• ই-পেপার

সাদা জুতা পরিষ্কার করার উপায়

রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও যেসব কারণে চার্জ কমে যায়

অনলাইন ডেস্ক
রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও যেসব কারণে চার্জ কমে যায়
মোবাইল ফোন। ছবি : রয়টার্স

দিনের শেষে স্মার্টফোনটি ১০০ শতাংশ চার্জ দিয়ে ঘুমাতে গেলেন। সকালে উঠে দেখলেন চার্জ ৮-১০ শতাংশ, কখনো তারও বেশি কমে গেছে। অথচ, রাতে ফোন ব্যবহারই করা হয়নি। অনেকেই মনে করেন এটি ব্যাটারির সমস্যা। খবর টেকঅ্যাভাইজর ডটকম 

বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এত সহজ নয়। ফোনের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং সফটওয়্যারের কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যবহার না করলেও ব্যাটারির চার্জ ধীরে ধীরে কমতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এর কয়েকটি সাধারণ কারণ।

  • ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের কার্যক্রম

অনেক অ্যাপ ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। ই-মেইল সিঙ্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, ক্লাউড ব্যাকআপ কিংবা লোকেশন আপডেটের মতো কাজ চলতে থাকে। এসব প্রক্রিয়া প্রসেসর ও ইন্টারনেট ব্যবহার করায় ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ কমে যায়।

  • দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক

রাতে যদি ফোন এমন জায়গায় থাকে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, তাহলে সেটি বারবার টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। এই অবিরাম নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যবহার না করলেও চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে।

  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস চালু থাকা

অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ বা লোকেশন সার্ভিস বন্ধ করেন না। এগুলো সক্রিয় থাকলে ফোন আশপাশের ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে থাকে। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং সকালে চার্জ কমে যায়।

  • সফটওয়্যার বা অ্যাপের ত্রুটি

কোনো অ্যাপ ঠিকভাবে অপ্টিমাইজড না হলে বা সফটওয়্যারে বাগ থাকলে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিকভাবে প্রসেসর ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে ফোন স্লিপ মোডে থাকলেও ব্যাটারির চার্জ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খরচ হয়। নিয়মিত সফটওয়্যার ও অ্যাপ আপডেট করলে অনেক সময় এ সমস্যা কমে।

  • ব্যাটারির বয়স বেড়ে যাওয়া

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কার্যক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে। কয়েক বছর ব্যবহারের পর ব্যাটারি আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না। তাই ফোন ব্যবহার না করলেও চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

  • অতিরিক্ত নোটিফিকেশন ও সিঙ্কিং

বিভিন্ন অ্যাপ থেকে সারারাত নোটিফিকেশন আসা, ছবি বা ফাইল ক্লাউডে সিঙ্ক হওয়া এবং স্বয়ংক্রিয় আপডেট চলতে থাকলে ব্যাটারির ওপর প্রভাব পড়ে। এসব কার্যক্রম একেকটি ছোট মনে হলেও সারারাতে মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ খরচ হতে পারে।

  • তাপমাত্রার প্রভাব

খুব বেশি গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ ব্যাটারির কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখা হলে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হারাতে পারে। তাই ফোন স্বাভাবিক তাপমাত্রার ঘরে রাখা এবং সরাসরি রোদ বা অতিরিক্ত গরম জায়গা এড়িয়ে চলা ভালো।

চার্জ কমে যাওয়া কমাতে যা করাণীয়

রাতে ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন, প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ ও লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখুন এবং দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় থাকলে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা, ব্যাটারির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি চার্জ খরচ করা অ্যাপ শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে রাখলে রাতভর অপ্রয়োজনীয় চার্জ ক্ষয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আজ বিশ্ব সাপ দিবস

