• ই-পেপার

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

বিশেষ লেখা

কওমি মাদরাসা যেন টর্চার সেল, সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
কওমি মাদরাসা যেন টর্চার সেল, সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি রিলে বাংলাদেশে কওমি মাদরাসাগুলোর শিশুদের ওপর নির্যাতনের একটি ভয়াবহ ভিডিওচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ৬ মিনিটের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কওমি মাদরাসার একজন শিক্ষক কোমলমতি শিশুদের বেধড়ক পেটাচ্ছেন। যেভাবে বীভৎস কায়দায় তিনি শিশুদের ওপর নির্মম বর্বরতা চালাচ্ছেন তা একটি সুস্থ সমাজে অকল্পনীয়। যে ব্যক্তি এভাবে পৈশাচিকভাবে অবুঝ শিশুদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তিনি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত। এ লোকটি শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তাকে কেবল হিংস্র হিতাহিত জ্ঞানশূন্য নরপিশাচের সঙ্গেই তুলনা করা চলে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নৃশংসতার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। একটু খোঁজখবর নিলে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ কওমি মাদরাসায় শাসনের নামে শিশু নিপীড়নের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে। আমরা সবাই কমবেশি এ ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত। কিন্তু কেউ এর প্রতিবাদ করি না। প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদরাসাগুলোতে শিশুদের ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অনেক মাদরাসায় অবুঝ শিশুরা শিক্ষক নামধারী কিছু নরপশুর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়। শিশু বলাৎকার, যৌন নিপীড়ন এবং হয়রানির ঘটনা এখন এসব কওমি মাদরাসায় স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই এসব জেনেও চুপ থাকি। ফলে আমাদের দেশের কওমি মাদরাসাগুলো এখন শিশুদের জন্য নরকে পরিণত হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধীনে বর্তমানে নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লাখ। এ ছাড়া অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনেও রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মাদ্রাসা। ফলে দেশে কওমি ধারার মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন দেওবন্দি ধারার শিক্ষার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, প্রতি বছর বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

বেফাকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩১ জন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ জন বা প্রায় ৫৭ শতাংশ। দেশে প্রাথমিক শিক্ষার প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখন কওমি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। সাধারণত দারিদ্র্য এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহের কারণে কওমি মাদরাসায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাবা-মা হারা এতিম শিশুদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হচ্ছে কওমি মাদ্রাসা। তা ছাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানের কওমি মাদরাসায় রাখার প্রবণতা বাড়ছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, কওমি মাদরাসায় ভর্তি শিশুদের ৮০ শতাংশই এতিম অথবা অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিক্ষা, খাদ্যের আশায় এসব শিশুকে মাদরাসায় পাঠান অভিভাবকরা। কিন্তু এসব অসহায় শিশু মাদরাসায় এসে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, লালমনিরহাটে ১২ বছর বয়সি এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৯ মার্চ ২০২৫, গাজীপুরের শ্রীপুরে আট বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ফটিকছড়ির একটি আবাসিক মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। কিন্তু কদিন পর তাদের জামিন হয়। ২৮ জুলাই ২০২৫ চট্টগ্রামে ১৩ বছর বয়সি এক ছাত্রকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এবং মামলা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ২৯ আগস্ট ২০২৫ কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ১১ বছর বয়সি দুই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর হয়, কিন্তু দুই সপ্তাহ পর ওই ধর্ষক সমঝোতার মাধ্যমে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেও একই উদ্বেগজনক ধারা দেখা যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নোয়াখালীতে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ছাড়া পান। ১৬ মার্চ ২০২৬ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সি এক আবাসিক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর পরিবারের ওপর আপসের চাপের অভিযোগ সামনে আসে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ নোয়াখালী শহরের একটি মাদরাসায় এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হন। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির খুব কম খবরই গণমাধ্যমে আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা এসব ঘটনা প্রকাশ করতে চায় না। তারা মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে এসব নিয়ে কথা বলে না। মাদরাসাগুলোতে শারীরিক নিপীড়নের ঘটনাকে এখন একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ একাধিক।

প্রথমত, আবাসিক বা আংশিক আবাসিক মাদরাসায় ঝুঁকি বেশি। শিশু পরিবার থেকে দূরে থাকে, তদারকি সীমিত থাকে এবং অভিযোগ গোপন রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, পরিচালক বা ধর্মীয় শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা অনেক সময় শিশুর বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। শিশু যা বলছে, পরিবার বা সমাজ তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করতে চায় না। তৃতীয়ত, ছেলে শিশুদের ভুক্তভোগী হিসেবে আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি, অথচ জন- আলোচনায় অংশটি অনেক সময় আড়ালে থাকে। চতুর্থত, কিছু ঘটনায় একাধিক ভুক্তভোগীর কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ এটি কেবল এককালীন বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রশ্ন নয়, কোথাও কোথাও ধারাবাহিক নির্যাতনের ইঙ্গিতও দেয়। পঞ্চমত, অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক, স্থানীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ একটি বড় বাস্তবতা। মাদরাসায় শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা সাধারণত তখনই সামনে আসে, যখন আঘাত গুরুতর হয় অথবা ঘটনা আর চাপা রাখা যায় না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে অনেক পরিবার ভয় পায়। ছেলে শিশু ভুক্তভোগী হলে লজ্জা, ভয় এবং সামাজিক ধারণা আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক শিশু নিজেই বুঝতে পারে না যে তার সঙ্গে যা ঘটছে তা অপরাধ। অনেক পরিবার ভাবে অভিযোগ উঠলে সন্তানের ভবিষ্যৎ, সম্মান বা বিয়ের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল আপসের পথে যেতে চাপ দেয়। ফলে পত্রিকায় যে সংখ্যাটি দেখা যায়, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি।

মাদরাসাগুলোয় যথাযথ তদারকির ঘাটতি এ ধরনের বহু ঘটনাকে অবাধে ঘটতে দিচ্ছে। উল্টো ছাত্রদের ওপর নির্যাতনকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে আসছে। বেত দিয়ে পেটানো, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা নানাভাবে নির্যাতনের নানা ঘটনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম সূত্রে সামনে আসছে। যৌন নির্যাতনের ঘটনাও গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্র এক ধরনের অন্ধদৃষ্টি দিয়ে রেখেছে।

এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কোনো সরকারকেই সে অর্থে কখনোই আগ্রহী বলে মনে হয়নি। অথচ শিশুর সুরক্ষা রাষ্ট্রের প্রধানতম কর্তব্যগুলোর একটি। শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক সব রকমের নির্যাতন বন্ধে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তিকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। বলা হয়, শাস্তি প্রদান শিশুর প্রতি ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক, অপমানকর আচরণ ও মানবাধিকার পরিপন্থি।’ (রিট পিটিশন নম্বর ৫৬৮৪/২০১০)।

রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫ এপ্রিল ২০১১ তারিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান রহিত করে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে স্কুল-কলেজে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমে এলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। কিন্তু বেসরকারি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই এ-সংক্রান্ত আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ জরুরি। শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো অন্যান্য আইনে বিচারযোগ্য হলেও এ ব্যাপারেও রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্বিকার দেখা গেছে। কওমি মাদরাসাশিক্ষায় সরকারের অর্থায়ন নেই। ঐতিহ্যগতভাবেই এখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই নিয়ন্ত্রণ না থাকার মানে এই নয় যে সরকার সব দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে অন্যতম স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগতভাবেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সনদের ১৯তম অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্র, পিতামাতা বা শিশুর দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কোনো শিশুকে কোনো প্রকার আঘাত বা নির্মম আচরণের মুখোমুখি করা যাবে না। বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবেই এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। মনে রাখতে হবে, স্কুলপড়ুয়া প্রতিটি শিশুর মতোই কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিশুর সুরক্ষা প্রদানের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। তেমনি শিক্ষার বাইরে থেকে শিশুর অধিকার নিশ্চিত করাটাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। সরকারকে অবশ্যই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও অন্যান্যের সঙ্গে নিয়ে শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।

কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং বেফাকের মতো শিক্ষা বোর্ডগুলোকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করতে হবে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে পারে। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য ন্যাশনাল ডেটাবেস করা প্রয়োজন। যাতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা- কোথাও তাদের নিয়োগ করা না হয়।

মাদরাসায় যে সন্তানকে অভিভাবকরা রেখে যান, সন্তান মানুষ হবে, এই আশাতেই রেখে যান; সেই সন্তানের নিথর দেহ কোলে করে নিয়ে যেতে নয়। শিশুর প্রতি যেকোনো প্রকারের সহিংসতা প্রবলভাবেই ধর্মবিরোধী আচরণ।

বর্তমান বিশ্বের খ্যাতিমান ধর্মতাত্ত্বিক জাস্টিস মুফতি ত্বকি উসমানী উপমহাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রখ্যাত আলেম, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রবাদপুরুষ হজরত থানভি (রহ.) প্রণীত একটি নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি নিয়ম করেছিলেন, মক্তবে কোনো শিক্ষক শিশুদের আঘাত করতে পারবেন না। কেউ আঘাত করলে তিনি তাকে মসজিদের বারান্দায় দাঁড় করিয়ে ওই শিশুর দ্বারা সেই শিক্ষককেই বেত মারাবেন। এর ফলে কেউ কোনো কোমলমতি শিশুকে আঘাতের সাহস করেননি। রসুল (সা.) ছিলেন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। অথচ কখনোই তিনি কোনো শিশুর গায়ে হাত দেননি। আনাস (রা.) শৈশবে ১০ বছর তাঁর সাহচর্যে ছিলেন, কখনো তিনি তাঁকে ধমক পর্যন্ত দেননি। বাচ্চাদের প্রসঙ্গে রসুল (সা.) কতখানি কোমল ছিলেন, এর উদাহরণ হচ্ছে ইমাম বুখারি বর্ণিত এই হাদিস। উম্মে খালেদ (রা.) নিজেই তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমার বাবা আমাকে নিয়ে রসুল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। সেদিন আমি একটা হলুদ রঙের জামা পরেছিলাম। আমাকে দেখে তিনি হাসিমাখা মুখে বললেন, ‘সানাহ সানাহ।’ (ইথোপিয়ান ভাষায় সানাহ মানে সুন্দর)। সেই শিশুমেয়েটিকে রসুল (সা.) এতখানি কাছে টেনে নিলেন যে সে পেছন দিকে থেকে রসুলের (সা.) কাঁধে ঝাঁপ দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরছিল। তার বাবা এটা দেখে তাকে বাধা দিতে গেলে রসুল (সা.) তাঁর পিতাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দেন। রসুল (সা.) তখন মদিনা রাষ্ট্রের অধিপতি। তাই শিশুর প্রতি এই চলমান সহিংসতা অধর্ম ও বেআইনি। শিশুর অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের এই নির্লিপ্ততা দুর্ভাগ্যজনক। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যে সমাজ ও রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্র কখনো কোনো সূচকেই সফল হতে পারে না।

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (২৬ জুলাই)

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (২৬ জুলাই)
গ্যাসসংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা

গ্যাসসংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা

চরম গ্যাসসংকটে দেশ। সংকটের তীব্রতায় অন্তত ৪০ শতাংশ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো বন্ধের পথে। স্থানীয় শিল্পের...

 

খাদ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়েছে

খাদ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়েছে

দেশে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ও খাদ্যপণ্য সরবরাহব্যবস্থায়। প্রাকৃতিক...

 

স্থানীয় নির্বাচনে মানুষের আস্থা অর্জনে প্রস্তুতির নির্দেশ

স্থানীয় নির্বাচনে মানুষের আস্থা অর্জনে প্রস্তুতির নির্দেশ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে ফ্রি-ফেয়ার। কোনো রকম বায়াসড হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করেন বিএনপি ক্ষমতায়...

 

এবার মায়ের কবরও বুলডোজারের মুখে

এবার মায়ের কবরও বুলডোজারের মুখে

বাড়ির উঠানে পাশাপাশি দুটি কবর। একটি মায়ের, আরেকটি ভাইয়ের। কবর দুটির দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক তাকিয়ে থাকেন...

 

১৭ একরের লেকে ঘিঞ্জি বস্তি

১৭ একরের লেকে ঘিঞ্জি বস্তি

একটি সুপরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল রূপনগর আবাসিক প্রকল্পের যাত্রা। মূল নকশায় ছিল...

