• ই-পেপার

১৭ বছর ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি : পানিসম্পদমন্ত্রী

ত্রিমুখী চাপে বেকায়দায় জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
ত্রিমুখী চাপে বেকায়দায় জামায়াত

ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু নতুন এ রাজনৈতিক উচ্চতায় ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কে বেকায়দায় পড়েছে দলটি। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ভিডিওকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েন—এ তিন ইস্যু এখন একসঙ্গে চাপ তৈরি করেছে জামায়াতের ওপর। 

আগামীর সময় এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জনআকাঙ্ক্ষা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জনপর্যবেক্ষণও। ফলে আগে যেসব ঘটনা সীমিত পরিসরে থাকত, এখন সেগুলো বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে সংসদকেন্দ্রিক বিরোধী দলের ভূমিকায় এসে নতুন বাস্তবতার চাপ সামলানোর পরীক্ষায় পড়েছে জামায়াত।

সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। আদর্শিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দ্রুতই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জামায়াতের রাজনীতিতে নারী-সম্পর্কিত এমন বড় বিতর্কে কোনো নেতার নাম প্রকাশ্যে আসার ঘটনা এটিই প্রথম। দলীয় সূত্র বলছে, ঘটনাটিকে শুধু ব্যক্তিগত বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; এর আইনগত, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও মূল্যায়ন করছে নেতৃত্ব।

এর আগে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে সব সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় সরকারি অনুদান, ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ), ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) কিংবা তাদের স্বজনদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়েও সরকারি বরাদ্দে অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংসদের বাইরেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে জোট রাজনীতিতে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমিভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা শুরুর পর ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে খেলাফত মজলিস। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আরও কয়েকটি দলের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জামায়াতের নেতাদের একটি অংশের দাবি, তাদের নেতৃত্বাধীন জোটকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই কওমি ধারার দলগুলোকে আলাদা করার চেষ্টা চলছে।

দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন হলেও ধারাবাহিকভাবে এমন বিতর্ক তৈরি হলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দলের নৈতিক ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—জনপ্রতিনিধি বা নেতাদের কোনো আচরণ যেন দলের আদর্শ ও জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে। তিনি বলেন, ‘ভেরি কেয়ারফুল। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই।’ একই সঙ্গে তিনি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ‘সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে তা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।’

জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। অন্য দলের ক্ষেত্রে যেটি ছোট ঘটনা, আমাদের ক্ষেত্রে সেটিই বড় বিতর্ক হয়ে যায়। কিছু ঘটনায় আমরা বিব্রত হয়েছি। বিশেষ করে গাজী নজরুলের ঘটনাটি দলের জন্য বড় ইমেজ সংকট তৈরি করেছে।’

দলটির নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রাজনৈতিকভাবে দলের জন্য অস্বস্তিকর। জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্ক এড়াতে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াত প্রথমবারের মতো বড় সংসদীয় শক্তি হয়েছে। ফলে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন জনপর্যবেক্ষণে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই এখন দলটিকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

রাশেদ খাঁন

হাসনাত-সারজিস গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেঈমানি করার কারণে ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেননি

অনলাইন ডেস্ক
হাসনাত-সারজিস গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেঈমানি করার কারণে ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেননি
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছিলেন। আর এ কারণেই তারা ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেননি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘জুলাই মাসে আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার ও শহীদদের স্মৃতিচারণা করার জন্য জুলাই পদযাত্রা নামক কর্মসূচি হাতে নেয় এনসিপি। কিন্তু তাদের নেতাদের মুখে আওয়ামী লীগের বিচারের বক্তব্য শোনা যায় না, তারা সারাক্ষণ বিএনপির পতন বা বিএনপির বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের হুমকি দিচ্ছে।’

তিনি আরো দাবি করেন, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের একটি অডিও থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ওই অডিওর বরাত দিয়ে রাশেদ খান বলেন, সেখানে এমন বক্তব্য রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় হাসনাত ও সারজিস আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছিলেন।

রাশেদ খানের ভাষ্য, ৭ আগস্ট রাতে একজন ছাত্র উপদেষ্টা তাকে বলেছিলেন, ‘হাসনাত-সারজিস জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে।’ সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই তিনি দাবি করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেঈমানি করার কারণেই তারা ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ পাননি। তবে তাদের পেছনে থেকেও আসিফ মাহমুদ ছাত্র উপদেষ্টা হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ এবং আহতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এর অংশ হিসেবে ২৮ জুলাই ও ২৯ জুলাই, মঙ্গলবার ও বুধবার, জুলাই-আগস্টের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্বে সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর, উপজেলা, কলেজ ও পৌর ইউনিটের নেতারা শহীদদের কবর জিয়ারত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেবেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ এবং আহতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক : রিজভী
ফাইল ছবি

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ কেবল কোনো একক রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষের যে সাহস ও সংহতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করেছে জাতীয় স্বার্থ মুখ্য হলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। এই সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, সংবিধান সংশোধন বা পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেও দেখা যায় কোনো এক ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটে। তখন শুধু কাগজে লেখা আইন সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তীব্র আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দেন। তাই মূল বিষয়টি কোনো আইনি বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মতাদর্শগত আলোচনা-সমালোচনা বা তর্ক থাকলেও রাজনীতিকদের একটি ‘কমন পয়েন্টে’ আসতেই হবে। সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সে দিকটা মাথায় রেখে কাজ করা জরুরি। মানসিকতার এই পরিবর্তন না হলে সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

একটি জাতির ভিত্তির বিষয়ে রিজভী বলেন, শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর। জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়, এটি আত্মপরিচয়ের ভিত্তি ও নৈতিক চেতনার উৎস। ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধু স্মরণ নয়, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা।’

ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সাফল্য অর্জনে ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং বুকে একটি আদর্শিক বোধ থাকলে সাফল্য আসবেই।

অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারো করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।