জীবনযাপন ডেস্ক
আজ বিশ্ব সাপ দিবস
সংগৃহীত ছবি

সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন অনেক মানুষ। যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে সাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয়, রহস্য ও নানা কুসংস্কার। পুরাণ, ধর্মীয় গল্প ও লোককথাতেও সাপকে কখনো ভয়ংকর প্রাণী, কখনো আবার শক্তি ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, সাপ প্রকৃতির শত্রু নয়; বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একটি প্রাণী। এই প্রাণী সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতেই প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব সাপ দিবস

ভয় নয়, সাপকে জানতে হবে

বিশ্বজুড়ে সাপের হাজারো প্রজাতি রয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই বিভিন্ন ধরনের সাপের বসবাস। বন, পাহাড়, মরুভূমি, জলাভূমি এমনকি সমুদ্রেও রয়েছে তাদের বিচরণ।

বর্তমানে বিশ্বে সাপের ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব সাপ বিষধর নয়। মাত্র একটি ছোট অংশের সাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। অধিকাংশ সাপই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে।

ল

প্রকৃতিতে সাপের ভূমিকা

সাপকে প্রকৃতির দক্ষ শিকারি বলা হয়। তারা ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর ফলে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশেষ করে কৃষকদের জন্য সাপ অনেক সময় উপকারী হয়ে ওঠে, কারণ তারা ফসলের ক্ষতি করা ইঁদুরের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে।

সাপের জীবনযাত্রা

সাপ শীতল রক্তের প্রাণী। তাই শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে তাদের বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। ঠান্ডায় তারা রোদে উষ্ণতা নেয়, আবার গরমে ঠান্ডা ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়।

তাদের শরীরের বিশেষ গঠন বড় শিকারও সহজে গিলে ফেলতে সাহায্য করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো চামড়া ফেলে নতুন চামড়া ধারণ করাও সাপের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

মানুষের ভয় কতটা যুক্তিসঙ্গত?

সাপকে অনেকেই আক্রমণাত্মক প্রাণী মনে করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সাপই মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। সাধারণত ভয় পেলে, আটকা পড়লে বা নিজেদের জীবন হুমকির মুখে পড়লেই তারা আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ দেখলে না মেরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

বিপদের মুখে সাপের অস্তিত্ব

বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস ও মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক সাপের প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।

একটি প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া শুধু সেই প্রাণীর ক্ষতি নয়, এর প্রভাব পড়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রে। তাই সাপ সংরক্ষণ মানে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখা।

ক্ক

সাপ নিয়ে কিছু মজার তথ্য

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপগুলোর একটি হলো বার্বাডোস থ্রেড স্নেক। অন্যদিকে সবচেয়ে লম্বা সাপ হিসেবে পরিচিত রেটিকুলেটেড পাইথন। সবচেয়ে ভারী সাপের মধ্যে রয়েছে গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। আর বিষধর সাপের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হলো কিং কোবরা

সাপকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য সিনেমা ও গল্প, যেখানে অনেক সময় তাদের ভয়ংকর হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাপ প্রকৃতির একটি প্রয়োজনীয় অংশ।

বিশ্ব সাপ দিবস তাই মনে করিয়ে দেয়—সাপকে ভয় নয়, বরং সঠিকভাবে জানতে হবে। সচেতনতা ও সংরক্ষণের মাধ্যমেই মানুষ ও সাপের সহাবস্থান সম্ভব।

কারো অপেক্ষা, মনের অস্থিরতা—কেন রাত জাগে তরুণরা?

অনলাইন ডেস্ক
কারো অপেক্ষা, মনের অস্থিরতা—কেন রাত জাগে তরুণরা?
প্রতীকী ছবি

রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ, ঘুমিয়ে পড়েছে শহর। অথচ জেগে আছে অনেক তরুণ। কারও হাতে স্মার্টফোন, কেউ আবার অপেক্ষায়—হয়তো একটি মেসেজের, একটি ফোনকলের। আবার কারো ঘুম কেড়ে নিচ্ছে মনের অস্থিরতা। কেন রাত হলেই তরুণদের মনে ভিড় করে এত কথা, এত আবেগ ?

