• ই-পেপার

বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১০ মোবাইল ফোন

স্পেসএক্সের আইপিওতে রাতারাতি কোটিপতি হলেন হাজারো কর্মী

অনলাইন ডেস্ক
স্পেসএক্সের আইপিওতে রাতারাতি কোটিপতি হলেন হাজারো কর্মী
ছবিঃ রয়টার্স

বিশ্বের অন্যতম মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর শেয়ারবাজারে অভিষেক (আইপিও) হাজারো কর্মীর জীবন বদলে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কম্পানির শেয়ার ধরে রাখা অনেক কর্মী এখন রাতারাতি মিলিয়নিয়ার বা কোটিপতিতে পরিণত হয়েছেন। এর ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতেও দেখা যাচ্ছে নতুন এক প্রবণতা।

শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

স্পেসএক্সের ১০০-এর বেশি কর্মী একত্রিত হয়ে তাদের বিপুল সম্পদের জন্য কম খরচে আর্থিক পরামর্শ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে তারা আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চোরিও-এর সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম ফিতে তাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় সংখ্যক নতুন ধনী একসঙ্গে একই ধরনের আর্থিক সেবা গ্রহণের ঘটনা খুবই বিরল।

আর্থিক পরামর্শকদের মতে, স্পেসএক্স কর্মীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের সম্পদের বেশিরভাগই কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা। অনেকের ক্ষেত্রে মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশই স্পেসএক্সের শেয়ারে রয়েছে। ফলে বাজারে ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তবে কর্মীদের অনেকেই কম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা সহজে শেয়ার বিক্রি করতে চান না। এজন্য কর-সাশ্রয়ী বিনিয়োগ পরিকল্পনা, এস্টেট ম্যানেজমেন্ট এবং দাতব্য তহবিল গঠনের মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছেন।

পরামর্শকরা জানান, স্পেসএক্সের বেশিরভাগ কর্মী প্রকৌশলী বা প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী হওয়ায় তারা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। অনেকেই বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল যেমন চ্যাট জিপিটি বা ক্লাউড থেকে পাওয়া পরামর্শ নিয়ে আসছেন এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ধনী কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা, কর ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ সুরক্ষার কৌশল শেখা। আর সেই চাহিদা পূরণে এখন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কম্পানি।

স্পেসএক্সের আইপিও শুধু নতুন কোটিপতি তৈরি করেনি, বরং সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্পেও নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবশেষে সচল হলো ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে সচল হলো ফেসবুক
রয়টার্স ছবি

কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর সচল হয়েছে বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। শুক্রবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে।

এর আগে আজ সন্ধ্যা ৭টার পর হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে মেটার এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে বিপর্যয় দেখা দেয়। মেটার অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহারে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন লাখো ব্যবহারকারী। 

এমনকি যারা আগে থেকেই লগ ইন অবস্থায় ছিলেন, তাদের অ্যাকাউন্টও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘লগ আউট’ হয়ে যায়।

অবশেষে রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশে ফেসবুকের সেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে এই বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, কম্পিউটার (ওয়েব) কিংবা মোবাইল অ্যাপ–কোনো সংস্করণ দিয়েই ফেসবুক ব্যবহার করা যায়নি।

এদিকে ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের অনেকেও একই সমস্যার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগের তিনটি প্ল্যাটফর্মই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার মালিকানাধীন।

হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ!

অনলাইন ডেস্ক
হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ!
রয়টার্স ছবি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হঠাৎই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়।

এ সময় মোবাইল ও কম্পিউটারে একসঙ্গে ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন ব্যবহারকারীরা। প্ল্যাটফর্মটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে উইন্ডোতে ‘সরি, সামথিং ওয়েন্ট রং’ লেখা দেখা যাচ্ছে।

ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের পাশাপাশি ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। 

অনেক ব্যবহারকারী ফেসবুকে লগ ইন করতে পারেননি। লগ ইনের চেষ্টা করলে তাদের সামনে ‘This page isn't available right now’ (এই পেজটি বর্তমানে উপলব্ধ নয়) বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছিল।

