বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি ভাষা ব্যবহার করা হয়। তবে একসময় পৃথিবীতে ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত ছিল। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ। এতে গত ১২ হাজার বছরের ভাষার ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা গণিত, ভাষাবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব এবং জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করে ভাষার সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সর্বশেষ বরফ যুগের শেষের দিকে, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে, পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা কম ছিল। তারা ছোট ছোট যাযাবর দলে বসবাস করত। তখন পৃথিবীতে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ২০০টি ভাষা ছিল।
পরে মানুষ কৃষিকাজ শুরু করে। স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে। জনসংখ্যাও বাড়তে থাকে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন ছোট জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে নতুন ভাষারও জন্ম হয়। একসময় পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজারের বেশি হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, এ সময়টিই ছিল ভাষার স্বর্ণযুগ।
কিন্তু পরে বড় বড় সাম্রাজ্যের বিস্তার শুরু হয়। এরপর ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় স্থানীয় মানুষকে নিজেদের ভাষা ছেড়ে শাসকদের ভাষা ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। ফলে ধীরে ধীরে হাজারো ভাষা হারিয়ে যেতে থাকে।
গবেষকদের ভাষ্য, কোনো ভাষা হারিয়ে গেলে শুধু একটি ভাষাই হারায় না। হারিয়ে যায় সেই ভাষাভাষী মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং বহু প্রজন্মের জ্ঞান।
গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর বহু প্রাচীন ভাষা আজ আর নেই। সুমেরীয়, আক্কাদীয়, হিট্টাইট ও এট্রুস্কান ভাষা এর উদাহরণ। আবার কিছু ভাষা সময়ের সঙ্গে বদলে নতুন ভাষায় রূপ নিয়েছে। যেমন, লাতিন ভাষা থেকে ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষার জন্ম হয়েছে।
ইতিহাসে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীও ভাষা দমনের চেষ্টা করেছে। ইংল্যান্ড আয়ারল্যান্ডে আইরিশ ভাষা ব্যবহারে বাধা দেয়। স্পেন আমেরিকার আদিবাসীদের ভাষা নিষিদ্ধ করে। পর্তুগাল ব্রাজিলে স্থানীয় ভাষা দমন করে। ফ্রান্স আফ্রিকার উপনিবেশগুলোতে ফরাসি ভাষা চাপিয়ে দেয়। জাপানও কোরিয়ায় কোরীয় ভাষা দমনের চেষ্টা করেছিল। তবে ইনকা, মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার কিছু ভাষা এসব বাধা পেরিয়েও টিকে আছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক ভাষাই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। আর বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ মাত্র ১০ শতাংশ ভাষায় কথা বলে। ফলে ছোট ছোট অনেক ভাষা ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।






