kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রে অনবদ্য ফারহান

বিনোদন প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০২২ ১৪:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রে অনবদ্য ফারহান

মুশফিক আর ফারহান

সাম্প্রতিক সময়ে বৈচিত্র্যময় অভিনয় দিয়ে নাট্যাঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন যে কজন অভিনেতা, তাদের মধ্যে মুশফিক আর ফারহান অন্যতম। ছোট পর্দায় তিনি নিয়মিত। বিভিন্ন টেলিভিশনে এবার ঈদেও ফারহান অভিনীত সাত নাটক প্রচার হয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশনে। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরম ইউটিউবে সেসব আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ঈদের নাটকে সুইপারম্যান নাটকে অভিনয় করে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছিলেন। কেননা ম্যানহোলে সত্যিকার অর্থে ডুব দিয়ে ওঠা এটা তো সহজ কথা নয়। সে কাজটিই করেছিলেন মুশফিক আর ফারহান। ওই চরিত্র ফারহানের ওপর আলো ফেলে।  

সুইপারম্যান নাটকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ফারহান বলেন, ভাই ঢাকায় যারা বসবাস করে তারা কেউ কেউ ম্যানহোলে পড়ে। যারা ম্যানহোলে পড়ে তারা বোঝে ব্যথা কী জিনিস। আর যারা ম্যানহোলে ডুব দেয়? তাদের অবস্থা কী চিন্তা করতে পারেন? ম্যানহোলে ডুব দেওয়ার পর শরীরের ব্যথায় আমি সাত দিন ঘুমাতে পারিনি। আমরা যারা একটু ভালো থাকি তারা ওই সব মানুষের পরিশ্রম নিয়ে ভাবতে চাই না। সুইপার শ্রেণির মানুষদের কষ্ট আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।   

হাঙর নাটকের একটি দৃশ্য

একই সময়ে লেগুনার চালক হিসেবে হাজির হন। এই চরিত্রও ফারহানকে আলোচনায় রাখে। বাকপ্রতিবন্ধী প্রেমিক হিসেবেও অনন্য অভিনয় করেছেন। শুধু নিরীক্ষণধর্মী কাজই নয়। লালাই নাটকের অভিনয় দর্শকদের কাঁদিয়েছে। লালাই নাটকে মুশফিক আর ফারহানের কান্না দর্শকদের অনেক দিন মনে থাকবে।

এক নাটকে ফারহান একজন নিরেট প্রেমিক। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেন, পছন্দ করেন কেয়া পায়েলকে। একপর্যায়ে বিয়েও করে ফেলেন। আর অন্য ভূমিকায় তিনি ভয়ানক সন্ত্রাসী। যার হিংস্রতা পিশাচের মতো।

চরিত্রনির্ভর অভিনয়ে ফারহান নির্মাতাদের কাছে পাচ্ছেন প্রায়োরিটি। যার ফলে এবারের ঈদের নাটকে শিহাব শাহীন ডেকে নিলেন তাঁকে। করলেন 'কোলাহলের বাইরে' নামের একটি নাটক। যে নাটক সম্পর্কে শিহাব শাহীনের মন্তব্য ছিল, ‘নাটকের গল্পটা অনেক দিন ধরে মাথায় নিয়ে ঘুরছিলাম। এর মুখ্য চরিত্রে এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানকে নিয়েছি। মনে হলো সে এটার জন্য পারফেক্ট। ’

তাঁর নাটক মানেই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। কিন্তু তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন বলেই জানালেন। এবারের ঈদে 'কোলাহলের বাইরে' নামে একটি নাটক করেছেন। শিহাব শাহীনের রচনায় এই নাটকে অভিনয় করে বেশ তৃপ্ত ছিলেন। সে কথা জানিয়েছিলেন রমজানেই।

ফারহান বলেছেন, ‘এবারের নাটকগুলোতে ছিল গল্প ও আমার চরিত্রের মধ্যে ভিন্নতা। লোকেশনে বৈচিত্র্য ছিল। প্রতিটি কাজ সময় নিয়ে খুব যত্নসহকারে করার চেষ্টা করেছি। যে সাত নাটক করেছি, কোনোটাই আরামদায়ক কাজ ছিল না। প্রত্যেকটা কাজই কষ্ট করে করতে হয়েছে। চরিত্র নিয়ে গবেষণা করেছি। বিহাইন্ড দ্য স্টোরি ছিল খুবই প্যাথেটিক। ’

সুইপারম্যান নাটকে

ফারহানের ‘হাঙর’ নাটকের শুট হয়েছে কক্সবাজার। এই নাটক করতে গিয়ে আমার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হলো। সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে হবে। বেলাভূমি থেকে অনেকটা ভেতরে সমুদ্রে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি যখন, তখন বুকটা কেঁপে উঠল। এত ভয় আমি পাইনি। শুধু পানি আর পানি। দূরে ক্ষুদ্রভাবে পাড় দেখা যাচ্ছে, ইউনিট দেখা যাচ্ছে কিন্তু...  যাহোক, কাজটা করেছি। পরে রোদে কাজ করতে গিয়ে শরীর পুড়ে গেছে, সেটা এখনো রিকভার হয়নি। আমাকে ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি নিয়েছি। তার মানে এই নয় যে আমি ঝুঁকি নিতেই ভালোবাসি, অভিনয়ের জন্য, চরিত্রের মধ্যে নিজেকে প্রোথিত করার জন্য যে যে মনোযোগ, যে কার্য দরকার, সেটা আমি যেকোনো মূল্যেই করব।

ফারহান আরো যুক্ত করেছেন, “ঈদের ‘ভুলনা আমায়’র শুটিং হয়েছে বাগেরহাটে। একেবারে ধানক্ষেতের ভেতর একটা শট ছিল। মারা যাওয়ার পর যেখানে আমাকে রেখে যায়। ধানক্ষেতের পাশে কাদার মধ্যে শুয়ে থাকতে হয়েছে। ‘নসিব’-এ পুতুলের ড্রেস পরে ডান্স করতে হয়। ওই সময় প্রচুর রোদ ছিল। প্রচুর গরমের মধ্যে ওই ড্রেস পরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা শট দিয়ে গিয়েছি। ”

ঈদের এই সাত নাটকে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, তাতে বেশ সন্তুষ্ট তিনি, ‘সব মিলিয়ে যে পরিবেশটা আমরা ফেস করেছি, সেটা রেগুলার, এগুলোতে ইউজড টু না। অনেক কষ্ট হয়েছে। হার্ডওয়ার্ক করতে হয়েছে। কষ্টটাকে কষ্ট মনে হয়নি, যখন কাজগুলেকে দর্শক ভালোবেসেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে যখন ফিডব্যাক পেয়েছি। এটাই বড় পাওয়া। সেই অর্থে বড় কোনো শিল্পী নই আমি, তবুও সমর্থন পাচ্ছি। এটা বেশ ভালো লাগার। '



সাতদিনের সেরা