ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দাদার এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সেখানে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই তাকে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়েশা। এর আগে তার ভাই ও কয়েকজন বন্ধুকেও পুলিশ আটক করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৪ জন নারী পুলিশ সদস্য আয়েশাকে জোর করে ভ্যানে তুলছেন। এসময় তিনি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো উত্তর দেয়নি। একই ভিডিওতে বিনা কারণে আটক হওয়া এক যুবককেও নিজের গণিত পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাতে দেখা যায়।
আটকের পর আয়েশাকে মুম্বাইয়ের ওরলি থানায় নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ সহযোগিতাপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় আয়েশা খান বলেন, এখনো আমার হাত কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমাকে ভ্যানে তুলতে চারজন নারী পুলিশ এসেছিলেন। কিন্তু আমি জানতে চাই, কেন? আমি কি কোনো বিশৃঙ্খলা করেছি? আমি কি কোনো কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমাকে কেন আটক করা হলো? আমি তো ৫ জনের কোনো দলের মধ্যেও ছিলাম না।
সম্প্রতি ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদনজগতের অনেকেও এই বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন। তারকারা কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হচ্ছেন, আবার কেউ আয়েশা খানের মতো সরাসরি রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।