 

সকাল থেকে রাত—পড়াশোনা, অফিস, কাজ আর নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকে তরুণরা। দিনের ব্যস্ততায় নিজের জন্য সময়টুকুই যেন হারিয়ে যায়। তাই রাত নামলে ঘুমকে একটু দূরে সরিয়ে রেখে নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে চান অনেকে।

মনোবিজ্ঞানে সারাদিনের হারানো সময় ফিরে পেতে ইচ্ছা করে ঘুমাতে দেরি করার এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’

রাতের নীরবতায় জেগে ওঠে চাপা আবেগ

দিনের ব্যস্ততায় অনেক চিন্তা ও আবেগ চাপা পড়ে থাকে। কিন্তু রাতের নীরবতায় বাইরের ব্যস্ততা কমে গেলে সেসব ভাবনা আবার মাথায় ঘুরতে শুরু করে।

কারও সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা কারও একটি মেসেজের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে মনের ভেতর তৈরি হতে পারে অস্থিরতা।

মনোবিজ্ঞানে একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকাকে ‘রুমিনেশন’ বলা হয়। গবেষণায় তরুণদের ঘুমের সমস্যা ও বারবার নেতিবাচক চিন্তার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কখনো রাত জাগার কারণ কোনো সিরিজ নয়, কোনো ভিডিওও নয়। কখনো শুধু একজন মানুষ। তার একটি মেসেজ, একটি ফোনকল কিংবা অনলাইনে আসার অপেক্ষা। দিনের ব্যস্ততায় যে আবেগগুলো চাপা পড়ে থাকে, রাতের নীরবতায় সেগুলোই যেন সবচেয়ে বেশি জেগে ওঠে।

 

‘আর পাঁচ মিনিট’ থেকেই শুরু

ঘুমানোর আগে ফোন হাতে নেওয়া এখন অনেকের রাতের অভ্যাস। ‘আর পাঁচ মিনিট’—এই ভেবেই শুরু হয় স্ক্রলিং।

ফেসবুক, ইউটিউব শর্টস বা টিকটকে একটার পর একটা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যায়, তা অনেকেই টের পান না।

আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের সাবেক সভাপতি ড. জেমস রাওলি বলেন, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার কমানো উচিত। বিশেষ করে মানসিক চাপ তৈরি করে—এমন কনটেন্ট ঘুমকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে।

 

প্রেম, অপেক্ষা আর রাত জাগার গল্প

দিনের ব্যস্ততায় যে কথাটি বলা হয়নি, রাতে সেটিই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। কেউ পুরোনো মেসেজ পড়েন, কেউ প্রিয় মানুষটির শেষ ‘অনলাইন’ সময়টুকু দেখেন।

আবার কেউ হয়তো জানেন, ওপাশ থেকে আর কোনো মেসেজ আসবে না। তবু অভ্যাসের টানে রাত জেগে ফোন হাতে নেন।

কখনো ঘুম না আসার কারণ ফোন নয়—মনের ভেতর জমে থাকা কিছু কথা। যে কথাগুলো কাউকে বলা হয়নি, রাতের নীরবতায় সেগুলোই যেন সবচেয়ে বেশি শব্দ করে।

এক পর্ব থেকে রাতভর গল্প

অনলাইন সিরিজও রাত জাগার অন্যতম কারণ। একটি পর্ব শেষ হয়, কিন্তু গল্প শেষ হয় না। পরের পর্বের কৌতূহল মানুষকে আটকে রাখে।

‘আরেকটা পর্ব দেখি’—এই ছোট্ট সিদ্ধান্তই কখনো পুরো রাত কেড়ে নেয়। একে বলা হয় ‘বিঞ্জ ওয়াচিং’

ফোনের আলোতেও পিছিয়ে যায় ঘুম

মোবাইল, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের আলো ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দে সমস্যা হতে পারে।

ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও চোখে ঘুম আসে না। ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে ফোনের ব্যবহার কমানো এবং মানসিকভাবে উত্তেজক কনটেন্ট এড়িয়ে চলা ভালো।

তাহলে কি শুধু স্মার্টফোনই দায়ী?

উত্তরটা এত সহজ নয়।

কখনো ফোন, কখনো কাজের চাপ, কখনো মানসিক অস্থিরতা—আবার কখনো কারো জন্য অপেক্ষা। সব মিলিয়েই রাত জাগার অভ্যাস তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কম ঘুমের সঙ্গে উদ্বেগ, বিরক্তি ও মন খারাপের মতো সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ ঘুম কমলে মনের ওপর চাপ বাড়ে, আবার মনের অস্থিরতা বাড়লে ঘুমও আরো দূরে সরে যায়।

ঘুমের কাছে ফিরতে হবে

ঘুম ফেরাতে প্রথমেই রাতের সঙ্গে একটু বন্ধুত্ব করতে হবে। ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন ও ল্যাপটপ দূরে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ওঠা, রাতে অতিরিক্ত চা-কফি কমানো ও বিছানায় শুয়ে ফোন না চালানোর অভ্যাসও ঘুম ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—মনের কথাগুলোকে সবসময় রাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

কারণ সব রাত কারো অপেক্ষায় কাটানোর জন্য নয়। কিছু রাত শুধু নিজের জন্যও রাখা দরকার। শরীর আর মন—দুটোই তো একটু বিশ্রাম চায়।

রাতের খাবার না খেলে শরীরে যে ধরনের প্রভাব পড়ে

অনলাইন ডেস্ক
রাতের খাবার না খেলে শরীরে যে ধরনের প্রভাব পড়ে
সংগৃহীত ছবি

দিনভর ব্যস্ততা, অফিসের চাপ, যানজট, সন্ধ্যার অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে অনেকের রাতের খাবার বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়ার অভ্যাসের কারণে ইচ্ছা করেই রাতের খাবার খান না। খবর এভরিডে হেলথ

অনেকের ধারণা, রাতের খাবার বাদ দিলেই ওজন দ্রুত কমে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি এই অভ্যাসের কারণে শরীরের ক্ষতি হতে পারে? গবেষণা বলছে, মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও বড় সমস্যা নাও হতে পারে, কিন্তু এটি যদি নিয়মে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শুধু দিনের তৃতীয় বেলার খাবার নয়। এটি ঘুমের আগে শরীরকে শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়। কারণ ঘুমের সময়টুকুই সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, যখন আমরা কিছুই খাই না। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার একটি সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস–এর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া শিশুদের পুষ্টি, পড়াশোনার ফল এবং স্থূলতার ঝুঁকির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেশিরভাগ মানুষ রাতের খাবারেই সবচেয়ে বেশি সবজি খেয়ে থাকেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খান না। তাই রাতের খাবার বাদ দিলে সেই সুযোগটিও হাতছাড়া হতে পারে।

রাতের খাবার না খেলে শরীরে যা ঘটে

আপনি যখন খাবার খান বা না খান, তখনই শরীরে একাধিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা গবেষণা বলছে, প্রতিদিনের খাবারের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ অনিয়মিত খাবার খাওয়া শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা ২৪ ঘণ্টার জৈবঘড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।

দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জার্নাল অব দ্য একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস–এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। একই গবেষণায় দুপুর বা রাতের খাবার নিয়মিত বাদ দেয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়টি উঠে আসে।  

স্বল্পমেয়াদে রাতের খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, কাঁপুনি বা শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার বাদ দেওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। তবে যাদের ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা নেই, তারা মাঝেমধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না।  

সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে ২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে খাবার খেলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং লেপটিন নামের সেই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা আমাদের পরিপূর্ণতার অনুভূতি দেয়। এর ফলে স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ইনোভেশন ইন এজিং সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার লক্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার বাদ পড়তেই পারে। তবে সেটি যেন নিয়মিত না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ আতের খাবার বাদ দিলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে চান সে ক্ষেত্রেও রাতের খাবার বাদ দেওয়া যাবে না বরং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।