এ ছাড়া বহু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের পেজ লোড হচ্ছিল না এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারও অকার্যকর হয়ে পড়ে।

তবে কখন এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি জানানো হয়নি। ফেসবুক ডাউন হওয়ার বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে এই সমস্যা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সাময়িক এই বিভ্রাটের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিরক্তি দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জন কোপল্যান্ড তার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যম টুইটারে বলেছেন, ‘আর কারো কি ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে লগ আউট হয়ে যাওয়ার পর আবার লগ ইন করতে পারছেন না? অজানা ত্রুটি।’

অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

আসক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

অনলাইন ডেস্ক
অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষেত্রে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদের অনেকেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা এবং ঘুমের অনিয়মের মতো নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এতটাই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যে, কেউ কেউ নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে গুরুতর আসক্তি তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী এক লেখায় এমনই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন এসএমভিএলসির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ পি. বার্গম্যান। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে অদৃশ্য এক ফাঁদে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। তারা মানসিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির প্রভাব : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া যোগাযোগ প্রায়ই কৃত্রিম। এখানে থাকা বিজ্ঞাপন ও ছবি অনেক সময় সম্পাদিত ও অবাস্তব হয়। অনেক তরুণ এগুলোকে বাস্তব মনে করে নিজেদের জীবন ও চেহারার সঙ্গে তুলনা করে এবং সেই মানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, যা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। তরুণদের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রভাবের জন্য মামলা করা হচ্ছে।

ঘুমের ঘাটতি : গবেষণায় দেখা যায়, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৩৪৪ বার তাদের ফোন চেক করে। এতে অনেক কিশোর-কিশোরী ঘুমের ঘাটতি হয়। ফলে তারা বিষণ্নতা, আত্মহত্যা প্রবণতা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, মনোযোগের সমস্যা, অস্থিরতা, মাদকাসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস সর্বোত্তম ঘুমের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ডিভাইস ব্যবহারের সুপারিশ করে।

বাস্তব জীবনে দায়িত্বে অবহেলা : অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও দায়িত্বের চেয়ে অনলাইন সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করে। বারবার নোটিফিকেশন চেক করার বাধ্যতামূলক প্রবণতা দৈনন্দিন কাজ ও কথোপকথনে বিঘ্ন ঘটায়। শিক্ষা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি শিক্ষা অর্জনে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটাতে পারে। এর কারণ হতে পারে পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সম্পর্ক : অনলাইন সম্পর্কের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বাস্তব জীবনের কথোপকথনে মনোযোগ দিতে বাধা দেয়। ফলে বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয় এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। হীনম্মন্যতার সৃষ্টি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের নিজেদের পরিচয় ও ভাবমূর্তি পরিবর্তনে উৎসাহিত করে, যার ফলে তারা নিজেদের কম যোগ্য মনে করে। তারা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে অপ্রতুল ও আকর্ষণহীন মনে করতে শুরু করে। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং তারা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে ভার্চুয়াল পরিচয়ে আশ্রয় নেয়। শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ : তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে করে। ফলে অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া, কঠোর ডায়েটিংসহ খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বাড়ছে।

আত্মবিধ্বংসী আচরণ : ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে তরুণদের মধ্যে আত্মবিধ্বংসী আচরণ বৃদ্ধি পায়। অনলাইনে বেশি সময় কাটানো তরুণদের মধ্যে আত্মক্ষতির প্রবণতা বাড়ায়।

আত্মহত্যা : ১০-২৪ বছর বয়সিদের আত্মহত্যার প্রবণতা সৃষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাইবারবুলিং, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, আত্মক্ষতি ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত কনটেন্ট দেখা, নেতিবাচক সামাজিক তুলনা, নিজের প্রতি অসততা, সামাজিক সংযোগের অভাব এবং মুড ডিসঅর্ডার। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে মুক্ত করতে অভিভাবকদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কৌশল শেখানো, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার শেখানো, নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার মতো জরুরি বিষয়গুলো দেখভাল করতে হবে। প্রয়োজনে থেরাপি বা চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তথ্যসূত্র : সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১০ মোবাইল ফোন | কালের কণ্ঠ