 

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ৬ কারণ নিরসনে মাস্টারপ্ল্যানে ৪ প্রস্তাব

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ৬ কারণ নিরসনে মাস্টারপ্ল্যানে ৪ প্রস্তাব

চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পাঁচ হাজার ৯১৪টি পুকুর-জলাধার ছিল। এর মধ্যে দুই হাজার ৪৫৯টি ভরাট হয়ে গেছে।...

 

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অফিস করবেন বঙ্গভবনে

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অফিস করবেন বঙ্গভবনে

আগামী দুই মাসের মধ্যেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন তা নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের...

 

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ...

 

অনলাইনে চাকরির ফাঁদ

অনলাইনে চাকরির ফাঁদ

দেশে কর্মসংস্থানের সংকটকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন চাকরি প্রতারকচক্র। দেশি-বিদেশি পরিচিত...

 

ওষুধনির্ভর চিকিৎসা, নেই পুনর্বাসনসেবা

ওষুধনির্ভর চিকিৎসা, নেই পুনর্বাসনসেবা

প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও পাবনা মানসিক হাসপাতালে আধুনিক পুনর্বাসনভিত্তিক মানসিক চিকিৎসাসেবা...

 

যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হয়ে উঠল বিশ্বের এলএনজি পরাশক্তি

যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হয়ে উঠল বিশ্বের এলএনজি পরাশক্তি

আমদানিকারক থেকে বিশ্বের শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়,...

 

কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ নিরাপত্তাসেবা খাতে

কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ নিরাপত্তাসেবা খাতে

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরীদের চাহিদা। অর্থনৈতিক আগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে...

 

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল শনিবার দেশে ফিরেছেন।...

 

বিআইএইচএর সভাপতি নাসের, ওয়ালিদ সহসভাপতি নির্বাচিত

বিআইএইচএর সভাপতি নাসের, ওয়ালিদ সহসভাপতি নির্বাচিত

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএইচএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাসের রহমান...

 

ডিবির হেফাজতে তিন সমন্বয়ক সারা দেশে ব্লক রেইড

ডিবির হেফাজতে তিন সমন্বয়ক সারা দেশে ব্লক রেইড

২০২৪ সালের জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ২৬ জুলাইও ছিল সংঘাত, গ্রেপ্তার, কারফিউ ও...

 

বন্যার হুমকিতে ফসল ও উত্তরণে করণীয়

বন্যার হুমকিতে ফসল ও উত্তরণে করণীয়

দেশব্যাপী বন্যার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতিভারি...

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত ‘ট্রান্সপারেন্ট সোলার উইন্ডো’

বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত ‘ট্রান্সপারেন্ট সোলার উইন্ডো’

বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির সংকট এবং...

 

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের বাঁ পাশে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে...

 

চোটের মিছিলে দল সাজাতেই হিমশিম

চোটের মিছিলে দল সাজাতেই হিমশিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বহুপ্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে যেন সব শঙ্কা এসে ভর করেছে বাংলাদেশ দলের ওপর। একের পর এক...

 

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামের প্রকোপ

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামের প্রকোপ

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামের প্রকোপ চলছে। অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত এই রোগে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা গত ৩৫...

 

আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর যুবকদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি...

 

ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তায় কোটি টাকার বাণিজ্য

ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তায় কোটি টাকার বাণিজ্য

সরকারি রাস্তা দখল করে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে খুলনা জেলা পরিষদের কিছু...

 

ভাইরাসে আখে পচন লোকসানে চাষিরা

ভাইরাসে আখে পচন লোকসানে চাষিরা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টাঙ্গাইল জেলায় আখের আশাব্যঞ্জক ফলন হয়েছিল। তবে ফসল পরিপক্ব হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে...

 

রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে রোডম্যাপ চান ব্যবসায়ীরা

রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে রোডম্যাপ চান ব্যবসায়ীরা

দেশে রাসায়নিক খাতের অভ্যন্তরীণ বাজার ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, ওষুধ ও কৃষি খাতের...

