গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের সমাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নের সাথে জড়িত। অথচ বিদ্যমান আইনি ও নীতিমালার দুর্বলতা এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় গৃহকর্মী শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় শিশুশ্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন তারা। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তৃতা করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন কর্মসূচির ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন, এএসডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউকেএম ফারহানা সুলতানা ও এএসডির কোঅর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমান প্রমুখ।
সংলাপে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন, শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পেনাল কোডসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুশ্রম নিরসনে শিশুদের জন্য ঝূঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায়ও গৃহকর্মীর কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির আলোকে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার বলেন, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষায় মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এই সেক্টরে কর্মরত সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন সবার সচেতনতা। জনগণ সচেতন হলেই আমাদের উদ্যোগ সফল হবে। সংলাপের মাধ্যমে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এম এ করিম বলেন, শিশুরা তাদের আনন্দের শৈশব হারিয়ে ফেলছে, কাজে নিয়োজিত হয়ে। গৃহকর্মীর কাজকে এখনো শিশুদের জন্য ঝূঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০০৭ সালের পর গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হবে। কিন্তু আমরা তা পারিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।










