কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৬তম সভায় দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো, সড়ক, বন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি বরাদ্দ ও অধিগ্রহণের একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য উপস্থাপিত পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধোপাতিতা মৌজায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলার অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনায় পন্টুন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১. ৪৪ একর জমি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য মাদারবাড়ী মৌজায় ০.১৮১ একর জমি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ১৩.৩৩ একর, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পে ৫.৬৮৮১ একর এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার কালুরঘাট এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৭৪.১১ একর জমি।
এছাড়া জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলার ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ১৪টি প্রস্তাবেরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ‘অ্যাকসেস-বাংলাদেশ ফেজ-১’ প্রকল্পের আওতায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর সম্প্রসারণে ৫২.৭০ একর জমি অধিগ্রহণ, কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ধরখার) জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় মোট প্রায় ২৮.৬৮ একর জমি, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্প, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জের দুটি পৃথক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সদর উপজেলার পাটধা ও রঘুনন্দনপুর মৌজায় ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণ।
এ ছাড়া জাইকার অর্থায়নে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন (এসসিআরডি) প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন নির্মাণ এবং ঢাকা-কাঁচপুর-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণেরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ, শিক্ষা, বন্দর, নগর ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরো গতিশীল হবে।