 

টাঙ্গনে পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ঘিরে নদীভাঙন, গৃহহীন কয়েক পরিবার

টাঙ্গনে পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ঘিরে নদীভাঙন, গৃহহীন কয়েক পরিবার

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গন নদীতে তীব্র ভাঙনে তীরবর্তী...

 

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি বিএনপির কেউ...

 

সাংবাদিকের কাজ তথ্য দেওয়া, অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া নয় : তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকের কাজ তথ্য দেওয়া, অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া নয় : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব তথ্য তুলে ধরা, কোনো পক্ষের...

 

‘আমাদের বাড়ি’ একটি অনন্য উদ্যোগ

‘আমাদের বাড়ি’ একটি অনন্য উদ্যোগ

যশোর সদর উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির সবুজ প্রাঙ্গণে সকালের কোমল রোদের স্পর্শ। শিশিরভেজা ঘাসে ছোট ছোট...

 

কোরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

কোরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যারা

পবিত্র কোরআনে যেখানে ক্ষতি (খুসরান)-এর কথা এসেছে, তা মূলত দ্বিনের ক্ষতিকেই বোঝায়। আর কোরআনের ভাষায় ক্ষতিগ্রস্ত...

 

ব্যয় সংকোচনে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যয় সংকোচনে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার
ফাইল ছবি

ব্যয় সংকোচন ও জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গুরুত্ব বিবেচনায় একজন উপদেষ্টা ও ছয় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর জন্য এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৮ মন্ত্রীর গানম্যান ও হাউস গার্ড থাকছে। তাঁরা ঢাকার বাইরে সফরে পুলিশ এসকর্ট পাবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা বহরেও কাটছাঁট করা হয়েছিল।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিলিয়ে আরো ২৫ জন রয়েছেন।

সাধারণত একজন মন্ত্রীর প্রোটেকশন এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবলের একটি দল থাকে। তাঁদের চলাচলের জন্য পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে। এসকর্ট দলের বেতন-ভাতা ও গাড়ির জ্বালানি ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিআইপি প্রটোকলে ব্যয় কমাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়।

পরে সেই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনারের কাছে পৌঁছলে গত সপ্তাহ থেকে ১৮ মন্ত্রীর প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়।

যাঁদের জন্য এসকর্ট সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে তাঁরা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

যাঁদের পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে তাঁরা হলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম; শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সূত্র জানায়, ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলে সুরক্ষা দিতে শুধু ঢাকায়ই এক হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

পুলিশের প্রটোকল তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুদক চেয়ারম্যান রয়েছেন। এ ছাড়া সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে যেকোনো ব্যক্তিকে ভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে।

সরকার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ভিআইপি মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বঙ্গভবনে ১৩৫ জন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে ৪০ জন এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন।

ডিএমপির সূত্র জানায়, ঢাকায় ভিআইপি প্রোটেকশনের জন্য দুই হাজার ৫৭৫ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন এক হাজার ৬৯১ জন। অর্থাৎ ৮৯৬ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় একাধিক থানা ও পুলিশের স্থাপনায় হামলায় অনেক প্রোটেকশন গাড়ি পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গাড়ির সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান
সংগৃহীত ছবি

তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, তুরস্ক পৌঁছে সেনাবাহিনী প্রধান সেদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবির-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সফরকালে, সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার, তুর্কি চিপ অব দ্য জেনারেল স্টাফ সেলচুক বায়রাকতারোগলু, তুর্কি স্থল বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল ও ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রিসেপ এরদিনক ইয়েতকিন-এর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়াও, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি (এসএবি)-এর প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। তুর্কি স্থল বাহিনীর সদরদপ্তর পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে এএসআইএসগার্ড, তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস), এমকেই (Makine ve Kimya Endüstrisi A.Ş.), সারসিলমাজ (SARSILMAZ), এসটিএম (Savunma Teknolojileri Mühendislik ve Ticaret A.Ş.), রকেটসান (Rocket Industry and Trade Inc.), আসিলসান (Askerî Elektronik Sanayi) এবং বায়াকার টেকনোলজি (Baykar Teknoloji) উল্লেখযোগ্য।

পরিদর্শনকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ নিয়েও আলোচনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ | কালের কণ্ঠ