন্ট গ্রেপ্তার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাচার হচ্ছে প্রতারণার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
এআই মামলার নামে প্রতারণায় বিদেশি চক্র

রাজধানীর সড়কে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার নজরদারিকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে বেশ কয়েকটি চক্র। এই প্রতারক চক্রটি যারা আইন ভঙ্গ করেননি তাদের মোবাইল ফোনে মামলার ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে এটিএম কার্ডের তথ্য দিয়ে লাখ টাকাও খুঁইয়েছেন। ক্রমেই বাড়তে থাকা এসব ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অবশেষে এই প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রের সদস্যরা বিদেশে বসেই ৩ লেয়ারে প্রতারণা করে যাচ্ছে। টাকা হাতিয়ে নিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দেশীয় এজেন্ট। পরে সেগুলো বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, কম্বোডিয়া ও হংকংয়ের প্রতারক চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রতারণার পেছনে আরো অনেক চক্র জড়িত। পর্যায়ক্রমে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মূল প্রতারকদের এজেন্ট হিসেবে যারা টাকা আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত তাদের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। চীন থেকে সক্রিয় একটি চক্রের ৩ বাংলাদেশি এজেন্টকে গত বুধবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- এটিএম কার্ডের তথ্য নিয়ে বিকাশে এড মানি করার মূল দেশীয় এজেন্ট ইফতেখার হাসান রায়হান এবং তার দুই সহযোগী মো. জাহিদুল ইসলাম ও রিপন।

টেলিগ্রাম অ্যাপসে পেমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের খোঁজে বিজ্ঞাপন দিলে রায়হানকে খুঁজে নেয় ওই চীনা প্রতারক। আর অপর দুজনকে রায়হান যুক্ত করে।

ডিবি সূত্র আরো জানায়, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য থেকে বিকাশে এড মানি করে একটি চক্রের সদস্য টাকা আরেক চক্রের কাছে সরবরাহ করে। ওই চক্রের সদস্যরা টাকা পাচার করে। এই এড মানি ও পাচার চক্র কেউ কাউকেই চেনে না। এই দুই লেয়ারের এজেন্ট ঠিক করে বিদেশে থাকা মূল চক্র। আর এড মানি চক্র বিকাশ নম্বর ভাড়া করতে মূল এজেন্টের পরামর্শে যোগ দেয় সহযোগী এজেন্ট।

বিদেশ থেকে যেভাবে প্রতারণার ফাঁদ : ডিবি বলছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিআরটিএ-এর সার্ভার হ্যাক হয়ে তথ্য পাচার হয়ে গেছে আগেই। ডার্ক ওয়েবে সেসব তথ্য প্যাকেজ হিসেবে বিক্রিও হয়েছে। তখন বিভিন্ন দেশের প্রতারকরা ওই তথ্য কিনে নেয়। সেই তথ্যই এখন প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এআই মামলার প্রতারণার ক্ষেত্রে, শুরুতে বিআরটিএ-এর ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই রকম একটি ওয়েবসাইট বানানো হয়। মামলার মেসেজ পাঠানো ব্যক্তি যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, সেখানে পেমেন্ট অপশনে, নাম, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর, কার্ডের ভ্যালিডিটি ও সিভিভি (৩ অঙ্কের নিরাপত্তা কোড) নম্বর দিতে বলা হয়। মূলতো ফিশিং ওই ওয়েবসাইটে গেলেই ফাঁদে পা দেওয়া ব্যক্তির মোবাইলের কন্ট্রোল চলে যায় প্রতারকের হাতে। কার্ডের তথ্য দেওয়ার পর প্রতারক মোবাইলে আসা ওটিপি নম্বরও দেখতে পারেন। তখন ওই কার্ডের তথ্য ও ওটিপি তাৎক্ষণিক পাঠিয়ে দেন বিকাশে এড মানি করতে বাংলাদেশে ভাড়া করা এজেন্টের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে যত পরিমাণ সম্ভব টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আরেক চক্র ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা বিদেশে নেওয়া হয়।

লাখ টাকাও খুঁইয়েছেন অনেকে : গত ২৫ মে জিয়ারত ইসলাম নামে এক ডাক্তারের মোবাইল ফোনে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মেসেজ আসে ওভার স্পিডের কারণে তার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সড়ক ট্রাফিক আইনের ১৪ ও ২৩ ধারার সবশেষ সংশোধনী অনুযায়ী জরিমানা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা হলে এবং কোনো আপিল দায়ের করা না হলে, তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে প্রতিদিন ৫-১০% হারে বিলম্ব ফি যুক্ত করা হবে। বকেয়া ৩০ দিনের বেশি হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জরিমানা, বিলম্ব ফি ও মামলা পরিচালনা খরচসহ মামলা স্থানীয় আদালতে দাখিল করা হবে।

এই আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডের কারণে বার্ষিক পরিদর্শন, মালিকানা হস্তান্তর ও নিবন্ধন বাতিল করা যাবে। মেসেজটিতেই তাকে বিআরটিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের আদলে বানানো ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হয়। ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিলে মুহূর্তের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে দুই বাংলাদেশি নম্বরে ১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। শুধু জিয়ারত ইসলামই নয়- সড়কে এআই মামলা শুরুর পর এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অনেকেই।

ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (এসি) খান মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতারকরা নতুন কোনো ডিজিটাল সেবা দেখলে সেটিকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। এটি থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

কমছে পোশাক রপ্তানি

বেশির ভাগ ইউরোপের দেশে রপ্তানি কমছে অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানিতে ভাটা

অনলাইন ডেস্ক
কমছে পোশাক রপ্তানি

বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই উৎসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। এ খাতের প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। অপ্রচলিত বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান এবং অপ্রচলিত উভয় বাজারেই দেশের পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ইউরোপের প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামগ্রিক কিংবা পণ্যভিত্তিক (নিট ও ওভেন) ক্যাটাগরিতে কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমা এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। পুরো পোশাক রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশই যায় এই অঞ্চলে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে ইইউ-তে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের ১৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম (৬.১৪%), ক্রোয়েশিয়া (৮২.৩৭%), চেক প্রজাতন্ত্র (৪.০২%), ডেনমার্ক (১২.৫৬%),

ফিনল্যান্ড (২.৩৯%), ফ্রান্স (৯.৯০%), জার্মানি (১২.৭১%), গ্রিস (৪.৪৯%), ইতালি (৮.৫৬%), আয়ারল্যান্ড (১১.২৬%), লুক্সেমবার্গ (১৮.৫০%), মাল্টা (২৫.৮৩%), পর্তুগাল (৪.৩৯%), রোমানিয়া (২৩.৯০%), স্লোভাকিয়া (১৪.৪২%), সুইডেন (২.৮৩%) শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারের দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া (১০.০৯%), চিলি (৪.৫৪%), ভারত (১১.১৩%), জাপান (৬.৫৮%), দক্ষিণ কোরিয়া (১১.৭২%), মেক্সিকো (১২.৯৪%), নিউজিল্যান্ড (৯.২৮%), রাশিয়া (৩০.৩৬%), তুরস্ক (১৬.৬০%) কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে যুক্তরাজ্যের বাজারেও বাংলাদেশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। এই বাজারে পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা গত বছর ছিল ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম একক বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ওভেনের বাজার কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি ০.০৪ শতাংশ কমে প্রায় গত বছরের কাছাকাছি (৭.০২ বিলিয়ন ডলার) রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসি বাজার কৌশল ও সর্বোপরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ধীরগতির কারণে পোশাক খাত এ সমস্যায় পড়ছে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। শুধু কম দামে উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাশেদা কে চৌধূরী

বাজেট বাস্তবায়নে জরুরি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট বাস্তবায়নে জরুরি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, ‘সরকার শিক্ষা সেক্টরকে গুরুত্ব দিয়ে এবার স্বতন্ত্র খাত হিসেবে বরাদ্দ করেছে। এর আগে শিক্ষার কথা বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হতো। ফলে আমরা বুঝতেই পারতাম না আসলে শিক্ষায় কত শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এবার বাজেট বক্তৃতায় এসেছে যে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। আসলে বরাদ্দ হয়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শিক্ষায় মোট বাজেট দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি, অথচ বাজেট বক্তৃতায় এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হয়েছে এ ক্ষেত্রে প্রিন্টিং মিসটেক (ছাপাগত ভুল) হয়েছে। কারণ বাজেট ঘোষণার আগে শিক্ষামন্ত্রী নিজেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শিক্ষা খাতে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা।’

গতকাল শুক্রবার এক আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। রাশেদা কে চৌধূরী আরো বলেন, ‘শিক্ষা নিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের দাবি ছিল অন্তত জিডিপির আড়াই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার, যা ধীরে ধীরে আগামীতে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে বরাদ্দ জিডিপির ২ বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যা-ই ধরি না কেন, এটি শিক্ষায় সর্বোচ্চ, এটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দও বেশ বেড়েছে। এটিও ইতিবাচক। শিক্ষা ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে, যেগুলো কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে তা শিক্ষাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। নারী ও শিশু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যশিক্ষা এমনকি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দও শিক্ষা খাতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।’

গণসাক্ষরতা অভিযানের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘শিক্ষায় এবারের বরাদ্দের হারকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। শিক্ষাকে যেমন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তেমনভাবে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে যা এরই মধ্যে বাজেট ডকুমেন্টে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে মিড ডে মিল পাবে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জামা-জুতা পাবে, ছাত্রছাত্রীরা উপবৃত্তি পাবে ইত্যাদি। তবে বর্তমানে যে কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষামূলক হিসেবে মিড ডে মিল চালু রয়েছে তার অভিজ্ঞতা কিন্তু খারাপ আমাদের। শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবারের বিপরীতে কোনো কোনো স্কুলে পেয়েছে পচা ও মানহীন খাবার। তাই এ ক্ষেত্রে মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অঞ্চল সিলেক্ট করা হবে সেখানে যেন সবাইকে দেখা হয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দকে আমরা বরাদ্দ না বলে মানবসক্ষমতা বিনির্মাণের জন্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখি। আর বাজেট বরাদ্দের পর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়ন। এ ক্ষেত্রে যথাযথ মনিটরিং করে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বরাদ্দ দেওয়ার পর সেখানে দুর্নীতি হলে ছাত্রছাত্রীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা দেখেছি বাজেট বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা অতীতেও কম ছিল। এ সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ অতীতে অর্থের জোগান দিলেও অর্থ কোন জায়গায় খরচ হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাব আমরা দেখেছি।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন