• ই-পেপার

আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো ঢাকায়

শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাশে থাকবে আইএলও

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাশে থাকবে আইএলও
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও আইএলও’র মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো। ছবি : সংগৃহীত

ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এ ছাড়া আগামী অক্টোবর মাসের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে নীতিগত ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো। 

আজ রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। 

মন্ত্রী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও-র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, যার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে।

প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও-র কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।

শ্রম পরিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ আইএলও-র রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও মাইলফলকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আইএলও-র ধারা ২৬ এর অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য তিনি মহাপরিচালকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতের যুগান্তকারী সংস্কার, বিশেষ করে ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব ও সংস্কারমুখী ভাবধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং শ্রম ও কর্মসাংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের মোট লোকসান ১৮৮৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের মোট লোকসান ১৮৮৯ কোটি টাকা
ফাইল ছবি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সংস্থাটি মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করলেও পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।

রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় ও ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গত অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং বিবিধ উৎস থেকে মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯। অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে।

তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে তারা সমীচীন মনে করে না। এই ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সে হিসাবে পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বাড়ানো হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রীর দাম, আমদানিনির্ভর ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ের মতে, বর্তমান ভাড়া প্রায় এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরো কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন চান ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন চান ডেপুটি স্পিকার
ছবি : কালের কণ্ঠ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের চাহিদাও বদলে যায়। তাই সময়ের প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও হালনাগাদ করাও জরুরি।’

রবিবার (১৯ জুলাই) সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার এ সব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নের নেতৃত্বে সিনিয়র গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার ড্রাগান পোপোভিচ, সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সাক্ষাৎকালে সংসদ গ্রন্থাগারে সদ্য স্নাতকদের জন্য পার্লামেন্টারি ফেলোশিপ বা ইন্টার্নশিপ চালুর বিষয়ে ইউএনডিপির প্রস্তাবে সম্মতি জানান ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক হবে। তবে সংসদের কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রকল্পের সঙ্গে যাতে সমন্বয়হীনতা বা কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে তাতে সম্মতি জানান ডেপুটি স্পিকার। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের জন্য ইউএনডিপির উদ্যোগে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

১৮ সংগঠন পাবে সরাসরি সহায়তা

জলবায়ুসংকটে প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় ইইউর নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ুসংকটে প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় ইইউর নতুন উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশগত সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ উদ্যোগের আওতায় দেশের ১৮টি তৃণমূল সংগঠনকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নীতিগত প্রচার কার্যক্রম, তথ্যভিত্তিক গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং দক্ষতা বাড়িয়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করা হবে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ইইউর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে। সহযোগী হিসেবে রয়েছে এডুকো, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং উত্তরণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধি এডউইন কোকেক, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক যেকোনো উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধি এডউইন কোকেক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস উইয়াল বলেন, অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রকল্পের সফলতা শুধু কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়, অংশীদারির শক্তি দিয়েও মূল্যায়ন করা হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো জটিল লক্ষ্য কোনো একক সংস্থা বা দাতার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সরকার এবং জনগণের সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত সংকট নয়, এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতারও প্রশ্ন। তাই জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ১৮টি তৃণমূল সংগঠনকে নির্বাচিত করা হবে। এসব সংগঠনের মধ্যে নারী নেতৃত্বাধীন, আদিবাসী, দলিত এবং যুব সংগঠন অগ্রাধিকার পাবে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত প্রচার কার্যক্রম, তথ্যভিত্তিক গবেষণা, জলবায়ু-সম্পর্কিত মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশগত সুশাসনে অংশগ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো জানায়, স্থানীয় নেতৃত্ব, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাবভোগী জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আরো শক্তিশালী হবে এবং দেশে জলবায়ু সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।