• ই-পেপার

টিএমজিবি সদস্যদের সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পেটে ৭ মাসের সন্তান, ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে লংমার্চে অসহায় মা

তারেক রহমান
পেটে ৭ মাসের সন্তান, ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে লংমার্চে অসহায় মা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্যান্সার আক্রান্ত ১৫ বছরের ছেলেকে বাঁচাতে গর্ভে থাকা ৭ মাসের সন্তানকে নিয়ে লংমার্চে নেমেছেন মা মোসাম্মদ সুলতানা মিদু। পাবনা থেকে তিনি এসেছেন এই অনুভূতিহীন, স্বার্থপর নগরী ঢাকায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অপরিচিত আর উত্তপ্ত রাজধানীর রাজপথে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তিনি পৌঁছেছেন সচিবালয়ের সামনে।

উনার লড়াইটা কেবল আমানতের জন্য নয়, উনার এই লড়াই আজ দুটি সন্তানের জীবনের জন্য! কিন্তু ব্যাংকে রাখা নিজের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে গিয়েও উনাকে শুনতে হচ্ছে নির্মম বাক্য ‘মানুষ তো মরণশীল, মানুষ তো মরবেই!’

ভুক্তভোগী মা মোসাম্মদ সুলতানা মিদু বলেন, ব্যাংক থেকে বলছে, আপনার ছেলের মৃত্যু হলে আমার কিছু করার নেই। মৃত্যু সবার আছে। সেটার অডিও, ভিডিও রেকর্ড সব আমার কাছে আছে। তাহলে এ বৈষম্য কেন? আমার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকতে কেন আমি এটা করব? আমার ছেলেকে আমি জিন্দা দাফন কেন দেবো?

যে বয়সে ১৫ বছরের ছেলেটার মাঠে খেলাধুলো করার কথা, সেই বয়সে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। নাক-মুখ দিয়ে ঝরছে রক্ত। একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে ভিটেমাটি বিক্রি করেছেন। শেষ সম্বল ছিল ব্যাংকে রাখা কষ্টার্জিত ১২ লাখ টাকা।

পেটে ৭ মাসের সন্তান থাকায় নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী মা বলেন, আমার হাঁটার অবস্থা দেখে আপনারা বুঝছেন, আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। কেন? কেন এ বৈষম্য? আমার ছেলে মারা গেলে কেন কারো দায় থাকবে না? আমার ছেলের জীবন কি জীবন না? মাত্র ১৫ বছর, আমার ছেলের বয়স মাত্র ১৫ বছর!

কিন্তু টানা ৮ মাস ধরে ব্যাংকের দরজায় ঘুরে ঘুরে খালি হাতে ফিরে, আজ ক্লান্ত এই মা ঢাকার রাজপথে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

মিদু বলেন, ১৫ বছরের একটা নাবালক সন্তান। তার মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা আছে। আমি আমার যা ছিল সোনা-দানা, জমি-জমা- আল্লাহ আমাকে যতটুকু দিয়েছিল, আমার ছেলের পেছনে দিয়ে দিয়েছি। শুধু ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে পা ধরিনি। বিবেকে বাঁধে। 

আমানতের ওপর আরোপিত ‘হেয়ারকাট’ ব্যবস্থা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাতিল করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের অধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা এই লংমার্চের আয়োজন করেন। সেই লংমার্চে রাজপথে নামা এই অসহায় মা উনার বুকের হাহাকার ও কান্না পৌঁছে দিতে চান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

সবার সহযোগিতা চেয়ে মোসাম্মদ সুলতানা মিদু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তো একজন বাবা। উনার কাছে আমার এই ফরিয়াদটা পোঁছিয়ে দেন, আর কোনোকিছু করেন, আর না করেন। আমি চাই আমার ছেলে সুস্থ্যভাবে বেঁচে উঠুক।

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর সবুজবাগে মো. পলাশ (৩৬) নামে বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে রাত ৮টার দিকে রাজারবাগ বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি।

নিহত পলাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজারবাগ বাজারে পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে পলাশের ওপর হামলা চালায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। এসময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ছাড়া বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএমপির অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬২ জন গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সেলিম মিয়া (৩২), মো. সজীব ওরফে মাসুম (৩৪), মোছা. কাকলী আক্তার (৩২), মাহফুজা আক্তার ওরফে সাথী ওরফে আয়না (২৬), রুবীনা আক্তার (২১), মো. জহুরুল (৩০), মোহাম্মদ দিদারুল আলম (৩১), মো. জাকিরুল ইসলাম (২৯), জুয়েল ইসলাম (২০), মো. আনোয়ার হোসেন (২৬), মো. রিপন হোসেন (৪০), মো. শুভ (১৮), মো. সাব্বির হোসেন (২৫), মো. সজীব (১৮), মো. শান্ত (১৯) ,মেহেদী হাসান (১৮), হাবিবুল্লাহ (৪০), মো. মাসুদ রানা (৩২), মো. আকতার হোসেন (৪২), মো. জাহাঙ্গীর, মো. মুক্তার হোসেন সিয়াম (১৯), মো. মাসুম কবির (২২), মো. মোশারফ (২০), মো. মনির হোসেন (১৯), মো. আরিফ (২৬), ইসমাইল (২৬), রাকিব সরদার (২২), মো. ফজলে রাব্বি (২২), মো. ইমরান হোসেন (৩৬), মো. আবুল হোসেন রনি ওরফে কোম্পানী রনি ওরফে বাবু রনি (৩৪), মো. আসিফ (২১), মো. রায়হান (২৬), হায়দার আলী (৪০), মো. সাইদুল ইসলাম (৫১), মো. ওমর ফারুক (২৯)।

এ ছাড়া রয়েছেন, মো. মেহরাব হোসেন হাসিব (২৩), মো. রবিন হোসেন (২৫), মো. সোহান হাসান (২২), মো. জিহাদ আলী (২০), মো. নাহিদ হাসান (১৯), মো. নুরনবী (৩৮), প্লাবন হোসেন সাগর (২৩), মো. রায়হান রহমান (২৪), মো. শাহাদাত হোসেন (২৫), মো. মনোয়ার হোসেন (৩৬), মো. মিজানুর রহমান (৩৮), মো. মুজিব ব্যাপারী (৪০), মো. সামিরুল (৩৮), মো. ডালিম (২৭), মো. পারভেজ আলী (২৮), মো. শামীম ফকির (২২), মো. তানিম (২২), মো. খলিল আকন্দ (৪০), মো. হুমায়ুন কবির (৪০), মো. ওমর ফারুক দিপু (২২), মো. সুমন (২৬), মো. রোমান (২৭), মো. রাকিব হোসেন (২৯), সাইদুল ইসলাম (২০), লিটন বেপারী (৩২), মো. রাসেল (১৮) ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত একজন শিশু।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা ৯ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ৯ জন, মোহাম্মদপুর থানা ১৫ জন, আদাবর থানা ৭ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ১০ জন ও হাতিরঝিল থানা ১২ জন।

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৩৮৬ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৩৮৬ মামলা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। 

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৪টি বাস, ২টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ৪টি সিএনজি ও ১২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৯টি মামলা করা হয়।

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৩টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১টি কাভার্ড ভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৪১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯৪টি মামলা করা হয়।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৩৫টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ড ভ্যান, ৮২টি সিএনজি ও ১০৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৯টি মামলা হয়।

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৩টি বাস, ১৭টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ড ভ্যান, ২০টি সিএনজি ও ৩৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৬টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৬টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৮০টি মামলা হয়।

ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৮টি বাস, ১০টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ড ভ্যান, ১২টি সিএনজি, ৪৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৩টি মামলা হয়।

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৯টি বাস, ৭টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ড ভ্যান, ৩০টি সিএনজি ও ৫২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৪টি মামলা করা হয়।

ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২০টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৮টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫১টি মামলা হয়েছে। 

এ ছাড়া অভিযানকালে মোট ৩৯৪টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৩১৪টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টিএমজিবি সদস্যদের সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ | কালের কণ্ঠ