• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত আটক

নান্দাইলে বাসচাপায় প্রাণ গেল অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে বাসচাপায় প্রাণ গেল অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে বাসায় ফেরার পথে বাসচাপায় মো. আতিকুর রহমান মতিন (৭০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। চাকরি জীবনে তিনি নান্দাইল পৌর সদরের সমূর্থজাহান মহিলা কলেজের পাশে জমি কিনে বাসা তৈরি করেন। অবসরের পর থেকে তিনি সপরিবারে শহরের ওই বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে আতিকুর রহমান মতিন পৌর সদরের বাসা থেকে বের হয়ে পাশেই অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান বিল পরিশোধ করতে। বিল পরিশোধ শেষে মহাসড়ক পার হয়ে বাসায় ফেরার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ময়মনসিংহ থেকে ভৈরবগামী ‘শ্যামল ছায়া’ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে বাসের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

নান্দাইল হাইওয়ে থানার ওসি জীবন কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ‘শ্যামল ছায়া’ বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামে ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চর ফুলবাড়ী এলাকায় লোকালয়ের পাশে সাপটি দেখা গেলে এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে সাপটি দেখতে পেয়ে তারা বন বিভাগকে খবর দেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকেই সাপটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এ এলাকায় এর আগে এত বড় অজগর দেখা যায়নি। প্রায় ১০ ফুট লম্বা সাপটি দেখে শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাপটিকে রংপুর চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হবে। অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এ ধরনের সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।’

সোহান হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সোহান হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড রায় হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আওয়াবিন মিয়া উপস্থিত থাকলেও সাগর পলাতক রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহান সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। সে ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পাশাপাশি হ্যলোবাইক চালাত।
 
২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালো বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহান। দুপুরে খাবারের সময় বাড়িতে না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। তবে পরে আবার ফোন করলে সেটি আর রিসিভ করেননি।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সিংগাইর উপজেলার, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। তদন্তে উঠে আসে, হ্যালো বাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

প্রত্যেককে ১টি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রত্যেককে ১টি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদেরও পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

‎মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদী উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচার মন্ত্রী কথাগুলো বলেন। এসময় খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি মাঠমুখী হতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়, আর বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে দক্ষ, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব।’

এদিকে, বরিশালের গৌরনদীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী তিনটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

গৌরনদী উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয় ওই অনুষ্ঠানগুলোতে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম। উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক (কোস্টাল সার্কেল, বরিশাল) ড. মোল্লা রেজাউল করিম।