তারুণ্যের ক্ষমতায়নকেই বর্তমান সরকারের ক্ষমতায়ন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে তরুণদের মধ্যে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিষ্টাচারের বিকাশ ঘটবে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস-ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হবে, ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিক কোলাবরেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
শ্রমিকবান্ধব সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই ঈদের সময় শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বকেয়া, বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা এমন একটি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, যা দীর্ঘদিন পর সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সেই জনগণের একটি বড় অংশ ছিল তরুণ সমাজ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ মূলত চারটি ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে, দেশের বেসরকারি খাতে, সরকারি খাতে, দেশের বাইরে এবং স্বনির্ভর বা উদ্যোক্তা হিসেবে। এ চারটি ক্ষেত্রকেই আমাদের সমান গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হবে না। বরং দেশের চাহিদা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী ও দক্ষ, সেই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশিক্ষণের কার্যকর প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা চাই তিন মাস, ছয় মাস বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স ও ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের আরো বিস্তৃতি ঘটুক। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অথবা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একইভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল শিক্ষা, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আসবে।
বর্তমানে ২৩টি ভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কিন্তু এসব প্রশিক্ষণের কারিকুলাম, সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং শেখানো দক্ষতার মধ্যে সামঞ্জস্যতা প্রয়োজন। এই বাস্তবতা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। লক্ষ্য হচ্ছে, এনএসডিএ-এর সনদ যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ ও মানের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে একটি অভিন্ন মানদণ্ড গড়ে উঠবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করবে।