kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

আরো ৫৪১ জন টিকা নিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:১৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আরো ৫৪১ জন টিকা নিলেন

বিএসএমএমইউতে গতকাল অন্য অনেকের সঙ্গে টিকা নেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে টিকা দেওয়া শুরুর দ্বিতীয় দিনে একাধিক মন্ত্রী, সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যায়ের ব্যক্তিরাসহ মোট ৫৪১ জন করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। টিকা দেওয়ার পর্যবেক্ষণ পর্যায়েই গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এই টিকাদান কার্যকম। প্রতিটি হাসপাতালেরই বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও টিকা নিয়েছেন উচ্ছ্বাসের সঙ্গে।

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা নিয়েছেন ৫৬৭ জন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সবাই ভালো আছেন এবং কারো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনার টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময়ে গত দুই দিন যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ চলবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে দেশে সর্বজনীন টিকাদান কার্যক্রম।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধনের ‘সুরক্ষা অ্যাপে’ মোট এক হাজার ২৫৪ জন টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন। যদিও অনেকেই নিবন্ধন করার চেষ্টা করেও পারেননি বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে গতকাল থেকেই সারা দেশে টিকা সরবরাহ শুরু হচ্ছে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তালিকা অনুসারে দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে টিকা পৌঁছে দিচ্ছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে গত ২০ জানুয়ারি ভারত সরকারের দেওয়া ২০ লাখ ডোজ এবং সরকারের সঙ্গে সেরাম ও বেক্সিমকোর চুক্তির আওতায় কেনা তিন কোটি ডোজের মধ্যে প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি দেশে আসে। পরীক্ষা শেষে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত এই টিকা দেশের মানুষের শরীরে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

গতকাল যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (সেবা) মো. আব্দুল মান্নান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা করোনার টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া নিজে টিকা নিয়ে সেখানে অন্যদের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো সমস্যা মনে হয়নি। একদম স্বাভাবিক আছি। আশা করি আমার দেখাদেখি অন্যরা উৎসাহ পাবে।’ পরে সকাল সোয়া ১০টায় ওই কেন্দ্রে এসে টিকা দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান ও তথ্যসচিব খাজা মিয়াও এখানে টিকা নেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এই কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সকাল ৯টায় ঢাকা মেডিক্যালে, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে টিকা দেওয়া শুরু হয়। মন্ত্রী এই হাসপাতালগুলোর কয়েকটিতেও যান। সব খানেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদের কারোরই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সবাই ভালো আছেন। আজ সবাই যেন ঈদের আনন্দ নিয়ে টিকা দেওয়ার জন্য এসেছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে সব ধরনের গুজব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ’

টিকা নেওয়ার পরে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া টের পাচ্ছি না। একটি চক্রান্তকারী মহল টিকার বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে  www.surokkha.gov.bd ওয়েব পোর্টালে নিবন্ধন করে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য ফ্রন্টলাইনারসহ সবাইকে আহ্বান জানাই।’

সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ টিকা নিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল এই হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন ১২০ জন, যাঁদের মধ্যে ৫৪ জন চিকিৎসক, সাতজন নার্স এবং ৫৮ জন অন্য স্বাস্থ্যকর্মী। এই হাসপাতালে প্রথম টিকা নেন ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন ৬৫ জন। প্রথম টিকা নেন ডা. নন্দিতা পাল। এখানে টিকা নেওয়াদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ১২ জন, নার্স পাঁচজন এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মী ৪৮ জন।  টিকা নেওয়ার পর সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো লাগছে। বিশেষ কিছু অনুভব করছি না। এটি অন্য সাধারণ টিকার মতই।’

এ ছাড়া কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৩৮ জন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সসহ ৫৮ জন টিকা নিয়েছেন। বুধবার উদ্বোধনী দিনে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ২৬ জনের টিকা দেওয়ার পর গতকাল এই হাসপাতালে আরো ১০০ জন টিকা নিয়েছেন; যাঁদের মধ্যে চিকিৎসক ৫০ জন, নার্স ১৩ জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আছেন ৩৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন তাঁরা সবাই ভালো আছেন। কারো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই।’ তিনি জানান, আবার ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ঢাকা থেকে সারা দেশে টিকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ (গতকাল) থেকেই যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। তিনি এ সময় কভিড-১৯ টিকা নিয়ে বিশেষ মহলের গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

টিকা নেওয়ার পরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘টিকা নেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই আমি আমার স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছি। কোনো রকম অসুবিধাই হয়নি।’

এদিকে অন্যদের উৎসাহিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দম্পতি চিকিৎসক গতকাল টিকা দিয়েছেন। এঁরা হলেন হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব ও তাঁর স্ত্রী চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী এবং কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান ও তাঁর স্ত্রী প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা