kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

পোস্টপার্টাম সাইকিয়াট্রিক ডিস-অর্ডারস হলে

ডা. ছাবিকুন নাহার

১৬ জুলাই, ২০২২ ১২:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পোস্টপার্টাম সাইকিয়াট্রিক ডিস-অর্ডারস হলে

ঘটনা এক

হাসিখুশি এক মেয়ে। দারুণ সুন্দর সাংসারিক বোঝাপড়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব পরিকল্পনা করে, ডাক্তার দেখিয়ে বাচ্চা নিলেন। প্রথমবারের মতো বাবা-মা হতে যাচ্ছেন! সে কী উচ্ছ্বাস! বাচ্চা হওয়ার পর দেখা গেল মেয়েটি বাচ্চাটিকে ছুঁয়েও দেখছে না, সারাক্ষণ কাঁদছে!

ঘটনা দুই

কিছুদিন আগেই পত্রিকায় একটা সংবাদ হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

একটা শিশু মিসিং। দুদিন আগে মাত্র সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়। মা কেবিনে শিশু নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। নানি একটু বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন বাচ্চা নেই। পরে বাচ্চাটিকে পাওয়া গেল হাসপালের পাশেই অন্য এক বিল্ডিংয়ের ছাদে। মৃত। রক্তাক্ত। কেবিন থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। কে কাজটি করেছিল? প্রশ্ন রইল।

এতক্ষণ আমরা যে দুটি ঘটনার কথা শুনলাম, দুটোই পোস্টপার্টাম সাইকিয়াট্রিক ডিস-অর্ডারের কেস। সাধারণত তিন ধরনের সাইকিয়াট্রিক ডিস-অর্ডার হয়ে থাকে—পোস্টপার্টাম ব্লু, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং পোস্টপার্টাম সাইকোসিস।

পোস্টপার্টাম কী

বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার পরের সময়টাকে আমরা পোস্টপার্টাম পিরিয়ড বলি। এই সময়ে শতকরা ৮৫ ভাগ নারী কিছু না কিছু সাইকিয়াট্রিক অসুখে ভোগে। এর মধ্যে শতকরা ১৫ ভাগ মারাত্মক হয়।

পোস্টপার্টাম ব্লু

৫০-৮০ শতাংশ নারী কমবেশি এই সমস্যায় ভুগে থাকে। ডেলিভারির চার থেকে পাঁচতম দিন ব্লুর পিক সময়। এটি সবচেয়ে কম ক্ষতিকর। এটির লক্ষ্মণ হচ্ছে—খালি খালি  কান্নাকাটি করা, মন খারাপ করে থাকা, বাচ্চাকে যত্ন না করা, ইরিটেটিং থাকা, না ঘুমানো ইত্যাদি। তেমন কোনো চিকিৎসা ছাড়াই দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে পরিবারের সাপোর্ট সবচেয়ে বেশি জরুরি এ ক্ষেত্রে।

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন

সাধারণত ডেলিভারির দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ধরা পড়ে। উপরোক্ত উপসর্গের পাশাপাশি নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা যায়—ক্ষুধামন্দা, স্বাভাবিক কাজকর্মে অনীহা,

কোনো কিছুতে আনন্দ খুঁজে না পাওয়া, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি। এদের পারিবারিক সহযোগিতা ছাড়াও যথাযথ চিকিৎসা দরকার পড়ে।

পোস্টপার্টাম সাইকোসিস

তিনটার মধ্যে এটা সবচেয়ে মারাত্মক। শতকরা ১-২ ভাগ নারী এটায় আক্রান্ত হয়। এদের উপরোক্ত উপসর্গের পাশাপাশি ডিলিউশন, হ্যালুসিনেশন, সুইসাইড এবং ইনফ্যান্টিসাইড প্রবণতা থাকে। এদের অবশ্যই সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসা নিতে হবে। বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে বিধায় বাচ্চাকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা সরিয়ে রাখতে হয়।

লেখক : গর্ভবতী, প্রসূতি ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা

 



সাতদিনের সেরা