• ই-পেপার

সিজেপি আন্দোলন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সালমান খান

শিক্ষার্থীদের  ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পাশে থাকবেন সালমান খান

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের  ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পাশে থাকবেন সালমান খান
সংগৃহীত ছবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তিনি বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সালমান খান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরা শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক। ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুরুতর ইস্যু’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হলে মূল ইস্যু আড়ালে পড়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা।  শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এই হিংসাত্মক রূপ নেয়ায় তার খারাপ লাগার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনীতি শুরু হতেই বার্তা দিয়ে সালমান খান বলেন, এই সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার। তাই এর মধ্যে কোনও রকম রাজনীতি আসা উচিত নয়। তার মতে, এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ‘হাইজ্যাক’ করা উচিত নয় রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকার দ্রুতই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও দৃঢ় বিশ্বাস তার। 

এদিকে, নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজধানী দিল্লিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দিল্লি পুলিশের এসিপিসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের হামলার মুখে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।

1

এ ইস্যুতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও বেড়েছে। কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশনে বসেছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, গত এক দশকে দেশে অন্তত ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, সালমান খানের আগে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
 

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গিয়ে আটক, পরে মুক্ত ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গিয়ে আটক, পরে মুক্ত ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দাদার এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সেখানে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই তাকে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়েশা। এর আগে তার ভাই ও কয়েকজন বন্ধুকেও পুলিশ আটক করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৪ জন নারী পুলিশ সদস্য আয়েশাকে জোর করে ভ্যানে তুলছেন। এসময় তিনি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো উত্তর দেয়নি। একই ভিডিওতে বিনা কারণে আটক হওয়া এক যুবককেও নিজের গণিত পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাতে দেখা যায়।

আটকের পর আয়েশাকে মুম্বাইয়ের ওরলি থানায় নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ সহযোগিতাপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় আয়েশা খান বলেন, এখনো আমার হাত কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমাকে ভ্যানে তুলতে চারজন নারী পুলিশ এসেছিলেন। কিন্তু আমি জানতে চাই, কেন? আমি কি কোনো বিশৃঙ্খলা করেছি? আমি কি কোনো কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমাকে কেন আটক করা হলো? আমি তো ৫ জনের কোনো দলের মধ্যেও ছিলাম না।

সম্প্রতি ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদনজগতের অনেকেও এই বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন। তারকারা কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হচ্ছেন, আবার কেউ আয়েশা খানের মতো সরাসরি রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নীরবতায় ক্যাটরিনার ওপর অনুরাগীদের ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নীরবতায় ক্যাটরিনার ওপর অনুরাগীদের ক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, কেন অনেক জনপ্রিয় তারকা এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন না।

বিশেষ করে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের পর থেকে বলিউডের একাধিক তারকা শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তবে ক্যাটরিনা কাইফসহ খান, কাপুর, কুমার ও দেবগন পরিবারের অনেক তারকার নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

এই নীরবতার কারণেই ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর কিছু অনুরাগী। মঙ্গলবার অভিনেত্রীর একটি জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ফ্যান পেজের অ্যাডমিন ঘোষণা দেন, তারা ৭০ হাজার অনুসারী থাকা সেই পেজটি বন্ধ করে দিচ্ছেন।

ফ্যান পেজের অ্যাডমিনের ভাষ্য, ‘ভারতীয়দের পাশে দাঁড়ানোর সাহস যার নেই, তাকে আর সমর্থন করতে চাই না।’

ওই পেজের বিবৃতিতে আরো লেখা হয়, ‘ছোটবেলা থেকে আমি আপনার ভক্ত। কিন্তু আমাদের মতো ভারতীয়দের জন্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আপনি একটি কথাও বললেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আপনার নেই। আপনার খারাপ সময়ে আমরা সব সময় পাশে ছিলাম, অথচ আপনি আমাদেরই হতাশ করলেন। তাই আমি আপনাকে আনফলো করছি এবং এই ফ্যান পেজ বন্ধ করে দিচ্ছি। আপনি এর যোগ্য নন।’

এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘ফ্যানপেজের অ্যাডমিনকে সম্মান জানাই।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘খুব ভালো হয়েছে, ফ্যান পেজ বন্ধ করে দেওয়াই উচিত।’

তবে ক্যাটরিনা কাইফের অনেক অনুরাগী অভিনেত্রীর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, কোনো বিষয়ে কথা বলা বা না বলা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘আপনি যেমন গণতন্ত্রে বাস করেন, তিনিও করেন। আপনি যেমন নিজের ইচ্ছেমতো কোনো বিষয়কে সমর্থন করতে পারেন, তিনিও পারেন। তাঁর সিদ্ধান্তের জন্য যদি আপনি তাঁকে সমর্থন না-ও করেন, তা হলে সেটা আপনার অধিকার। কিন্তু এই নিয়ে কাউকে চাপ দেওয়া বা আবেগ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা ঠিক নয়। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। কী ঠিক, কী ভুল, সেটা তিনি নিজেই বুঝতে পারেন।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাবানা আজমি, অরিজিৎ সিং, নাসিরুদ্দিন শাহ, প্রীতি জিনতা, রিতেশ দেশমুখ, সোনু সুদ, সোনাক্ষী সিনহা, হৃত্বিক রোশন, সোহা আলী খান, প্রকাশ রাজ, বিশাল দাদলানী, শিল্পা রাও, অনুরাগ কাশ্যপ, মধুবন্তী বাগচী এবং ফাতিমা সানা শেখ প্রমুখ।

‘বান্ধবী’ গুঞ্জনের নেপথ্য গল্প জানালেন পূর্ণিমা

বিনোদন প্রতিবেদক
‘বান্ধবী’ গুঞ্জনের নেপথ্য গল্প জানালেন পূর্ণিমা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা পর্দার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমানভাবে আলোচনায় থাকেন। তাঁর যেকোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ পেলেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস। 

সম্প্রতি এক ভিডিওকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ‘বান্ধবী’ গুঞ্জন নিয়ে এবার মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী।

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পূর্ণিমার শেয়ার করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেই আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটিতে কয়েকজন নারীর সঙ্গে তাঁকে অত্যন্ত সাবলীল ও আনন্দঘন মুহূর্তে দেখা যায়। 

ভিডিওর ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছিলেন, ‘এই সেই আমার বান্ধবীরা’—সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন ভালোবাসার ইমোজি।

ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটদুনিয়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে খোলামেলা কথা বলেন পূর্ণিমা। 

হাসতে হাসতেই তিনি জানান, ‘না আমি দিয়েছি, আমি আর পরে আরেকটা ভিডিও দিয়েছি আমার বান্ধবীর সঙ্গে, ফটোশুট করছি এমনকি আমি তো বানাইনি, বান্ধবী বানিয়েছিলেন আপনারা।’

এ সময় একটি রিসোর্টের আতিথেয়তা ও সেখানকার রান্নার প্রতি নিজের ভালো লাগার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পূর্ণিমা বলেন, ‘আমি একটা রিসোর্টে যাই, সেখানে উনারা খুবই মজার রান্না করে, আমি খেতে পছন্দ করি, আমি কিচেনে যাই, উনারা কি কি রান্না করেন দেখতে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘তারা বসে থাকে যে আমি কখন আসব, আমি রান্নাটা দেখব। মাঝে মাঝে আমি একটু বলি যে আমি একটু শসা কাটি, একটু লেবু কাটি, বলে হ্যাঁ কাটুক, খুবই আন্তরিকভাবেই ওরা আমাকে পছন্দ করে।’

পূর্ণিমার এই ব্যাখ্যার পর ‘বান্ধবী’ গুঞ্জনের পেছনের আসল গল্প স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর ভক্তরা। অভিনেত্রীর সরল ও হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।