বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক ও আবেগগত বিকাশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ রাখার কথা ভাবছে।
ইইউর একটি বিশেষ উপদেষ্টা প্যানেল সুপারিশ করেছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে প্রমাণ করতে না পারা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা উচিত। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পেশায় চিকিৎসক উরসুলা মনে করেন, শিশুদের বয়স ও পরিপক্বতা বিবেচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনের সামনে আনা ঠিক নয়। গাড়ি চালানো বা অ্যালকোহল সেবনের মতো পরিপক্বতার প্রয়োজন হয় এমন বিষয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘শৈশব একবার চলে গেলে আর ফেরে না, তাই শিশুদের সুরক্ষায় সমাজকে এখনই বয়সসীমা নির্ধারণ করতে হবে।’ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘অন্তহীন স্ক্রলিং’-এর মতো আসক্তিকর নকশাগুলো নিয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যদিও তিনি নিজে নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমার প্রস্তাব করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের জন্য এ বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করবে। অন্যদিকে অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষায় গঠিত বিশেষ প্যানেলটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ কি না তা প্রমাণ করার দায়িত্ব কোনো অভিভাবক বা নিয়ামক সংস্থার নয়, বরং খোদ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর। যতক্ষণ তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, ততক্ষণ ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সীমিত রাখার পাশাপাশি ১৩ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও অতিরিক্ত কিছু সতর্কতামূলক বয়সসীমা নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে প্যানেলটি।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নানা কঠোর পদক্ষেপ ও বিধিনিষেধ চালু করেছে।





