kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার প্রভাব

চিংড়ি, জীবন্ত কাঁকড়া-কুচিয়া রপ্তানি বন্ধ, ক্ষতি ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা

সজীব আহমেদ   

৩১ মার্চ, ২০২০ ২০:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিংড়ি, জীবন্ত কাঁকড়া-কুচিয়া রপ্তানি বন্ধ, ক্ষতি ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ এবং জীবন্ত কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ির এবং জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানির ভবিষ্যত। করোনাভাইরাসের কারণে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের ২৯০টি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। তাতে ৪৬০ কোটি টাকার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ না দেওয়ায় ৯৯৯ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ অবিক্রীত পড়ে আছে।

বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানি আয়ের অন্যতম কৃষিভিত্তিক খাত, প্রক্রিয়াজাতকৃত হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ প্রক্রিয়াকরণ ১০৫ টি কারখানা আছে তার মধ্যে মাত্র ৩৫টি কারখানা রপ্তানিতে সক্রিয় রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৬০ লাখের অধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।

রপ্তানি আয়ে চিংড়ির পরেই জীবন্ত কাঁকড়ার অবস্থান। কাঁকড়া খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এ চারটি জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়। করোনার কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানিকারকরা। কুচিয়া সারা দেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে গত জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি বন্ধ থাকায় মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া ও কুচিয়া মারা যাওয়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ রপ্তানি খাত। কাঁকড়া ও কুচিয়া খাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। গত অর্থবছরে জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি হয় ৮০০ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমায়িত চিংড়ি, মাছ এবং জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি বন্ধ থাকায় এ দুই খাতে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৯০টি অর্ডার (এলসি) বাতিল হয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ না দেওয়ায় ৯৯৯ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ অবিক্রীত পড়ে আছে। আমাদের পণ্য পঁচনশীল, যা গুণগত মানসম্মত থাকা অবস্থায় বিক্রয় করতে হয়। এখন বাগদা চিংড়ির মওসুম শুরু হয়েছে, যা অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় কৃষকদের ঘের হতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আহরণ করতে হয়। এক গোণের (চিংড়ি ধরার মৌসুম) চিংড়ি আহরণ না করলে পরবর্তী গোণ পর্যন্ত অধিকাংশ চিংড়ি মারা যায়। এই অতি উচ্চ মূল্যবান চিংড়ি মাছ ঘেরে ৫০-৬০ গ্রেডে আসলেই চিংড়ি চাষি তা আহরণ করতে ব্যস্ত হয়ে যায় কারণ অনেক সময় বিভিন্ন ভাইরাসেও চিংড়ি মারা যায়। এ মুহুর্তে যদি কৃষকরা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তারা সর্বহারা হয়ে যাবে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৬০ লাখের অধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমান এই সংকট মোকাবেলার জন্য সুদবিহীন ঋণ প্রদানের প্রয়োজন। অবিক্রিত মজুদকৃত পণ্যের দুই বছরের সুদ মওকুফ করা এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ন্যায় হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিতে ১০ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা করা।

বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিলড ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী আবুল কাশেম কালের কণ্ঠকে জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে চীনে জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া ও কুচিয়া মারা যাওয়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের। এ খাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। গত অর্থবছরে জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি হয় ৮০০ কোটি টাকা। চীনে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এ দুই মাস তাদের বিভিন্ন উৎসব থাকায় তখন রপ্তানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং দামও ভালো থাকে। তাই আমরা চীনে রপ্তানি করার জন্য বিপুল পরিমাণ জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া মজুদ করে রেখেছিলাম।

সম্প্রতি দেশের এমন পরিস্থিতিতে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি শিল্পের সংকট বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন। এদিকে জীবন্ত কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি খাতের সংকট বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিলড ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী আবুল কাশেম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা