• ই-পেপার

প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের বেতন বেড়ে কত হলো

অনলাইন ডেস্ক
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের বেতন বেড়ে কত হলো
ছবি: কালের কণ্ঠ

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের (সমমর্যাদার সহ) সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং উপমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের একান্ত সচিবদের (পিএস) বেতন বাড়িয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগ থেকে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৩১ মার্চ অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত জানতে চায়।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার এপিএসদের বেতন নবম গ্রেডের অষ্টম ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তাদের মাসিক মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা।

আরো পড়ুন
আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

 

এর আগে এপিএসদের বেতন নবম গ্রেডের শুরু ধাপে ২২ হাজার টাকা থেকে নির্ধারণ করা হতো। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট যোগ করে বেতন সমন্বয় করা হতো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি তারা বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা পাবেন। তবে এই কাঠামোর অধীনে কোনো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, আনুতোষিক বা ভবিষ্য তহবিল সুবিধা থাকবে না।

আরো পড়ুন
রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার স্কুলছাত্র

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার স্কুলছাত্র

 

এই বেতন কাঠামো শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যারা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) এপিএস এবং উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগ পান।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এপিএসদের ক্ষেত্রে এই নতুন গ্রেড প্রযোজ্য হবে না। তারা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও বিধি অনুযায়ী বেতন ও সুবিধা পাবেন।

বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এর মধ্যেই দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এটি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে সারা দেশে বিস্তার লাভ করার জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরির্বিত থাকতে পারে।

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া

বাসস
বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া

জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া।

আজ সোমবার মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ও লাভরভ সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে তিনি রাশিয়া যান। 

আরো পড়ুন
গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

লাভরভ ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরো কার্যকর ও বৈশ্বিক বিষয়াদিতে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

লাভরভ বলেন, আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতিতে রাশিয়া ড. খলিলুর রহমানের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

‘উভয় দেশই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে’ উল্লেখ করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উদযাপিত হবে।

আরো পড়ুন
প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

 

লাভরভ আরো বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীলভাবে রাজনৈতিক সংলাপ বিকশিত হচ্ছে। মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মস্কোর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ড. খলিলুর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের সম্পর্কের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই ক্ষেত্রগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে চাই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের বর্ধমান অংশীদারির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠকে জাতিসংঘসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা ও কারিগরি খাতেও এই সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যা বলল পুলিশ সদর দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যা বলল পুলিশ সদর দপ্তর
ফাইল ছবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বরাতে দেশে ‘১০০ দিনে ৬০৫ খুন’ শিরোনামে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি, কারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ না করে কেবল সংখ্যাগত তথ্য উপস্থাপন করার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, প্রকৃতপক্ষে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সিংহভাগই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে, যার সঙ্গে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্পর্ক নেই।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬০৫টি হত্যা মামলার মধ্যে ৩৩৬টি বা ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঘটেছে পূর্বশত্রুতার জেরে। এ ছাড়া পারিবারিক কলহের কারণে ১৪৬টি (২৪.১ শতাংশ), সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ৬৯টি (১১.৪ শতাংশ), আকস্মিক আঘাতে ১৯টি (৩.১ শতাংশ) এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৯টি (১.৫ শতাংশ) হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রেম বা পরকীয়াজনিত কারণে ৫টি, ছিনতাইকারীর হাতে ৬টি, দাঙ্গা-দস্যুতা-অপহরণসহ অন্যান্য ঘটনায় ১৫টি এবং রাজনৈতিক কারণে মাত্র ৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গত এক দশকে দেশে বছরে গড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে দুই মাসের ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে সম্ভাব্য সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি, যা ঐতিহাসিক গড়ের ভেতরেই অবস্থান করছে। ফলে বর্তমান সংখ্যাকে ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ হিসেবে চিত্রিত করার কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে দুই মাসে প্রতি লাখে হত্যার হার মাত্র ০.৩৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি কোনোভাবেই উচ্চমাত্রার অপরাধ হার নয়। জনসংখ্যা বিবেচনা না করে কেবল মোট সংখ্যা প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

ব্যাখ্যায় পুলিশের সবচেয়ে জোরালো যুক্তিগুলোর একটি হলো হত্যাকাণ্ডের শ্রেণিবিন্যাস। তাদের দাবি, মোট ৬০৫টি হত্যার মধ্যে রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে মাত্র ৩টি, যা মোট ঘটনার মাত্র ০.৫ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ হত্যাই ব্যক্তি পর্যায়ের বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব অথবা সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক সংঘাতের ফল। ফলে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়নে এই শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগের বছর বা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের হত্যার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি। তুলনামূলক তথ্য ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট সময়কে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা গবেষণাগত ও পরিসংখ্যানগতভাবে অসম্পূর্ণ।

পাশাপাশি পুলিশ উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের মামলা নথিভুক্তকরণ আরো উন্মুক্ত ও সক্রিয় হয়েছে। ফলে বেশি মামলা রেকর্ড হওয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, বরং পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারই প্রতিফলন।

পুলিশের মতে, অপরাধের প্রকৃত চিত্র জানতে শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে অপরাধের ধরন, কারণ, জনসংখ্যাভিত্তিক হার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণা সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্যে পুলিশ বলেছে, ‘শুধু সংখ্যা নয়, প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জনগণের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব।’